24/08/2026
রংপুরে সপরিবারে যেই মেয়েটাকে মেরে ফেলা হয়েছে কদিন পরই সেই মেয়েটার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
কয়েকদিন আগে মেয়েটা তার হবু হাসবেন্ডের সাথে দেখাও করেছিল। সে কখনো ছবি তুলতে চাইতো না। কিন্তু সেদিন নিজ থেকেই বলেছিল- তোমার সাথে একটাও ছবি নাই, চলো আজকে একটা কাপল পিক তুলি।
তারপর হাসি হাসি মুখ করে ছবি তুলেছিল।
মেয়েটা একটু একটু করে বিয়ের শপিং করছিল, বাজার করছিল, মনে মনে নতুন একটা সংসারের স্বপ্নও দেখছিল কিন্তু সেসব কিছুই আর হয়নি। তার আগেই গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে তাকে।
শুধু তাকেই মারেনি, তার বাবা-মা এবং ছোট্ট ভাইটাকেও মেরে ফেলা হয়েছে। মারার পর তাদের মুখে এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছিল যাতে লা*শগুলো তাড়াতাড়ি পচে যায়। আর সবশেষে সিঁড়ির গোড়ায় ফেলে রেখে গেছে।
মৃত্যুর আগে বেশকিছু জিনিস অর্ডার করেছিল মেয়েটা।
সে জানতো না তাদেরকে এভাবে মেরে ফেলা হবে।
হয়তো বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যেই অর্ডার করেছিল। অর্ডার করার পর পার্সেলের জন্যেও অপেক্ষা করেছিল হয়তো।
আজকে সেই প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে এসে ডেলিভারি ম্যান দেখে বাসার সবাইকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তাই পার্সেল দিতে না পেরে নোট লিখে দিয়েছে- কাস্টমার সপরিবারে নিহত হয়েছে। ডেলিভারি ম্যানও হয়তো ভাবতে পারেনি এমনটা ঘটবে।
অনেক আদুরে বলে মেয়েটর বিয়ে জাঁকজমকভাবেই হোক সেটাই চেয়েছিল সবাই। মধ্যবিত্ত স্কুল মাস্টার বাবা তার সঞ্চয়ের কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন আদরের মেয়েটার বিয়েতে খরচ করবেন কিন্তু সেটাও আর হয়নি।
মেয়েটা স্বপ্ন দেখেছিল বিয়েতে নতুন বউ হিসেবে সাজবে, আনন্দ করবে, তার নতুন একটা সংসার হবে। ছুঁতে না পারা এই পার্সেলের মতো আরও অনেককিছুরই শখ করে রেখেছিল সে।
কিন্তু সেসব স্বপ্ন গামছায় প্যাঁচানো শ্বাসরোধের সাথে সাথেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এভাবে নির্মমভাবে যে মৃত্যু হবে, সবকিছু ধূলিসাৎ হবে সে নিজেও ভাবতে পারেনি।
ছোটবেলায় বাবা-মা আদর করে তার নাম রেখেছিল আগামী- মানে যার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। অথচ নিজের ভবিষ্যতের সুখকর দিনগুলোই দেখে যেতে পারলো না মেয়েটা।
পরিবার নিয়ে, নতুন সংসার নিয়ে না জানি আরও কত কত স্বপ্ন ছিল মেয়েটার কিন্তু একবুক যন্ত্রণা সহ্য করে চলে গেছে পরপারে। আমরা প্রতিনিয়ত কতশত পরিকল্পনা করি অথচ জীবন কত অনিশ্চিত তাইনা
- Ibrahim Khalil Shawon