Shirajul Interior Design

Shirajul Interior Design Interior Designer
Creating functional & aesthetic spaces Residential | Commercial | Office.

21/05/2026

ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার আগে যে বিষয় জানা জরুরি।

ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা দারুণ ক্রেজ তৈরি হয়েছে, তাই না? হওয়াটাই স্বাভাবিক। সারাদিনের খাটুনি শেষে নিজের শ...
20/05/2026

ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা দারুণ ক্রেজ তৈরি হয়েছে, তাই না? হওয়াটাই স্বাভাবিক। সারাদিনের খাটুনি শেষে নিজের শান্তিময় নীড়ে ফেরার অনুভূতিটাই আলাদা। কিন্তু একটা তিক্ত সত্যি কথা বলি—আমার এই বিগত ৭ বছরের (২০১৯ থেকে আজ পর্যন্ত) ক্যারিয়ারে একটা জিনিস খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেকেই হুজুগে বা শুধু সুন্দর কিছু ছবি দেখে ইন্টেরিয়র করানো শুরু করে দেন, আর মাঝপথে গিয়ে পড়েন মহাবিপদে। বাজেট ক্রস করে যায়, মিস্ত্রিদের সাথে ঝামেলা হয়, আর শেষমেশ সাধের ঘরটা হয়ে যায় মানসিক অশান্তির কারণ।
একটা বাড়ি বা অফিস সাজানো কিন্তু চারটা দেয়াল রঙ করা আর কিছু রেডিমেড ফার্নিচার বসানোর চেয়ে অনেক বড় সিদ্ধান্ত। কাজ শুরু করার আগে কয়েকটা জিনিস যদি আপনি ক্লিয়ার না করে নেন, পরে আফসোস করতে হবে।
আজকে একদম প্র্যাক্টিক্যাল কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, যা কাজ শুরুর আগে আপনার জানা মাস্ট!
১. বাজেট লক করুন (এবং ১০% ব্যাকআপ রাখুন)
আমরা বাঙালিরা বাজেট বলতে বুঝি—"ভাই, ৫ লাখের মধ্যে শেষ করে দেন।" কিন্তু বিশ্বাস করুন, ইন্টেরিয়র কাজে 'হিডেন কস্ট' বা লুকানো খরচ থাকবেই। দেখা গেল বোর্ডের কাজ করতে গিয়ে আপনার ঘরের দেয়ালের ড্যাম্প ধরা পড়ল। এখন ড্যাম্প ট্রিটমেন্ট না করে বোর্ড বসালে তো দুই দিনেই সব শেষ! তাই শুরুতেই আপনার আসল বাজেট যদি হয় ৯ লাখ, তবে ডিজাইনারকে বলুন ৮ লাখ। বাকি ১ লাখ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যাকআপ হিসেবে রাখুন।
২. আপনার লাইফস্টাইল কেমন? (শুধু লুক দেখলে হবে না)
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা দারুণ গ্লাস ক্যাবিনেট বা একদম ধবধবে সাদা ল্যামিনেটের "মডার্ন মিনিমাল লাক্সারি" ডিজাইন দেখে আপনার পছন্দ হয়ে গেল। কিন্তু আপনার ঘরে যদি ছোট বাচ্চা থাকে বা রেগুলার গেস্ট আসে, তবে ওই সাদা বোর্ড মেইনটেইন করতে করতে আপনার জান শেষ হয়ে যাবে!
