28/02/2026
🧕মহাকালের ধূসর পাণ্ডুলিপি ছিঁড়ে যেদিন আমাদের আত্মাগুলো নশ্বরতার খাঁচা থেকে মুক্ত হবে, সেদিন জান্নাতুল ফিরদাউসের নহরের কিনারে রচিত হবে এক অলৌকিক উপাখ্যান। পৃথিবীর এই ধূলিমলিন আঙিনায় আমাদের যে পথচলা, তা তো কেবল এক সংক্ষিপ্ত মহড়া; আমাদের প্রকৃত অভিসার তো তোলা আছে সেই অনন্তের সোপানে, যেখানে সময়ের কোনো জ্যামিতি নেই, জরা নেই, নেই কোনো বিরহের হাহাকার।
কল্পনা করুন সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন জান্নাতের কস্তুরীমিশ্রিত সমীরণে আপনার চিরচেনা সঙ্গীর সুবাস ভেসে আসবে। সেদিন আপনার সেই প্রিয় মুখচ্ছবিতে দুনিয়ার কোনো ক্লান্তির রেখা থাকবে না, থাকবে না কোনো বার্ধক্যের বিষাদ। সিজদার নূর আর সবরের দীপ্তিতে তিনি আবির্ভূত হবেন এমন এক মহিমান্বিত সৌন্দর্যে, যার সামনে জান্নাতের হুরদের রূপও ফিকে হয়ে যাবে— ঠিক যেমন পূর্ণিমার প্লাবনে নক্ষত্রের আলো বিলীন হয়। সেই প্রথম দৃষ্টিপাতে হৃদয়ের গহীনে যে কম্পন অনুভূত হবে, তা পৃথিবীর কোনো ভাষার ব্যাকরণে ধরা অসম্ভব।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সেদিন আমাদের অন্তর থেকে সমস্ত মানবিক ক্ষুদ্রতা ও অভিমান নিংড়ে নেবেন। মুখোমুখি স্বর্ণাসনে বসে যখন একে অপরের চোখের আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখবেন, তখন কয়েক সহস্রাব্দ কেটে যাবে স্রেফ সেই প্রথম দর্শনের মোহাবিষ্টতায়। সেদিন শব্দরা স্তব্ধ হবে, কেবল আত্মার নীরব সংলাপ গুঞ্জরিত হবে— "আলহামদুলিল্লাহ! পরম করুণাময় আমাদের প্রতিশ্রুত মিলনকে অবিনশ্বর করেছেন।" আমাদের এই পার্থিব প্রেম যেন কেবল কবরের অন্ধকার পর্যন্ত সীমিত না থাকে; বরং তা যেন হয় আরশের অধিপতির সান্নিধ্যে পৌঁছানোর এক স্বর্গীয় সেতু। যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত হবে 'প্রথম দেখার' মতো শিহরণ জাগানিয়া এবং প্রতিটি পলক হবে চিরযৌবনা এক অলৌকিক বাসর। আমাদের ভালোবাসা হোক সেই অবিনশ্বর কাব্যের মতো, যার প্রথম পঙ্ক্তি ইহকালে শুরু হলেও শেষ পঙ্ক্তিটি রচিত হবে জান্নাতের নীলিমায়, আল্লাহর দিদারে।