14/06/2025
দাম্পত্য জীবনে বাচ্চা হওয়ার পর সঙ্গীর সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করাটা ভীষণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়! সঙ্গীর বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ততা এবং একপ্রকার মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে দু'জন দুজনকে ঠিকঠাক সময় দিতে পারে না। যার কারণে বেশিরভাগ দাম্পত্য জীবন এই বাচ্চা হওয়ার পরেই কেমন একঘেয়ে হয়ে যায়!
তবে স্বামী–স্ত্রী চাইলেই নিজেদের জন্য সময় বের করে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুজনের ইচ্ছে শক্তি এবং প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
আপনি যদি সঙ্গীর সাথে একান্ত সময় কাটাতে চান, তবে অবশ্যই সঙ্গীর প্রতি আপনার আন্তরিকতা থাকতে হবে৷ সঙ্গীকে বাচ্চা সামলানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে৷ টুকটাক কাজে তাকে সাহায্য করতে হবে৷
যেমন ধরুন,
যে কাজ আপনার সঙ্গীর করতে ১ ঘন্টা লেগে যায়, সেই কাজে আপনি সহযোগিতা করলে ৩০ মিনিট সাশ্রয় হবে৷ তার মানে এই বেঁচে যাওয়া ৩০ মিনিট সময় আপনারা দু'জনে নিজেদের জন্য পেয়ে যাচ্ছেন৷ এভাবে প্রতিদিন সঙ্গীকে বাচ্চা সামলানোর কাজে সহযোগিতা করলে, তবেই তো সে আপনার সাথে একান্ত সময় অতিবাহিত করতে পারবে।
তবে এখানে মানসিক সুস্থতাও জরুরী।
সঙ্গীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে হবে৷ তার মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে৷ সাধারণত বাচ্চা হওয়ার পর নারীরা নানা ট্রমার মধ্যে থাকে৷ আর এই ট্রমা থেকে সঙ্গীকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মন ভালো থাকলেই সে সবকিছুতেই উৎসাহ পাবে।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ সঙ্গীর আগ্রহ এবং ইচ্ছে থাকলেও নারী সঙ্গী উদাসীন থাকে। এটা খুবই রেয়ার। তবে এখানে সঙ্গীর মনের আকাঙ্খার ঘাটতি আছে বলেই সে এমন করে৷ এটা তার মানসিক অশান্তির কারণেও হতে পারে কিংবা সে চায় না আপনার সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করতে।
সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন, তার কথা শুনুন।
কখনো কখনো কথাই হচ্ছে একমাত্র মন ভালো করার ওষুধ। সঙ্গীর সাথে গল্প করুন অবসরে। তাকে বাচ্চা সামলানোর ক্ষেত্রে যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, করুন। মোট কথা, দু'জন দু'জনের সঙ্গে প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে প্রচুর কথা বলুন।
বাচ্চা হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনটাকে মূলত আমরাই উপভোগ্য করে তুলতে পারি না৷ আমাদের অনাগ্রহ এবং অবহেলার কারণেই এমনটা হয়৷ যারা সঙ্গীর প্রতি আন্তরিক, সঙ্গীকে ভালোবাসে, সঙ্গীকে গুরুত্ব দেয়, তারা স্বামী স্ত্রী দু'জন মিলেই নিজেদের সময় বের করে নেয়৷ একঘেয়ে দাম্পত্য জীবন মানুষকে চরম অসুখী করে তোলে, যার ফলে মানুষ সংসার বিমুখ হয়ে পড়ে!