* **আমার পরামর্শ:** ডিজাইন সবসময় আপনার লাইফস্টাইলের সাথে মিলতে হবে। ঘর শুধু দেখার জন্য না, থাকার জন্য। লাইটিং, স্টোরেজ আর স্পেস ইউটিলাইজেশন যেন আপনার ডেইলি লাইফকে সহজ করে, সেটাই আসল ইন্টেরিয়র।
৩. ম্যাটেরিয়াল সিলেকশনে একটু পড়াশোনা করুন
আজকাল বাজারে হরেক রকমের ম্যাটেরিয়াল—WPC, চারকোল প্যানেল, মেলামাইন বোর্ড, অ্যাক্রিলিক। একেকটার দাম একেক রকম, পারফরম্যান্সও ভিন্ন। কোন জায়গায় প্লাইউড লাগবে, কোথায় সলিড কাঠ লাগবে, আর কোন দেয়ালে ড্যাম্পের জন্য স্পেশাল বোর্ড লাগবে—এই বেসিক আইডিয়াটা নিজে একটু রাখুন। ডিজাইনারের সাথে খোলামেলা কথা বলুন। কম খরচে চকচকে জিনিস দিয়ে পরে পস্তানোর চেয়ে, কোয়ালিটি ম্যাটেরিয়ালে ইনভেস্ট করা অনেক সাশ্রয়ী।
৪. ড্রইং এবং ৩ডি রেন্ডার ফাইনাল না করে কাজে হাত দেবেন না
"ভাই, কাজ শুরু করে দেন, ড্রইং আস্তে আস্তে দিয়েন"—এই ভুল ভুলেও করবেন না। থ্রিডি রেন্ডার এবং প্রপার মেজারমেন্ট ড্রইং ছাড়া কাজ শুরু করা মানে অন্ধকারে ঢিল মারা। কাজ শুরু হওয়ার পর যদি বলেন, "না ভাই, কিচেনের এই ক্যাবিনেটটা বামে না ডানে হলে ভালো হতো," তখন ভাঙচুর করতে গিয়ে আপনার লেবার কস্ট এবং সময় দুটোই ডবল লাগবে। আগে কাগজে-কলমে ডিজাইন ১০০% ফাইনাল করুন, তারপর হাতুড়ি চালাতে দিন।
৫. সময় এবং ধৈর্য: তাড়াহুড়ো করলেই লস
ভালো কাজের জন্য সময় দিতে হয়। বোর্ডের ফিনিশিং, প্রপার আঠা শুকানো, পলিশ বা লাইটিংয়ের সূক্ষ্ম কাজগুলোর একটা নিজস্ব টাইমলাইন আছে। অনেকেই মিস্ত্রিদের ওপর এত বেশি প্রেসার দেন যে, শেষ মুহূর্তে ফিনিশিং নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো করে আপনি হয়তো দুই দিন আগে ঘরে উঠবেন, কিন্তু ফিনিশিং খারাপ হলে সেই খুত আপনার চোখে আজীবন খচখচ করবে।
**শেষ কথা একজন ডিজাইনারের জায়গা থেকে:**
ইন্টেরিয়র ডিজাইন কিন্তু ওয়ান-সাইডেড কোনো কাজ না। এটা একটা পার্টনারশিপ। আপনি আপনার ডিজাইনারকে যত ক্লিয়ারলি আপনার চয়েস, বাজেট আর প্রবলেমগুলো জানাবেন, আউটপুট তত চমৎকার আসবে। নিজের কষ্টের টাকা দিয়ে স্বপ্নের ঘর সাজাবেন, তাই তাড়াহুড়ো না করে বুঝেশুনে পা ফেলুন।
আচ্ছা, আপনার কি মনে হয়? ইন্টেরিয়র করাতে গিয়ে সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গাটা কোনটা বলে আপনার মনে হয়—বাজেট ম্যানেজমেন্ট, নাকি মিস্ত্রিদের সামলানো? নিচে কমেন্ট করে জানান, আড্ডা দেওয়া যাক!

