20/05/2026
গতবছর আগস্টের সেই রাতটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত ছিলো। আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার যখন বললেন, “আর কিছুক্ষণ দেখবো, উন্নতি না হলে লাইফ সাপোর্ট লাগবে”, তখন মনে হচ্ছিলো আমার বুকের ভেতর থেকে পুরো পৃথিবীটা কেউ টেনে বের করে নিচ্ছে।
কাঁপা হাতে বন্ডে সই করে হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলাম। মনে হচ্ছিলো শরীরটা অবশ হয়ে যাচ্ছে। আমার ভাই তখন আমার হাত শক্ত করে ধরে ছিলো। আর আমি যেন নিজের অজান্তেই ওকে আমার জীবনের সব না বলা কথাগুলো বলে যাচ্ছিলাম।
বলছিলাম, "জানো ভাই? ওর চোখের সমস্যার কথা জানার পর যখন এটাও জানলাম যে ও কোরআনের হাফেজ, কেন জানি ওর প্রতি আমার এত মায়া জন্মেছিলো। সেই মায়া এত গভীর হয়েছিলো যে সবাই নিষেধ করলেও আমি ওকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
"আমি ইচ্ছে করেই সবসময় গাঢ় রঙের জামা কিনি, যেন ওর চোখে রঙ টা ভালোভাবে ফুটে উঠে, আর ও ভালো করে দেখতে পারে। বাইরে গেলে এক মুহূর্তের জন্যও ওর হাত ছাড়িনা। সামনে কিছু পড়ে থাকলে চুপচাপ সরিয়ে দেই, যেন ধাক্কা না খায়। অনেক সময় সামনে থাকা জিনিস খুঁজে না পেলে কিছু না বলেই হাতের কাছে এনে রাখি, যেন ও বুঝতেই না পারে কারো সাহায্যে খুঁজে পেয়েছে।"
"এমনও হয়েছে, আমি যে জামাটা দুই মাস ধরে পরে ঘুরছি, হঠাৎ সেটাকেই নতুন বলে প্রশংসা করেছে। আমি কিছু বলিনি, শুধু হেসেছি। অনেকবার ভুল করে নীল আকাশকে লাল গোধূলি বলেছে, আমিও বলেছি, “হ্যাঁ, অনেক সুন্দর গোধূলি।” কারণ আমি কখনো চাইনি ওর মনে একটুও আফসোস জন্ম নিক যে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য সে দেখতে পাচ্ছে না।"
কথা গুলো পাগলের মতো বলে যাচ্ছিলাম আমার ভাইকে, মানসিক অস্থিরতা কমানোর জন্য। এই কথাগুলো আমি কখনও কাউকে বলিনা, ওকেও না। বলার প্রয়োজন ও মনে করিনা। কারন আমার এই যত্নগুলো এখন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। আর এটা আমি ছাড়তেও পারবোনা। আর আমি এটাও বিশ্বাস করি, ওকে আমি ছাড়া আর কেউ এভাবে যত্ন করে ভালোও বাসবেনা।
আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে তখন শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিলো— মানুষটাকে ফিরে পেলেই আমার সব ফিরে পাওয়া হবে। আমার দুইটা ছেলে বাসায় ছিলো, কিন্তু তখন পৃথিবীতে আর কিছুই মাথায় আসছিলো না। শুধু মনে হচ্ছিলো, আল্লাহ যেভাবেই হোক মানুষটাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।
ওই রাতটা ছিলো এক দুঃস্বপ্নের মতো। নিজেকে এত অসহায় লাগছিলো যে বারবার আশেপাশে নিজের মানুষগুলোকে খুঁজছিলাম। আল্লাহর অনেক রহমত ছিলো, কারণ সেই রাতে আমার পাশে চারজন মানুষ ছায়ার মতো ছিলো। আমার আপন ভাই, আমার আরেক ভাই (ননদের হাজব্যান্ড), আমার ফুপু শাশুড়ি আর ফুপা শ্বশুর। তারা সারা রাত আমার পাশে ছিলো বলেই হয়তো আমি ভেঙে পড়িনি।
আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই রাতে আর লাইফ সাপোর্ট লাগেনি। ৭ দিন পর তুমি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছিলে।
আজ তোমার জন্মদিন। এই জন্মদিনটা শুধু তোমার না, আমারও। কারণ এই দিনটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় — আল্লাহ চাইলে হারিয়ে যেতে বসা মানুষও আবার ফিরে আসে, বুকভরা শ্বাস নিয়ে, প্রিয়জনের হাত ধরে।
দোয়া করি, আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন। তুমি সারাজীবন আমাদের পাশেই থেকো। আমি আর আমাদের দুইটা ছেলে তো আছিই — তোমার হাত ধরে বাকিটা জীবন পার করে দেয়ার জন্য। 🤍
শুভ জন্মদিন প্রিয়🥺 Bashir Ahmed Akib ❤️
তার জন্মদিন উপলক্ষে এখন থেকে ২৩ তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত আমাদের পেইজে ১০০০ টাকার উপরে কিছু অর্ডার করলেই পেয়ে যাবেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রী।💥
অফারটি মিস করবেন না আশা করি।