30/04/2026
আমরা যাকে ‘সেটেলড লাইফ’ ভাবি,অনেক সময় তা আসলে মরীচিকা।
কাস্টমস অফিসার বুলেট বৈরাগী, কিংবা জামিল-বৃষ্টির মতো পিএইচডি গবেষক—যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় সফল ছিলেন।
তাঁদের দেখে অনেকেই হয়তো আফসোস করেছেন—“আহা! কী সুন্দর জীবন!” কেউ কেউ হয়তো হিংসাও করেছেন।
অথচ একবার ভেবে দেখুন তো—তাঁদের মতো সমাপ্তি কি আপনিও চাইতেন?
আমরা প্রায়ই নিজের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকি, অন্যের জীবন দেখে হিংসা করি। কিন্তু সত্য হলো, প্রত্যেকের জীবন তার নিজের পথেই চলে। কারোর পথের সাথে কারো মিল নেই।
আমাদের অনেকের ধারণা—সরকারি চাকরি পেলেই জীবন ‘সেট’, কিংবা বিদেশে পিএইচডি করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু জীবন তো কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য না; এটি এক অস্থায়ী সরাইখানা।
এখানে আমরা সবাই যাত্রী।
কার জীবনের শেষে কী অপেক্ষা করছে, তা স্রষ্টা ছাড়া কেউ বলতে পারবে না।
তাই অন্যের রঙিন মলাট দেখে নিজের জীবনের সাদাকালো পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলা নিছক বোকামি।
বাস্তবে জীবন কোন প্রতিযোগিতার ময়দান না এটি প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব সফর।
আপনি যদি আপনার নিজের জীবনে সন্তুষ্ট থেকে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন, তবে আপনি সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি সফল, যে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।
দিনশেষে সফলতার চেয়েও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা অনেক বেশি জরুরি।
সাফল্য হয়তো মরীচিকা হতে পারে, কিন্তু বেঁচে থাকাটা চরম সত্য। প্রতিটি নিঃশ্বাস এক একটি উপহার।
তাই অন্যের ট্রেনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের সফরটাকে উপভোগ করুন।
কারণ আপনার ট্রেনের সময়সূচী এবং গন্তব্য—দুটোই সম্পূর্ণ আলাদা।
লেখাঃ Ismot Jahan Lima