19/05/2026

কালার সিলেকশন চলছে, কাজ চলমান, খুব শীগ্রই ফাইনাল লুক দেখতে পাবেন।

অনেকেই লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঘর সাজানোর পর খেয়াল করেন—ঘরটা দেখতে তো সুন্দর লাগছে, কিন্তু হাঁটাচলা করতে গেলেই পায়ে ফার্নিচ...
19/05/2026

অনেকেই লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঘর সাজানোর পর খেয়াল করেন—ঘরটা দেখতে তো সুন্দর লাগছে, কিন্তু হাঁটাচলা করতে গেলেই পায়ে ফার্নিচার ঠেকে যাচ্ছে। কিংবা সাধের বড় আলমারিটার জন্য ঘরের পুরো আলো-বাতাসই বন্ধ হয়ে গেছে।
​আপনার অজান্তেই এমন কিছু ভুল আপনার ঘরের মূল্যবান স্পেস নষ্ট করছে না তো? চলুন মিলিয়ে নেওয়া যাক:
​১. ফার্নিচারের সাইজ বনাম ঘরের সাইজ (সবচেয়ে বড় ভুল!)
​দোকানে একটা রাজকীয় ডিভান বা বিশাল কিং-সাইজ খাট দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যেতেই পারে। কিন্তু কেনার আগে কি ঘরের মাপ নিয়েছেন? অনেক সময় আমরা ঘরের আয়তনের চেয়ে বড় সাইজের ফার্নিচার কিনে ফেলি। ফলাফল? রুমটা দেখতে হিজিবিজি লাগে এবং হাঁটার জায়গা কমে যায়।
​সমাধান: ঘর সাজানোর মূল মন্ত্র হলো 'লেস ইজ মোর' (Less is more)। ঘর ছোট হলে একটু স্লিম, ছিমছাম এবং মাল্টি-ফাংশনাল ফার্নিচার বেছে নিন।
​২. দেয়াল ও ফলস সিলিংয়ের ভুল ব্যবহার
​আমরা অনেকেই ঘরের লাক্সারি লুক আনার জন্য ভারী ফলস সিলিং বা গাঢ় রঙের ওয়ালপেপার ব্যবহার করি। কিন্তু ঘরের সিলিং যদি এমনিতেই নিচু হয়, তবে ভারী সিলিং ডিজাইন ঘরকে আরও ছোট এবং দমবন্ধ দেখাবে। একইভাবে, ছোট ঘরে চারপাশেই ডার্ক কালার ব্যবহার করলে স্পেস আরও সংকুচিত মনে হয়।
​আমার অভিজ্ঞতা: একটা প্রজেক্টে ক্লায়েন্ট চেয়েছিলেন পুরো ঘরে গাঢ় উডেন টেক্সচারের প্যানেলিং করতে। আমি ওনাকে বুঝিয়ে ফ্ল্যাট বা সলিড কালারের বদলে রিফ্লেক্টিভ গ্লাস এবং হালকা রঙের কম্বিনেশন করে দিই। এতে ঘরটা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বড় এবং অনেক বেশি আলো-ঝলমলে মনে হয়েছিল।
​৩. লাইটিং এবং ডেড কর্নারকে অবহেলা করা
​ঘরের কোনাগুলো (Corners) সাধারণত অবহেলায় পড়ে থাকে। আবার অনেকে ঘরের মাঝখানে একটা বড় লাইট জ্বালিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। আলোর সঠিক প্রতিফলনের অভাবেও কিন্তু ঘর ছোট দেখায়।
​সহজ ট্রিক: ঘরের ডেড কর্নারগুলোতে কাস্টমাইজড কর্নার সেলফ বা সুন্দর একটা ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। আর লাইটিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু সিলিং লাইটের ওপর ভরসা না করে একটু 'লেয়ারিং' করুন—যেমন স্পটলাইট বা দেয়ালের লাইট। এতে ঘর অনেক বেশি বড় ও লাক্সারি ফিল দেয়।
​৪. স্টোরেজ বা গোছানোর জায়গার অভাব
​আপনার ইন্টেরিয়র দেখতে যতই আধুনিক হোক না কেন, যদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার জায়গা (Storage) না থাকে, তবে ঘরের মেঝেতে বা সোফার ওপর জিনিসপত্র জমবেই। আর অগোছালো ঘর মানেই স্পেসের অপচয়।
​বুদ্ধিমানের কাজ: দেয়ালের পুরো উচ্চতা ব্যবহার করে ফ্লোর-টু-সিলিং কেবিনেট তৈরি করুন। নিচে জায়গা নষ্ট না করে ওপরের ফাঁকা স্পেসকে স্টোরেজ হিসেবে কাজে লাগান।
​শেষ কথা:
ঘর শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, ঘর হতে হবে আরামদায়ক এবং কার্যকরী। আপনার ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, সেটাই আসল ইন্টেরিয়র ডিজাইন।
​আপনিও কি আপনার ঘরের কোনো স্পেস নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন? কমেন্টে জানান, অথবা আপনার ঘরের ইন্টেরিয়রকে নিখুঁত ও লাক্সারি করতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন!




সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ঘরের বসার ঘরটায় পা রাখলেই যেন মনটা জুড়িয়ে যায়—এমনটাই তো আমরা চাই, তাই না? অথচ বাজেট বা ঝামেলার ভ...
19/05/2026

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ঘরের বসার ঘরটায় পা রাখলেই যেন মনটা জুড়িয়ে যায়—এমনটাই তো আমরা চাই, তাই না? অথচ বাজেট বা ঝামেলার ভয়ে আমরা অনেকেই মেকওভারের কথা ভাবি না। ২০২৬ সালের ট্রেন্ড বলছে, পকেট খালি না করেও সাধারণ একটা লিভিং রুমকে একদম ‘অসাধারণ’ লুক দেওয়া সম্ভব। কীভাবে? চলুন সংক্ষেপে জেনে নিই:
​১. একটি দেওয়ালে রঙের খেলা
​পুরো ঘর রঙ করার দরকার নেই। ঘরের যেকোনো একটি প্রধান দেওয়ালে বেছে নিন ট্রেন্ডি কোনো কালার—যেমন টেরাকোটা, অলিভ গ্রিন বা মাশরুম কালার। গত মাসেই আমার এক বন্ধুর ঘরে আমরা একটা দেওয়ালে 'সেজ গ্রিন' রঙ করেছিলাম; বিশ্বাস করুন, পুরো ঘরের আমেজটাই বদলে গেছে!
​২. ইনডোর প্ল্যান্টসের জাদু
​দামি শোপিস বাদ দিয়ে ঘরের কোণে একটা বড় মনস্টেরা বা স্নেক প্ল্যান্ট রাখুন। মাটির টবে গাছ রাখলে ঘরে একটা দারুণ স্নিগ্ধ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়, যা কৃত্রিম জিনিস দিয়ে কখনোই সম্ভব নয়।
​৩. লাইটিং বদলে দেবে মেজাজ
​মাথার ওপরের কড়া টিউবলাইটটা বন্ধ করুন। ঘরের কোণে একটা ফ্লোর ল্যাম্প বা টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিন। এই 'ওয়ার্ম লাইট' বা হলদেটে আলো নিমেষেই আপনার বসার ঘরে একটা লাক্সারিয়াস ও শান্ত ভাব নিয়ে আসবে।
​৪. কুশন আর পাটের মাদুর
​সোফা বদলানোর সাধ্য বা ইচ্ছে না থাকলে শুধু কুশন কাভারগুলো বদলে ফেলুন। একটু উজ্জ্বল রঙ বা ব্লক প্রিন্টের কাভার বেছে নিন। আর মেঝেতে পেতে দিন একটা ছোট পাটের কার্পেট বা মাদুর। ব্যস, কম খরচেই কেল্লাফতে!
​মূল কথা: মেকওভার মানেই টাকা ওড়ানো নয়। ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে একটু আলো-বাতাস খেলতে দিন। আপনার রুচিশীল ছোট ছোট পরিবর্তনই সাধারণ ঘরকে অসাধারণ করে তুলবে।



১. ফুল-লেন্থ আয়না: জানালার বিপরীতে বড় আয়না রাখুন। আলো প্রতিফলিত হয়ে রুম দ্বিগুণ বড় দেখাবে।২. হালকা রং ও পা ওয়ালা ফার্নিচ...
19/05/2026

১. ফুল-লেন্থ আয়না: জানালার বিপরীতে বড় আয়না রাখুন। আলো প্রতিফলিত হয়ে রুম দ্বিগুণ বড় দেখাবে।
২. হালকা রং ও পা ওয়ালা ফার্নিচার: দেয়ালে অফ-হোয়াইট বা হালকা ক্রিম রং করুন। ফার্নিচার কিনুন পা ওয়ালা (Legged), যেন নিচে আলো-বাতাস চলে।
৩. ছাদ ছোঁয়া পর্দা: পর্দা জানালার ওপর থেকে নয়, একদম ছাদের কাছ থেকে মেঝে পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিন। ঘর লম্বায় বড় মনে হবে।
৪. ফ্লোটিং শেলফ: মেঝেতে ক্যাবিনেট না রেখে দেয়ালে ভাসমান তাক বা ওয়াল-মাউন্ট টিভি ইউনিট ব্যবহার করুন। মেঝে যত খালি, ঘর তত বড়।
৫. মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার: বক্স খাটের বদলে স্টোরেজসহ হাইড্রোলিক বেড বা ফোল্ডিং টেবিল ব্যবহার করুন, যা অপ্রয়োজনে জায়গা নষ্ট করবে না।
​দামি ফার্নিচার নয়, সামান্য এই স্মার্ট প্ল্যানিংই আপনার ছোট ফ্ল্যাটকে দেবে এক লাক্সারি ও খোলামেলা লুক!



