04/02/2026
এই গাইডলাইন যার যার পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে আলাদা আলাদা হয়। একটা পুরো পরিবেশ কায়েম করে একটা প্রজন্মের ভিত গড়া সহজ বিষয় নয়। আবার কঠিন বিষয়ও নয়। স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্ল্যানিংই একটা উত্তম প্রজন্ম গড়ে তোলে। এগুলা থিওরি হিসেবে দেয়া যায়। এপ্লাই করতে অনেক বেশি মুজাহাদা প্রয়োজন।
কিছু মূল বিষয় বলে রাখি। আল্লাহ তাওফিক দিলে কখনো পুরোপুরি আলোচনা করব এই টপিকে কোনো সেমিনারে বা আলোচনায়।
১. সন্তানকে নিজের মনমত হাফিজ আলিম দ্বায়ী বানাতে চাইলে প্রথমেই স্ত্রী হিসেবে ভালো ঘরের ভালো মেয়ে চুজ করতে হবে। স্বামী হিসেবে ইলমের প্রতি আগ্রহী ও দ্বীনি-ইতিদালী-ট্র্যাডিশনাল মেজাজের কাউকে বাছাই করতে হবে। যিনি ঘরে বাইরে সামলাতে পারেন। প্রজন্ম নিয়ে কনসার্ন ও আল্লাহর আমানত মনে করে। প্রথম ধাপ শুরুই হবে স্বামী-স্ত্রী নির্বাচন থেকে।
২. সন্তান হওয়ার আগেই প্ল্যানিং করতে হবে কীভাবে তাকে আপনি বড় করতে চান। আপনার নোট ডায়েরীতে তাকে বয়সের কোন ধাপে কীভাবে গাইড করতে চান তা উপযুক্ত আলিমের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করতে হবে। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।
৩. ঘরের পরিবেশ সন্তানের উপযোগী করতে হবে। ঘরে টিভি থাকা যাবে না। মা বাবা সারাক্ষণ সন্তানের সামনে ফোন টেপা যাবে না। ঘরে থাকবে বই। ঘরে থাকবে কুরআন তিলাওয়াত ও দৈনিক তালীম। চিৎকার চেচামেচি ও ঝগড়া ঝাটি সম্পূর্ণ নিষেধ। বাচ্চার সহিহ মেজাজ ও বেড়ে উঠার সাথে এর সম্পর্ক চূড়ান্ত মাত্রার। বাচ্চার ছোটবেলা থেকেই তার জামা কাপড় সেন্স ঠিক রাখতে হবে। উলঙ্গ রাখা যাবে না। তাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য গান না গেলে মোবাইল না বাজিয়ে কুরআনের তিলাওয়াত করতে হবে। নানাবাড়ি দাদাবাড়ি বা এমন পরিবেশে নিয়ে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে যেন তার সঙ্গ ঠিক থাকে।
৪. বাচ্চার প্রথম একাডেমি তার মা। আধো আধো কথা বলার সময়েই দুয়া দরূদ-সূরা কিরাআত এগুলো মুখে মুখে মুখস্থ করিয়ে ফেলতে হবে। তাহলে হাফিয বানাতে সময় লাগবে না। রাতে ঘুমানোর সময় ঈমান আকিদা নবীদের গল্প এগুলা শোনাবেন। বাচ্চার ফিতরত ঠিক হবে। বাচ্চার মধ্যে দ্বীনের দাওয়াতি সিফাত অল্প বয়সে শুরু হবে।
৫. বাচ্চাকে হাফিয বানাতে চাইলে হিফযে দেয়ার চেয়ে ঘরে পড়ানোই বেশি ভাল। তবে একজন যোগ্য উস্তাদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেবেন। মা বাবা হাফিয হলে নিজেরা পড়ালে আরো ভালো। সাত বছর বয়সে হিফয শুরু করাবেন। ৩-৫ বছরের মধ্যে অক্ষরজ্ঞান, দুয়া দরূদ ও কিছু সূরা কিরাআত মুখস্থ হয়ে যেতে হবে। প্লে নার্সারিতে যা পড়ে সেগুলো এই বয়সে পড়িয়ে ফেলবেন। ৭ থেকে হিফজ শুরু করার পাশাপাশি তাকে ভালো প্রতিষ্ঠানে দিবেন দিলে। আল হিদায়া, এভেরোজ, সাফীর বা আল হাসনাইন টাইপের একাডেমিতে। সে হিফজও করবে পাশাপাশি ক্লাসের পড়াও পড়বে। ১০ বছর বয়সের মধ্যে আশা করি হিফজ হয়ে যাবে পাশাপাশি ক্লাস ফাইভ/ফোর পর্যন্ত পড়াও হয়ে যাবে।
৬. এরপর আলিম বানানোর পালা। ঘরে আলিম বানানো সম্ভব তবে বাবা মা উভয়েই কিংবা একজন পূর্ণ আলিম অপরজন দ্বীনের মূল তালিম ও ভাষাজ্ঞান আছে এমন হলে ভালো। আগে থেকে নিজেরা প্রস্তুত থাকলে অনেক কিছুই সহজ হয়। মা বাবা নিজেরা আরবী ইংরেজির চর্চা করলে নিজেরা একজন বাংলা অপরজন অন্যভাষায় কথা বললে দেখবেন বাচ্চাও ভাষায় এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আমি দেখেছি। আমরা তিন ভাইই মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে বাসায় বিভিন্ন ভাষায় কথা বলি। আব্বাও বলেন। পরিবেশ কায়েম হয়ে যায়।
তো আলিম বানাতে চাইলে প্রথাগত প্রক্রিয়ায় বানাতে হবে। নিজেদের পাশাপাশি ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেবেন। যেখানে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি ইলম শেখানো হয়। প্রচুর প্রতিষ্ঠান আছে। যদি নিজেরা পড়াতে চান তাহলে আধুনিক শিক্ষার জন্য ইংলিশ মিডিয়াম প্রিফার করি আমি। আর দ্বীনি ইলম বাসায় একজন যোগ্য উস্তাদের অধীনে শেখাবেন যেন সিলসিলা বজায় থাকে। ধাপে ধাপে তাকে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাবেন প্রতিষ্ঠানের আওতায়। এটার জন্য নিজেকে পরিশ্রম করে গবেষণা করে সিলেবাস বানাতে হবে। জ্ঞানার্জন করতে হবে।
আর পুরোপুরি উভয়দিকে হোম স্কুলিং করাতে চাইলেও পারা যায়। তবে একটা লেভেল পর তাকে প্রাতিষ্ঠানিক আওতায় আনতে হবে যেন মূল স্রোতের সাথে যুক্ত হতে পারে। উভয় দিকে পড়াশোনার সিলেবাসের ক্ষেত্রে পিস স্কুল উদাহরণ। এরকম নিজেদেরও বানাতে হবে।
আমার প্রজন্মকে নিয়ে আমার গোছানো সিলেবাস ও চিন্তাধারা তৈরি আছে। ওয়াল্লাহুল মুওয়াফফিক্বু ওয়াল মুঈন।
সন্তানকে দায়ী বানাতে চাইলে অবশ্যই তাকে একজন দাঈর সুহবতে দিতে হবে। নিজেরাও গাইড করতে হবে। তাকে বিভিন্ন তবকার তালীম দিতে হবে। সমাজের নানা পেশার মানুষের সাথে আচরণ ও কথা বলার বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে হবে। সফর করতে হবে।