17/09/2026
সিলেট—একটা ছোট্ট ভ্রমণগল্প
কয়েকদিনের একটা ভ্রমণ দিয়ে কোনো জায়গাকে পুরোপুরি চেনা যায় না। তাই সিলেট নিয়ে এটা কোনো পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণগল্প নয়—এটা শুধু আমাদের চোখে দেখা, অনুভব করা কিছু মুহূর্তের গল্প।
এর আগে শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার ঘোরা হয়েছে, হামহাম জলপ্রপাতেও গিয়েছি। কিন্তু সিলেট শহর আর আশপাশের জায়গাগুলো সেভাবে ঘোরা হয়নি। তাই এবার ভাবলাম, এতদিনের সেই না-ঘোরা অধ্যায়টাও একটু দেখে আসি।
আমি আর সাজ্জাদ আসলে খুব একটা নরমাল শহর ঘোরার মানুষ নই। আমাদের টানটা বরং পাহাড়ের গহীন, ঘন জঙ্গল, ঝরনা আর একটু দুর্গম পথের দিকে। যেখানে যেতে একটু কষ্ট আছে, মানুষের ভিড় কম, প্রকৃতিটা এখনও নিজের মতো করে আছে—সেখানেই আমাদের আনন্দ বেশি। আর সেই জায়গাগুলোর মধ্যে বান্দরবনের গহীন আমাদের দুজনের সবচেয়ে প্রিয়।
তারপরও সিলেট এসে অন্যরকম একটা ভালো লাগা তৈরি হলো।
সবচেয়ে বেশি মনে ধরেছে এখানকার মানুষ। খুব আন্তরিক, ভদ্র এবং সাহায্যপ্রবণ। পথঘাট বা কোনো জায়গা নিয়ে কিছু জানতে চাইলে নিজের মতো করে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন—ভ্রমণে এমন মানুষ পাওয়া একটা জায়গাকে আরও আপন করে দেয়।
আমরা পুরোটা সময় নিজেদের গাড়িতেই ঘুরেছি। ঢাকার তুলনায় সিলেট শহর অনেকটাই শান্ত—ট্রাফিক কম, বাস বা প্রাইভেট গাড়িও তুলনামূলক কম; রিকশা আর সিএনজিই বেশি চোখে পড়েছে। আর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরটাও যেন ধীরে ধীরে নিজের দরজা বন্ধ করে দেয়। রাত ৮টার পর অনেক শপিং মল বন্ধ, ৯টার মধ্যে বেশিরভাগ দোকানও বন্ধ।
খাবারের মধ্যে পাঁচ ভাই আর পানসী—দুটো জায়গাতেই খাওয়া হয়েছে। খাবার খুবই সুস্বাদু, আর ঢাকার তুলনায় দামও বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে। তবে পাঁচ ভাইয়ের খাবারটা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে একটু বেশি ভালো লেগেছে। সিলেট যে শুধু চোখের জন্য সুন্দর, তা নয়—পেটের প্রতিও যথেষ্ট যত্নশীল। 😄
একটা বিষয় অবশ্য বুঝেছি—সিলেটের শহর থেকে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র বেশ দূরে। তাই একদিনে অনেকগুলো জায়গা দেখার চেষ্টা করলে আসলে জায়গাগুলো দেখা হয়, উপভোগ করা হয় না। আমাদের কাছে ভ্রমণ মানে শুধু একটার পর একটা স্পটের নামের পাশে টিক দেওয়া নয়। কোনো পাহাড়ের পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকা, ঝরনার শব্দ শোনা, সবুজের মধ্যে ধীরে হাঁটা—এসবও ভ্রমণেরই অংশ।
তাই সিলেটকে একটু সময় নিয়ে দেখতে হয়।
তবে যাত্রাপথের কথা বলতে গেলে একটা দীর্ঘশ্বাস থাকেই। সিলেট থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে সত্যিই মনে হয়েছে—সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলে যে একটা প্রতিষ্ঠান আছে, সেটা বিশ্বাস করাও কঠিন! 😄
রাস্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বেশ পুরোনো, কিন্তু সম্পর্কটা এই রাস্তায় আর খুব ভালো নেই।
রাস্তার অবস্থা যতই মন খারাপ করুক, চেষ্টা করেছি পথের দুপাশের সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে সেই খারাপ লাগাটুকু একটু ভুলে থাকতে।
সব মিলিয়ে সিলেট আমাদের জন্য খুব সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। হয়তো আরও সময় নিয়ে এলে আরও অনেক কিছু আবিষ্কার করা যেত। কিছু জায়গা একবারে দেখা যায়, কিন্তু পুরোপুরি অনুভব করতে ফিরে আসতে হয়।
আর আমাদের ক্ষেত্রে একটা জায়গার কথা আলাদা করে বলতেই হয়—
বান্দরবনের গহীন এখনও আমাদের দুজনের সবচেয়ে প্রিয়।
সিলেটসহ অনেক জায়গাই আমাদের ভালো লাগে, কিন্তু পাহাড়ের একেবারে গভীরে গিয়ে প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে থাকার যে আনন্দটা বান্দরবন আমাদের দেয়, সেটা এখনও অন্য কোথাও ঠিক সেভাবে পাইনি।
হয়তো ভ্রমণের সৌন্দর্যটাই এখানে—সব জায়গা নিজের মতো সুন্দর, কিন্তু কিছু জায়গা শুধু সুন্দর নয়, মনের খুব কাছের হয়ে যায়।
সিলেট আমাদের কাছে তেমনই একটি নতুন সুন্দর গল্প হয়ে রইল।