সবাই চায় নিজের বাড়িটা যেন রাজকীয় দেখায়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে বাজেট নিয়ে। অনেকেই ভাবেন, ঘর লাক্সারি বা দামি দেখাতে হলে বুঝ...
18/05/2026

সবাই চায় নিজের বাড়িটা যেন রাজকীয় দেখায়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে বাজেট নিয়ে। অনেকেই ভাবেন, ঘর লাক্সারি বা দামি দেখাতে হলে বুঝি লাখ লাখ টাকা খরচ করে ইন্টেরিয়র করাতে হবে। একদমই না!
​আমি যখন প্রথম দিকে প্রজেক্ট করা শুরু করি, তখন আমারও ধারণা ছিল দামি জিনিস মানেই লাক্সারি। কিন্তু কাজ করতে করতে বুঝলাম, আসল জাদুটা লুকিয়ে আছে সঠিক প্ল্যানিং আর কিছু ছোট ট্রিকসের মধ্যে। আজ আপনাদের সাথে এমন ৫টি জাদুকরী ট্রিকস শেয়ার করব, যা খুব কম খরচে আপনার সাধারণ ঘরটিকে দেবে একটি প্রিমিয়াম এবং লাক্সারি লুক।
​১. লাইটিং-এর জাদু: লেয়ার তৈরি করুন
​একটি সাধারণ ঘরে শুধু একটা টিউবলাইট জ্বালিয়ে রাখলে ঘরটা ফ্ল্যাট দেখায়। লাক্সারি লুকের প্রথম শর্ত হলো সঠিক লাইটিং।
​কী করবেন: ঘরে শুধু এক ধরনের আলো ব্যবহার না করে 'লেয়ার' তৈরি করুন। সিলিংয়ে ফলস ডাউনলাইটের পাশাপাশি ঘরের কোণায় একটা সুন্দর স্ট্যান্ডিং ল্যাম্প বা দেয়ালে একটা ওয়ার্ম লাইটের (Warm light) ব্র্যাকেট ল্যাম্প ঝুলিয়ে দিন। রাতের বেলা যখন মেইন লাইট নিভিয়ে শুধু ল্যাম্পগুলো জ্বলবে, ঘরের পরিবেশ নিমেষেই বদলে যাবে।
​২. ফেব্রিক এবং পর্দা ঝোলানোর সঠিক নিয়ম
​পর্দা শুধু রোদ আটকানোর জন্য নয়, এটি ঘরের সাইজ কেমন দেখাবে তাও ঠিক করে। আমরা অনেকেই জানালার ঠিক ওপর থেকে ছোট পর্দা ঝুলিয়ে দিই, যা দেখতে বেশ সাধারণ লাগে।
​কী করবেন: পর্দা সবসময় সিলিংয়ের একদম কাছ থেকে, অর্থাৎ ছাদ ঘেঁষে ঝুলিয়ে দিন এবং সেটি যেন একদম মেঝে পর্যন্ত ছোঁয়া থাকে। এতে ঘরটিকে লম্বায় অনেক বড় এবং ছাদকে অনেক উঁচুতে মনে হয়—যা লাক্সারি ডিজাইনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। পর্দার কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতি বা লিনেনের মতো রিল্যাক্সড ফেব্রিক বেছে নিতে পারেন।
​৩. দেয়ালের রঙ এবং মোল্ডিং ডিজাইন
​হিজিবিজি বা খুব গাঢ় রঙ ঘরের আভিজাত্য কমিয়ে দেয়। লাক্সারি লুকের মূল মন্ত্র হলো "Less is more" অর্থাৎ যত ছিমছাম, তত সুন্দর।
​কী করবেন: দেয়ালে অফ-হোয়াইট, সফট গ্রে, বা বেইজ কালারের মতো হালকা রঙ ব্যবহার করুন। এতে ঘর বড় এবং আলো ঝলমলে দেখাবে। আর দেয়ালকে খালি না রেখে বাজারে এখন খুব কম খরচে পিভিসি বা চারকোল মোল্ডিং প্রোফাইল পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে ওয়ালে ক্লাসিক বক্স প্যাটার্ন তৈরি করলে ঘর দেখতে ভীষণ গর্জিয়াস লাগে।
​৪. স্টেটমেন্ট পিস বা ফোকাল পয়েন্ট তৈরি করুন
​পুরো ঘর দামি জিনিসে ভরিয়ে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ঘরে ঢোকার পর মানুষের চোখ যেন একটি নির্দিষ্ট সুন্দর জিনিসের দিকে যায়, সেই ব্যবস্থা করুন। একে আমরা বলি ফোকাল পয়েন্ট।
​কী করবেন: লিভিং রুমের যেকোনো একটি দেয়াল বেছে নিন। সেখানে একটি বড় সাইজের সুন্দর পেইন্টিং অথবা একটা রিচ টেক্সচারের ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন। বাকি দেয়ালগুলো একদম সিম্পল রাখুন। এই একটি মাত্র 'স্টেটমেন্ট পিস' আপনার পুরো ঘরের রূপ বদলে দেবে।
​৫. ইনডোর প্ল্যান্টস এবং মেটালিক টাচ
​প্রকৃতি আর আভিজাত্য—এই দুটির কম্বিনেশন সবসময় দারুণ কাজ করে। এর সাথে যদি সামান্য মেটালিক ছোঁয়া থাকে, তবে তো কথাই নেই।
​কী করবেন: ঘরের কোণায় একটা বড় পাতার ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন: মনস্টেরা বা ফিশটেল পাম) রাখুন। গাছ রাখার টবটি প্লাস্টিকের না হয়ে যদি সিরামিক বা মেটালিক গোল্ডেন কালারের হয়, তবে লুকটা একদম প্রিমিয়াম আসবে। এছাড়া সোফার কুশনে বা টেবিলের শোপিসে হালকা গোল্ডেন বা ব্রোঞ্জ কালারের ছোঁয়া রাখতে পারেন।
​শেষ কথা
​বাড়ি লাক্সারি দেখানোর আসল রহস্য দামি আসবাবে নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা আর গোছানো রুচিতে। ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন, ঘরকে শ্বাস নিতে দিন।




