07/10/2026
এখনকার পোলাপান বেয়াদব কেন জানেন?
কারণ মা-বাবারা আজকাল মা-বাবা হওয়ার চেয়ে “পারফেক্ট প্যারেন্ট” হওয়ার চিন্তায় বেশি ব্যস্ত! 🙂↔️
বাচ্চাকে এটা বলা যাবে না।
ওটা বলা যাবে না।
বকা দেওয়া যাবে না।
অমুকের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।
কঠিন কথা বলা যাবে না।
সবশেষে আবার বলা হয়
“বাচ্চার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করুন।”
কেন ভাই?
মা-বাবা কি আবার বন্ধুর পদে চাকরি নিতে এসেছে? 😑
বাচ্চার বন্ধু তার সমবয়সীরা হবে।
মা-বাবা থাকবেন মা-বাবার জায়গায়।
ভালোবাসবেন, আদর করবেন, কথা শুনবেন
কিন্তু দরকার হলে “না” বলবেন।
সীমা শেখাবেন।
ভুল করলে শুধরে দেবেন।
কারণ পৃথিবী আপনার সন্তানের প্রতিটা ভুলকে “বুঝে নেওয়ার” জন্য বসে থাকবে না।
আর এই নতুন ফর্মুলাগুলোও মন্দ না
“বাচ্চার সামনে বই পড়ুন, তাহলে বাচ্চাও বই পড়বে।”
আচ্ছা! 😐
তাহলে কি এখন ঘরের কাজ, অফিসের কাজ, রান্নাবান্না সব বাদ দিয়ে সারাদিন বই হাতে বসে থাকতে হবে?
আমি ঘরের কাজ করি—বাচ্চা কি আমাকে দেখে সব ঘরের কাজ শিখে ফেলেছে?
আমি বাইরে কাজ করি—আমাকে দেখে কি আমার সব কাজ শিখে ফেলেছে?
তাহলে বই হাতে বসলেই বই পড়া শিখে যাবে—এই জাদুর সূত্রটা কোথায় পাওয়া যায়? 😂
চার বছর বয়স থেকে শুরু করে post graduation পর্যন্ত বই পড়েছি।
এখনও বই পড়া শেষ হয়নি!
এখন আবার সন্তানকে বই পড়ানোর জন্য আমাকে বই নিয়ে বসে “মডেল” হতে হবে? 😆
আগের যুগের মা-বাবারা ইউটিউবের প্যারেন্টিং ভিডিও দেখেননি।
হাজারটা নিয়ম মুখস্থ করেননি।
তবুও তাদের ঘর থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী—অনেক ভালো মানুষ বের হয়েছে।
কারণ সন্তান মানুষ করতে শুধু নিয়ম জানা লাগে না,
লাগে মূল্যবোধ শেখানো।
সন্তানকে ভালোবাসুন।
তার কথা শুনুন।
তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন।
কিন্তু মনে রাখবেন
আপনি তার বন্ধু নন—আপনি তার মা।
আপনি তার বন্ধু নন—আপনি তার বাবা।
বন্ধু হয়ে সবসময় পাশে থাকা যায়,
কিন্তু মা-বাবা হয়ে প্রয়োজনে সন্তানের সামনে দাঁড়িয়ে “এটা ঠিক না” বলার সাহসও রাখতে হয়।
সন্তানকে সবসময় খুশি রাখার চেষ্টা করবেন না।
এমনভাবে মানুষ করুন, যেন একদিন আপনার অনুপস্থিতিতেও সে সঠিক আর ভুলের পার্থক্য বুঝতে পারে।
কারণ সন্তানকে বড় করা আর মানুষ করা—এক কথা নয়।(collected)
#শিশুরযত্ন