01/11/2025
২০২৩ সালের অক্টোবর মাস । শ্রী'র যাত্রা শুরুর তখন সবেমাত্র ১ বছর হল! সে বছর দূর্গাপুজার পরে অনেকেই নক করছিলেন মাটির প্রদীপ আছে কী না!
আমার ওই মুহূর্তে কোনো ইচ্ছা ছিল না প্রদীপ নিয়ে কাজ করার, আসল কথা হচ্ছে আইডিয়াও ছিল না । হুট করে মনে হল, ২/৩ জন যখন খোঁজ করছে, আনাব কিনা অল্প করে। যেহেতু আমার পেইজে ম্যাটেরিয়াল সেল করি না তাই ভাবলাম প্রদীপ আনলে রঙ দিয়ে সেল করা যাবে। এতে অন্তত আমার হাতের ছোঁয়া থাকবে। তো, বর গেল দোকানে প্রদীপ কিনতে, আমাকে ছবি তুলে তুলে পাঠাচ্ছে কিছু সিঙ্গেল প্রদীপের। আমি কয়েকটা ডিজাইন সিলেক্ট করে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ সে একটা ছবি দিয়ে বলল দেখো তো এই বড় প্রদীপটাতে কি কাজ করতে পারবা? আমি ছবিটা দেখে তো থ! এতো সুন্দর প্রদীপ আমি আগে কখনোই দেখিনি! আমি বললাম কাজ করতে পারব কিনা জানি না। তবে ৫ পিস আনো আমি আমার মত করে রঙ করব, সেল না হলে সমস্যা নেই, আমরা জ্বালিয়ে ফেলব।
এবার আসি রঙে। একেতো রঙ নিয়ে আমার কোনো আইডিয়া নেই তারউপর রঙ ছিল বাসায় ছোট কিছু কৌটায়। আর সাথে একদম চিকন তুলি। বুঝেই উঠতে পারছিলাম না যে কী দিয়ে কী করব! সিঙ্গেল প্রদীপগুলো একটু আধটু রাঙানো শুরু করলাম। কালীপূজার তখন ১০ দিন বাকি, সেই বড় প্রদীপ আমি রঙ করার সময়ই পাচ্ছিলাম না। তো, যাই হোক মাথায় আসলো "বেনীআসহকলা" অর্থাৎ রঙধনুর সাত রঙ। আমি আমার মত করে ১৪ প্রদীপটি রঙ করলাম। ছবি তুলে পেইজে পোস্ট দিলাম। মুহূর্তের মধ্যে ১,২ করতে করতে 4k রিয়্যাক্ট। আর হাজারো কমেন্ট আর মেসেজের বন্যা। আমি কমেন্ট নাকি মেসেজ রিপ্লাই করব নাকি রঙ করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এতোটা সাড়া পাব ধারণার বাইরে ছিল! সবাই ভেবেছিল আমি ওই পোস্টটা বুস্ট করেছি, কিন্তু না! অর্গানিকভাবেই হচ্ছিল সবকিছু...
সেবার আরও ২০ পিস স্টক করতে পেরেছিলাম। ওগুলো সব সোল্ড আউট ছিল। কিভাবে এত অল্প সময়ে এত রঙ করেছি জানি না। বরের ভাষ্যমতে, মা কালী ভর করেছে তোমার উপর, নাহলে এভাবে সম্ভব না!
এর পর আরও দুটো কালীপূজো গেল। সেই একই রেসপন্স। সারা বছর জুড়েও অনেকে বিয়েশাদি, ডেকোরেশনের জন্য নিলেন। ১৪ প্রদীপের সাথে এখন আরও যুক্ত হয়েছে ১১ প্রদীপ, পঞ্চপ্রদীপ, সপ্তপ্রদীপ । তবে এই ১৪ প্রদীপটা আমার কাছে অন্যরকম একটা মায়া যেন!
এটা ঢাকার বাইরে পাঠানো অনেক রিস্ক। প্রথমবার তো বুঝিই নি কিভাবে দিব, অনেক কষ্ট হয়েছিল প্যাকেট করতে । ২য় বছর কাস্টমাইজড বক্স করলাম প্রদীপের মাপে। এবারও আরও ভালো করলাম প্যাকেজিং। কাজ করতে করতেই অভিজ্ঞতা বাড়ে। যেমন রঙও আগের চেয়ে এখন ভালো কোয়ালিটিরটা ইউজ করছি। আগে যে দামে এনেছিলাম প্রদীপ, এখন দাম দ্বিগুণ হয়েছে তো স্বাভাবিকভাবেই আমারও প্রাইস বাড়াতে হয়েছে ৷ তবে একটা জিনিস গত ৩ বছরে পরিবর্তন করিনি সেটা হচ্ছে এই প্রদীপের রঙের ডিজাইনটা। তাই হালকা একটু এক্সপেরিমেন্ট করে দেখলাম কেমন লাগে!
কী? আমার হাতের প্রদীপটা দেখে বুঝতে পারছেন তো চেঞ্জটা কোথায় করেছি ?
চেঞ্জ যা-ই হোক, প্রদীপ সবসময় এভেলেবল আছে পেইজে। যার যখন লাগবে নিতে পারবেন, তবে হাতে ৫/৭ দিন সময় রেখে জানাবেন যাতে আমি রঙ করে ভালোভাবে শুকিয়ে পাঠাতে পারি।
- তনুশ্রী চন্দ (Owner of শ্রী)