আমি ২০১৯ সাল থেকে ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্পেস প্ল্যানিং-এর সাথে যুক্ত আছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমি Residential, Commercial এবং ...
18/05/2026

আমি ২০১৯ সাল থেকে ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্পেস প্ল্যানিং-এর সাথে যুক্ত আছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমি Residential, Commercial এবং Office Interior Design-এর বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যা আমাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করেছে।
বর্তমানে আমি JAMADDAR Interior এবং Western Interior প্রতিষ্ঠানে Chief Executive Officer (CEO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আধুনিক, নান্দনিক এবং কার্যকরী ইন্টেরিয়র সলিউশন দিয়ে আসছি।
আমার লক্ষ্য হলো—প্রতিটি স্পেসকে শুধু সুন্দর নয়, বরং ব্যবহার উপযোগী, আরামদায়ক এবং লাইফস্টাইল অনুযায়ী ডিজাইন করা।
এই পেইজে আমি আমার কাজ, প্রজেক্ট আপডেট, ডিজাইন আইডিয়া এবং ইন্টেরিয়র সম্পর্কিত টিপস শেয়ার করবো ইনশাআল্লাহ।
আপনারা সবাই পাশে থাকবেন, দোয়া করবেন এবং যেকোনো ইন্টেরিয়র প্রজেক্ট বা কনসালটেশনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
📩 যোগাযোগের জন্য ইনবক্স করুন
ধন্যবাদ সবাইকে

Shirajul Islam
Interior Designer
CEO | Jamaddar Interior & Western Shirajul Interior Design

Address

Mirpur/1
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shirajul Interior Design posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share