16/12/2024
নিঃসন্তান আমরা,বিয়ে র প্রায় ৫বছর পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন কথার বাণে জর্জরিত দেহ ও মন।আমার স্বামী কখনো হতাশ হননি, আমাকেও কিছু বলেননি কখনো।
একটি ভালো সাবজেক্টে অনার্স করছিলাম,পড়াশোনা টা বরাবরই খুব শখের ছিলো।এসএসসি র সময় বিয়ে হয় অনেক স্ট্রাগল করে পড়াশোনা টা চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ করে কারো অস্তিত্ব অনুভব করি।পূর্ণ বিশ্রাম,কতশত ট্রিটমেন্ট, বড় সাধের পড়াশোনা সব বিসর্জন। শুধু দুচোখ ভরা স্বপ্ন নতুন কাউকে নিয়ে।
রমজান মাস, অনেক কষ্টে সবগুলো সাওম পালন করছি।ডেট প্রায় নিকটে।২১শে রমজান চেকআপে যাই।হার্টবিট নেই তার,নেই মানে নেই,সব ধুলিস্মাৎ।
মৃত একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলাম। স্বামীর হাত ধরে বলছিলাম, আমায় ক্ষমা করেন,আমি আপনাকে বাবা ডাক শুনাতে পারিনি।যার জন্য সব ছাড়লাম সেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলো।
সে আমায় অবাক করে দিয়ে একটি গোল্ডের আংটি পড়িয়ে দিলো।(এটা বেবি আসলে আমায় সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য কিনেছিলেন।)বললো,সন্তান থাকুক বা না থাকুক তুমি মা হয়েছো আমিও বাবা হয়েছি।
আর কে বলেছে সব হরিয়েছো,আমাদের রব আছেন। তিনি দিয়েছেন তিনিই নিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরা তার ফায়সালা র উপর সন্তুষ্ট।
তুমি ভেঙে পড়োনা,আমি সবসময় তোমার পাশে আছি,থাকবো ইনশাআল্লাহ।
ঘটনা ২ঃ-
ধানমন্ডির স্বনামধন্য এক ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছি। উনি আমার হাতটা ধরে বসে আছেন।সব রিপোর্ট আজ হাতে এসেছে, একটা সিদ্ধান্ত দিবেন ডাক্তার।
বিয়ে র প্রায় ৯বছর।এর মধ্যে ৯মাস চলাকালীন গর্ভে একটি সন্তান মারা যায়, পরবর্তী ৩টা মিসক্যারেজ হয়েছে।
সব রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন, আপনি কোনোদিন মা হতে পারবেননা, টেস্ট টিউব পদ্ধতিতেও না।মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো,কান্নায় ভেঙে পড়লাম আমি। উনি আমার হাতটা আরো শক্ত করে ধরে রাখলেন,অনেক অনেক বুঝাতেন।সিদ্ধান্ত নিলেন আমরা উমরাহ করতে যাবো।আলহামদুলিল্লাহ দু'জনে উমরাহ করে আসলাম।
কখনো কোনদিন উনি আমাকে সন্তান হওয়া নিয়ে দুটো কথা শোনাননি,সন্তান হবেনা এটাও বিশ্বাস করেননি।সবসময় বলতো হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সময় হলে দিবেন।আমরা একসাথে অনেক অনেক দোয়া করতাম আল্লাহর কাছে।সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিলাম।
একদিন উনি অনেক বুঝালেন,শুধু সন্তান জন্ম দেয়া জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য না। এটার জন্য শুধু আমাদের দুনিয়ায় পাঠানো হয়নি।আমাদের ১০তম বিবাহবার্ষিকী র দিন তুমি খুব সুন্দর করে সাজবা,বিয়ে র শাড়িটা পড়বা।আমি পড়েছিলাম, ঘরটাও ফুল দিয়ে সাজিয়ে ছিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ তার কিছু দিন পর রমজান মাসে আল্লাহ আমাকে সুসংবাদ দেন।কোন ট্রিটমেন্ট ছাড়াই আমি কনসিভ করি।১০বছর পর্যন্ত যে আমি নিঃসন্তান ছিলাম ১২বছরে দুই সন্তানের জননী আলহামদুলিল্লাহ।
শুকরিয়া সেই রবের যিনি আমাকে সন্তান দিয়েছেন, যিনি আমাকে এই জীবনসঙ্গী দিয়েছেন।❤️❤️❤️
সুবহানাল্লাহ!! আল্লাহ তাআলা চাইলে সবকিছু সম্ভব!!
তাইতো কখনোই আল্লাহর কাছে ধৈর্য্যহারা হতে নেয়,আমাদের দ্বারা অসম্ভব হলেও আল্লাহর কাছে যে সবই সম্ভব,মন থেকে দোয়া করলে আল্লাহ সেটা নিশ্চই কবুল করেন সঠিক সময়েই,মাঝে মাঝে জীবন যেনো রূপকথার গল্পকেও হার মানায়,সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহি! 🥺
©