13/05/2026
বসনিয়ার মূল ভূখণ্ডে গণহত্যার পূর্বে খোলাখুলি মুসলমান হত্যায় সমর্থন জানানো স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল স্থানীয় খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে, যেমনটি বিজেপির জয়ের পর স্থানীয় হিন্দুরা প্রকাশ্যে মুসলিম গণহত্যার ঘোষণা দিচ্ছে স্ক্রীনশটটির মতো।
কারণ বসনিয়ার মুসলমানদের কলিজায় তাদের প্রতিবেশী খ্রিস্টানদের প্রতি এতোটা ভালোবাসা ছিল যে, তারা তাদের সামনে মুসলমানদের হত্যা ধর্ষণ নিয়ে উল্লাস করলেও কোনপ্রকার বাধার সম্মুখীন হতো না।
বসনিয়ার এক মুসলিম বালক, নাম কেনান ট্রেবিনচেভিচ, বয়স ছিল ১০-১১ বছর। বসনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী শহরগুলো যখন সার্ব সৈন্যরা দখলে নিয়ে ব্যাপকভাবে মুসলমান হত্যা ধর্ষণ শুরু করল, তখন কেনানের খ্রিস্টান বন্ধুরা তার সামনে খেলার মাঠে হাসিঠাট্টা করছিল
‘ফাক দেয়ার মাদারস’
কেনান সচকিত হয়ে উঠল! এই বন্ধুরা তো তার বাসায় যাওয়া আসা করে, তার মা তাদেরকে রেঁধে খাওয়ায়। তাহলে কি সুযোগ পেলে তার মাকেও তারা...
অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই সার্ব সৈন্যরা যখন বসনিয়ার আরও ভিতরে প্রবেশ করল, তার খ্রিস্টান খেলার সাথীদের মুসলিম বিদ্বেষও আরও প্রকট হল। তারা কেনানকে খেলায় নেওয়া বন্ধ করে দিল।
এভাবে দখল করতে করতে তারা বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোর চারদিক দিয়ে ঘেরাও করে ফেলল। সারায়েভোর চারদিকে পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে তারা স্নাইপার রাইফেল দিয়ে শহরের মুসলিম বাসিন্দাদের নিশানা করে গুলি করত, এটি ছিল তাদের খেলা। মুসলমানদের গুলি করার এই খেলায় অংশ নিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ধনী খ্রিস্টানরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সারায়েভোর পাহাড়গুলোতে আসত।
খ্রিস্টানরা বসনিয়ার যত শহর দখল করত, সবগুলোতে উসমানীয় আমলের ৫০০-৬০০ বছরের প্রাচীন মসজিদগুলো তারা শহীদ করত আর মুসলমান বাসিন্দাদের নির্বাসিত করত। এরপর খ্রিস্টান যাজকদের সাথে নিয়ে শহরটি পবিত্র ঘোষণা করত।
কিন্তু মজার বিষয় হল, সারায়েভোর মধ্যে যেই গির্জাটি ছিল, সেটি শহরের মুসলিম বাসিন্দারা অক্ষত রেখেছিল! এমনকি শহরের খ্রিস্টান বাসিন্দাদেরও তারা কোন ক্ষতি করেনি।
একপর্যায়ে বসনিয় মুসলমানরা যখন যুদ্ধ শুরু করল, খ্রিস্টানরা পিছু হটতে শুরু করল। আমেরিকা সার্ব খ্রিস্টানদের পরাজয় ঠেকাতে তখন মধ্যস্থতা করল, যাকে বলা হয় ডেইটন চুক্তি। সে মোতাবেক বসনিয়ার ভূখণ্ড ভাগ করে খ্রিস্টানদের অর্ধেকের মতো দেয়া হল, বাকিটা মুসলমানদের দেয়া হল।
বসনিয় মুসলমানরা এই অন্যায় চুক্তি মেনে না নিলে তাদের বোমা মেরে ধ্বংস করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আমেরিকা।
আমেরিকার ভাগাভাগিতে সেব্রেনিৎসাও খ্রিস্টানদের ভাগে পড়ল, যা ছিল বসনিয় যুদ্ধের সময় অন্যতম গণহত্যার কেন্দ্র। খ্রিস্টানদের ভাগে পড়া সব শহর থেকে তারা মুসলিম বিতাড়ন শুরু করল।
সারায়েভোর যেই খ্রিস্টানদের মুসলমানরা বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল, তারা যুদ্ধের পর খ্রিস্টানদের ভাগে পরা শহরগুলোতে চলে গেল বের করে দেয়া মুসলমানদের জায়গা দখলে নেয়ার জন্য! আর সারায়েভোর যেই খ্রিস্টান গির্জা, তা এখনও টিকে রয়েছে।
বসনিয়ার আধা খ্রিস্টান মুসলমানদের মতো এদেশের আধা হিন্দু মুসলমানদের কলিজাতেও প্রতিবেশী হিন্দুদের প্রতি ভালোবাসা মুহব্বত অত্যন্ত বেশি।
ঠিক সেভাবেই পরিস্থিতি এগোচ্ছে।
অচিরেই ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তের শহরগুলো দখল নিয়ে ধর্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করবে বসনিয়ার মতো, মসজিদগুলো ভাঙবে বসনিয়ার মতো, আর মুসলমানরাও বেশি বেশি করে মণ্ডপ করে সেগুলো মিডিয়াতে প্রচার করবে, এবার মণ্ডপের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এতো হাজার বেশি!
হ্যাঁ এমনটিই হবে, লিখে রাখেন।
সৈয়দ আলী আহসান লিখেছিল, সাতচল্লিশের পর পশ্চিমবঙ্গের বহু মসজিদকে গোয়ালঘরে পরিণত করা হয়, কিন্তু বাংলাদেশে মন্দিরগুলো অক্ষত রয়েছে। এটা লিখে লেখক তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলল।
যেন ওদের মসজিদ ভাঙার বদলে মন্দির অক্ষত রাখাটা বিরাট কৃতিত্ব। যেমনটি বসনিয়ায় মসজিদ ভাঙার বদলে গির্জা রাখাটা তারা মনে করে কৃতিত্ব।
মুসলমানদের একটি অদ্ভূত সমস্যা, তারা মন্দির-গির্জা রেখে সোয়াব কামাতে চায়! তারা কি মনে করে, মন্দির-গির্জা রেখে তারা আল্লাহ পাকের তরফ হতে সোয়াব কামাই করবে, যেখানে মন্দির-গির্জায় প্রতিনিয়ত নবী-রসূল তুলে গালিগালাজ করা হয়?
নাকি তারা কাফিরদের নিকট ছোয়াব প্রত্যাশা করে, যারা নিজেরাই জাহান্নামের পথযাত্রী?
ঘৃণার যুদ্ধে মুসলমান অনেক পিছিয়ে রয়েছে, লক্ষকোটি আলোকবর্ষ পিছিয়ে রয়েছে।
সংগৃহীত
দোয়া করি এই দেশের হুজুরদেকে জামাত শিবিরকে যেনো বসনিয়ার মুসলমানদের থেকেও হাজার গুন বেশি পরিনতি আল্লাহপাক করান ইনশা আল্লাহ ৷