12/04/2026
Sumaiya Anan....বিছানায় বসে ফাঁসি? আর সিসিটিভিতে অপরাধীর পালানোর দৃশ্য—এ কেমন প্রহসন!
প্রিয় বোন সুমাইয়া আর আমাদের মাঝে নেই। সে পর্দানশীন ছিল, তাই তার সম্মানের কথা চিন্তা করে আমরা তার শরীরের ভয়াবহ আঘাতের ছবিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করছি না। কিন্তু মর্গের সেই হিমশীতল কক্ষে তার নিথর দেহে যা দেখা গেছে, তা কোনো মানুষের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। তার শরীরের প্রতিটি আঘাতের চিহ্ন আজ চিৎকার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
কেন আমাদের এই জোরালো প্রতিবাদ?
কিছু দৃশ্যমান অসঙ্গতি আমাদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়:
বিছানার ওপর বসে থাকা অবস্থায় একজন মানুষ কীভাবে 'ফাঁসি' নিতে পারে? একজন কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরাধী ছাড়া আর কেউ এমন হাস্যকর ও অবাস্তব নাটক সাজানোর কথা ভাবতেও পারে
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুমাইয়ার স্বামী অতি দ্রুত ও তড়িঘড়ি করে মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। যদি এটা সাধারণ কোনো মৃত্যুই হতো, তবে তার মধ্যে এই পলায়নপর মনোবৃত্তি কেন? এই ফুটেজই প্রমাণ করে সে কিছু একটা আড়াল করতে চাইছে।
পোস্টমর্টেমের আগে সংগ্রহ করা এই ছবিগুলো শুধু স্থির চিত্র নয়; এগুলো একটি পরিকল্পিত খুনের নীরব সাক্ষী। শরীরের ধরণ এবং আঘাতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
আমরা দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই অকাট্য প্রমাণগুলো (সিসিটিভি ফুটেজ ও আঘাতের চিহ্ন) বিচারকের সামনে সত্য উন্মোচন করবে। আমরা কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং আইনের শাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
আমাদের দাবি:
একটি হাসিখুশি প্রাণ এভাবে ঝরে যেতে পারে না। আমরা সুমাইয়ার স্বামী এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সুমাইয়া, আমরা লজ্জিত তোমার কাছে। আমরা তোমার এই শেষ চিহ্নগুলো আর সিসিটিভির অকাট্য প্রমাণ নিয়ে বিচারের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।