31/12/2025
JH Interior BD পরিবার গভীরভাবে শোকাহিত।
🖤🎗️ গভীর শোক 🎗️🖤
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানানো হয়েছে, আজ ফজরের নামাজের ঠিক পরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের এক বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটল।
অন্যদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’
দীর্ঘদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল। গত কয়েক দিনে তার স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। আজ ভোরে তার মহাপ্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের চারধারে এবং তার গুলশানের বাসভবনের সামনে শোকাতুর নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে শুরু করে।
১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে সেনাবিদ্রোহে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে যোগ দেন। সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার সফরটি ছিল অসামান্য সাহসিকতার।
১৯৮৪ সাল থেকে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে স্বল্প মেয়াদে এবং ২০০১ সালে তিনি পুনরায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে একাধিক আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার বিরল রেকর্ডের অধিকারী।
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংস্কার সাধিত হয়েছে। তার হাত ধরেই মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু হয়। এ ছাড়া দেশে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি প্রদান, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং যমুনা বহুমুখী সেতুর কাজ সম্পন্নকরণসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।
তবে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ এক দশক ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যান। এরপর দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাস ও পরবর্তীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে, যা নিয়ে দেশ, বিদেশে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবার ও দল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছিল বারবার।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর তাকে কোথায় সমাহিত করা হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছেন।
বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা অপূরণীয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।