24/04/2026
ইরান যুদ্ধ ইন্দোনেশিয়াকে একটা শিক্ষা দিয়েছে, আর এর প্রভাব এশিয়ার বাণিজ্যকে চিরতরে বদলে দিতে পারে...
ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী এইমাত্র মালাক্কা প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপের ধারণা তুলে ধরেছেন, এবং স্পষ্টভাবে ইরানের হরমুজ কৌশলকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "যদি আমরা এটাকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করি, তাহলে পরিমাণটা বেশ বড় হতে পারে। আমাদের অংশটা সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘ।"
মালাক্কা প্রণালী পূর্ব এশিয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চোক পয়েন্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছায় এই পথ দিয়েই। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এর ওপর নির্ভরশীল। আর চীন তার জ্বালানি আমদানির ৮০% এই জলপথ দিয়ে পায়।সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সঙ্গে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু বোতল থেকে জ্বিন বেরিয়ে গেছে। এই ধারণা আজ হোক কাল হোক কার্যকরী হবেই।
ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌকা থাকা একটি দেশই বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলকে জিম্মি করতে পারে। এখন চোক পয়েন্টের সীমান্তবর্তী প্রতিটি দেশ হিসাব কষছে, তারাও একই কাজ করতে পারে কিনা। কৌশলগত চিত্রটা বেশিরভাগ মানুষ যা বোঝে তার চেয়েও পরিষ্কার। ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে।
জাপান, তাইওয়ান ও ফিলিপাইন নিয়ে গঠিত প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল ওয়াশিংটনকে প্রয়োজন হলে মালাক্কা প্রণালীতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করার হাতিয়ার দেয়। চোকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করো, তাহলে কে কী সম্পদ পাবে সেটাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই যুক্তিতেই ট্রাম্প কাজ করছেন, আর ইন্দোনেশিয়া তা মনোযোগ দিয়ে দেখছে। সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিদেশি জ্বালানির ওপর চীনের নির্ভরশীলতাই তার সবচেয়ে বড় কৌশলগত দুর্বলতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা যদি কখনো বাড়ে, ওয়াশিংটনের বেইজিংয়ে আক্রমণ করার দরকার নেই। শুধু মালাক্কা নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে। আর ইন্দোনেশিয়া এইমাত্র প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে সঠিক দাম পেলে তারা সেই চাপ প্রয়োগের কাঠামোর অংশ হতে রাজি।
ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত হরমুজ থেকে মালাক্কা হয়ে পানামা পর্যন্ত প্রতিটি বৈশ্বিক চোক পয়েন্টের আর্থিক কাঠামোই বদলে দিতে পারে।