22/05/2026
"রাগী মানুষের মন ভালো হয়"
কথাটা খুবই বাজে একটা কথা। এবং এই জঘন্য কথা দিয়ে রাগকে গ্লোরিফাই করা বন্ধ হওয়া উচিত। রাগ ভালো কোন জিনিস না। রাগের সাথে মনের কোনো সম্পর্কও নাই। বরং রাগে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য মানুষ জানোয়ারের চেয়েও খারাপ।
এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে বললেন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, “তুমি রাগ করো না। ওই ব্যক্তি কয়েকবার তা বললেন। নবীজি (সা.) প্রতিবারই বললেন, “রাগ করো না!" [বুখারি, খণ্ড: ৮, অধ্যায়: ৭৩, হাদিস: ১৩৭]
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে কুস্তি লড়ে অন্যকে ধরাশায়ী করে। বরং সেই ব্যক্তি প্রকৃত শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।[বুখারি, হাদিস : ৬৮০৯]
এ ছাড়া নবীজি (সা.)-এর জীবন থেকে এমন অসংখ্য ঘটনা আমরা দেখতে পাই, যেগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি, যখন রাগ আমাদের গ্রাস করতে চায় কিংবা আমরা রাগান্বিত অবস্থায় থাকি, তখন আমাদের কী করা উচিত।
‘যখন তোমাদের কারো রাগ হয় তখন সে যদি দাঁড়ানো থাকে, তবে যেন বসে পড়ে। যদি তাতে রাগ চলে যায় ভালো। আর যদি না যায়, তবে শুয়ে পড়বে। ’ [আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৪]
ধারণা করি, "রাগী মানুষের মন ভালো হয়" কথাটার প্রচলন করা হয়েছিলো ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সকে জাস্টিফাই করার জন্য। মানুষ কোন কাজ করার পর নিজের কুকর্মের দায় তারা চাপায় রাগের উপর। আবার সাধারণত নির্যাতিত হওয়ার পরে ঘরের বৌ বা ছেলে মেয়ের জবাব এমন হয়, আমার বাবার রাগটা একটু বেশি, কিন্তু মনটা কিন্তু অনেক ভালো।
রাগের মাথায় বৌ পেটানো, বাচ্চা পেটানো, ছাত্র ছাত্রী পেটানো, এমনকি রাগের মাথায় তিন ত্বালাক দেওয়া, এই "রাগের" দোহাই দিয়ে কোন আকামটা করতে বাকি রাখি আমরা?
আপনার বাপ হোক আর দাদা হোক বা ভাই-বোন, প্রিয়জন রাগী যেই হোক না কেন তাকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, রাগ একটা খারাপ জিনিস, বাজে জিনিস। এটা ভালো মানুষের গুন না।
নিজের চেষ্টায়, পরিবারের চেষ্টায় বা সাইকিয়াট্রিস্ট এর সাহায্য নিয়ে রাগ কমিয়ে ফেলা যায়। রাগের মাথায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলাও একটা মানসিক অসুস্থতা। একটা মানসিক অসুস্থতাকে সুন্দর মনের দোহাই দিয়ে গ্লোরিফাই করা বন্ধ করেন। (সংগৃহীত)