13/06/2026
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ক্লাসে ঢুকে ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন, “তোমাদের মধ্যে আমি একজনকে ১০০ টাকা দেব, কে নিতে চাও?
ক্লাসের প্রায় সবাই হাত তুলল।
অধ্যাপক তারমধ্যে একজন ছাত্রকে ১০০ টাকা দিলেন।তারপর বললেন, “এবার বলো, এই টাকার বিনিময়ে তুমি আমাকে কী ফিরিয়ে দেবে?”
ছাত্রটি বলল, “স্যার, আমি আপনাকে পরে ১০০ টাকাই ফেরত দেব।”
অধ্যাপক মাথা নাড়লেন, “না, আমি টাকা চাই না।”
ক্লাসের সকলেই অবাক হয়ে গেলো। অধ্যাপক তখন পকেট থেকে একটি পুরনো ছবি বের করলেন। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছেঁড়া জামা পরা এক কিশোর রাস্তার পাশে চা বিক্রি করছে।
অধ্যাপক বললেন, “এটা আমি।”
পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ ।
তিনি বলতে শুরু করলেন, “একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আমি যখন চা বিক্রি করছিলাম সেদিন আমার কাছে খাওয়ার মতোও টাকা ছিল না। একজন অচেনা মানুষ এসে আমাকে ১০০ টাকা দিলেন।আমি নিতে চাইছিলাম না।কিন্তু উনি বললেন এটা তোমার এখন প্রয়োজন।
আমি বললাম, ‘কাকু, আমি এটা একদিন ফেরত দিয়ে দেব।"
তিনি হেসে বললেন, আমাকে ফেরত দিতে হবে না। যেদিন দেখবে তোমার চেয়ে বেশি বিপদে কেউ আছে, তাকে সাহায্য করবে। সেটাই আমার টাকা ফেরত দেওয়ার সমতুল্য হয়ে যাবে।"
অধ্যাপক কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন, “আমি সেই মানুষটাকে আর কখনো খুঁজে পাইনি। কিন্তু গত ২৫ বছরে আমি হাজারের বেশি ছাত্রের ফিস গোপনে পরিশোধ করেছি।কারণ আমি এখনও সেই ১০০ টাকার ঋণ শোধ করে চলেছি।”
ক্লাসে পিনপতন নীরবতা।
এরপর তিনি যে কথাটা বললেন, সেটাই খুব মূল্যবান।
তিনি বললেন, "পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ঋণ টাকা নেওয়া নয়। সবচেয়ে বড় ঋণ হলো এমন একটি উপকার গ্রহণ করা, যা ফেরত দেওয়ার জন্য তোমাকে প্রতিনিয়ত অন্য কারও জীবন আলোকিত করার শিক্ষা নেওয়া।”
মাজহারুল হক হিমু
(সংগৃহীত)