06/06/2025
ভাইয়ার বাসায় আম্মা এলেই ভাবি বলেন বা'চ্চার নাকি ন'জর লাগে; বা'চ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিজের মায়ের বি'রুদ্ধে এমন অ'ভিযোগ শুনতে আমার ভালো লাগেনা। কারোরই ভালো লাগবে না। আমি ভাইয়ার বাসায় থেকে পড়াশোনা করি। আমার সাথে ভাবি কোনদিন খা'রাপ ব্যবহার করেননি। খাবার-দাবার কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেন না। আপন ভাই-বোনের মতই সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। কিন্তু আম্মার বি'রুদ্ধে এমন অ'ভিযোগ কেন করে বুঝিনা। আম্মা এলেই নাকি বা'চ্চার খাবারে ন'জর দেন। এটা অবিশ্বাস্য লাগছে না?
আমরা চার ভাই-বোন। ভাইয়া সবার বড়। আমি সবার ছোট। মাঝখানে দুই বোন। বিয়ে হয়ে গেছে বোনদের। ভাইয়ার আর্থিক অবস্থা বোনদের চেয়ে ভালো। ভাইয়া চাকরি করেন শহরে থেকে। অনেক কষ্টে লেখাপড়া করেছেন। ভালো চাকরি পেয়েছেন, ব্যাংকের চাকরি। আব্বা-আম্মা গ্রামে থাকেন। আমাদের কৃষিজ পরিবার। ভাইয়ার স্টুডেন্ট লাইফেই বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। দুলাভাইদের আর্থিক অবস্থাও বেশি ভালো না। একজনের গ্রামে দোকান আছে। আরেকজনের টুকটাক জমি-জমা আছে। ঐসবই দেখাশোনা করে। আমাদের বাড়ির কাছেই বোনদের বাড়ি। ভাইয়া পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত। অনেক কষ্ট করে ভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছে। আব্বা-আম্মার অনেক শখ ছিল বউ তাদের মনের মত হবে। ভাবিকে এনেছেনও পছন্দ করেই। কিন্তু আব্বা-আম্মার এখন ভীষণ দুঃখ মনে। ভাবি নাকি মুখের উপরেই আম্মাকে বলেছে বা'চ্চা খাওয়ার সময় আসবেন না।
আমার ভাইয়ের একটাই বা'চ্চা। সুহা ওর নাম। বয়স দুই বছর। ভাবি আগে আব্বা-আম্মার সাথে খা'রাপ ব্যবহার করতেন না। কিন্তু ইদানিং নাকি সুহার খাবারের সময় আম্মাকে দেখলে কেমন জানি করেন। ভাব-ভঙ্গি নাকি এমন যে আম্মা বা'চ্চার খাবারে নজর দেয়। ভাবি লেখাপড়া করা মানুষ। মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে এবার। তার কাছ থেকে এমন একটা আচরণ আমার ভালো লাগেনা। যদিও আব্বা আম্মা আসলে তাদের খাবার-দাবারে ত্রু'টি করেন না। কিন্তু কিছুটা গাল ফুলিয়ে রাখেন। তিন বছর বিয়ের বয়স ভাবীর। প্রথম দুই বছর আব্বা-আম্মার সাথে ভালো ব্যবহার করেছেন। আমার বোনদের সাথেও। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আব্বা-আব্বা কিংবা বোনেরা এলে রান্নাবান্না ঠিকই করেন। যত্নেও ত্রুটি করেন না। কিন্তু বাচ্চাকে খাবার দেন লুকিয়ে। এটা কি রকম যেন লাগে। আব্বা-আম্ম ভাইয়ার বা'চ্চাকেও বেশি ডাকেন না। আমার সাথে আবার সুহার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমার সামনে ভাবী ঠিকই বা'চ্চাকে খাবার দেন।
বিয়ের প্রথম থেকে ভাইয়া-ভাবির সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। কিন্তু ইদানিং আম্মার বি'রুদ্ধে অ'ভিযোগ দেয়ায় ভাইয়া মনঃক্ষুণ্ন। আম্মা আসার পরে ফিরে গেলেও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকে। ভাবি ভাইয়া দুজনেই গা'ল ফুলিয়ে থাকেন। আমার বি'রুদ্ধে ভাবি কখনো অ'ভিযোগ করেন। এটাই আমি বুঝতে পারি না। অথচ আম্মা ফিরে যাওয়ার পরও বেশ কিছুদিন খা'রাপ সম্পর্ক থাকে ভাইয়া-ভাবীর। আবার সম্পর্ক ভালো হতে হতে আব্বা-আম্মারও বেড়াতে আসার সময় হয়ে যায়। আবার শুরু হয় দুজনের অশান্তি। আমার ভীষণ খা'রাপ লাগে ভাইয়া-ভাবীর অ'শান্তি দেখে। আব্বা-আম্মার জন্য খা'রাপ লাগে। ভাবি কি আম্মার সাথে স্বাভাবিক হতে পারেন না? আম্মাও খি'টখিট করে ভাবির সাথে। কেউই কাউকে ছাড় দিতে চায় না।
আজ আবার আব্বা-আম্মা এসেছেন ভাইয়ার বাসায়। আমি ভাবিকে বললাম, 'সুহার খাবারটা দেন। আমাদের সাথে বসে খাবে। আমি নিজে হাতে খাইয়ে দেবো।'
ভাবি জবাব না দিয়ে চলে গেলেন। আমার হাতে কিন্তু সুহা খায়। ভাবী সুহার খাবার নিয়ে রুমে চলে গেছেন। আব্বা-আম্মা খাওয়া শেষ করেছেন টেবিলেই। তারপর আম্মা চলে গেলেন ভাবীর রুমে। এক নতুন ঘটনা লক্ষ্য করলাম আজ। অবিশ্বাস্য ঘটনা।
দৃষ্টি_দর্শন
পর্বঃ১
ফারদিন_মিহির