04/08/2025
টাইটানিক যখন ডুবতে বসেছিল, তখন কাছাকাছি তিনটে জাহাজ ছিল।
একটির নাম ছিল স্যাম্পসন। মাত্র ৭ মাইল দূরে ছিল এর অবস্থান, বেআইনিভাবে সিল মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিল জাহাজটি। তারা দেখতে পেয়েছিল টাইটানিকের বিপদ সংকেত, কিন্তু উল্টোদিকে জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে দূরে চলে যায়।
এই জাহাজটির কথা একবার ভাবুন। দেখবেন আপনার আশেপাশের অনেকের সাথেই মিল আছে এর! এরা শুধু স্বার্থপরের মতো নিজের কথাই ভাবে। অন্যের জীবন কি ঘটল তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই তাদের।
দ্বিতীয় জাহাজটির নাম ক্যালিফোর্নিয়ান, মাত্র চৌদ্দ মাইল দূরে ছিল টাইটানিকের থেকে সেই সময়। ওই জাহাজের চারপাশে ছিল জমাট বরফ। ক্যাপ্টেন দেখেছিলেন টাইটানিকের বাঁচতে চাওয়ার আকুতি। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল নয় এই অজুহাতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ঘুমাতে যাবেন। সকালে দেখবেন কিছু করা যায় কিনা। জাহাজটির অন্যসব নাবিকরা নিজেদের মনকে প্রবোধ দিয়েছিল এই বলে যে ব্যাপারটা এতটা গুরুতর নয়।
এই জাহাজটিও অনেকের মনের কথা বলে! কেউ বিপদে পড়লে অনেকেই মনে করে ঠিক সেই মুহূর্তে সাহায্য করতে যাওয়া বোকামি, পরিস্থিতি অনুকূল হলে দেখা যাবে। আসলে দায়িত্ব এড়ানোর জন্য কোনো না কোনো অজুহাত খোঁজ এরা।
শেষ জাহাজটির নাম ছিল কারপাথিয়ান্স। এই জাহাজ যাচ্ছিল উল্টোদিকে, ছিল প্রায় আটান্ন মাইল দূরে। সেই মুহূর্তে তারা রেডিওতে শুনতে পায় টাইটানিকের যাত্রীদের আর্তচিৎকার।
জাহাজের ক্যাপ্টেন হাঁটুমুড়ে বসে পড়েন ডেকের ওপর। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন যাতে তিনি সঠিক পথ দেখান তাঁদের। তারপর নাবিকদের নিয়ে সর্বশক্তিতে বরফ ভেঙ্গে এগিয়ে চলেন টাইটানিকের দিকে। জাহাজটির এই সিদ্ধান্তের জন্যই টাইটানিকের ৭০৫ যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।
১০০০ কারণ থাকবে আপনার কাছে দায়িত্ব এড়াবার জন্য, কিন্তু তারাই প্রকৃত মানুষ যারা অন্যের বিপদের সময় কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতিহাস হয়তো মনে রাখে না তাদের, কিন্ত যুগে যুগে তারা বন্দিত হয় খেটে খাওয়া মানুষের মুখে মুখে বলা লোকগাঁথায়!