20/05/2026
একবার ভাবুন তো মেয়েটাকে হন্য হয়ে খুঁজতেছেন। ফ্ল্যাটের সামনে পড়ে আছে আপনার ছোট্ট মেয়ের একটি জুতো। অপর জুতোটার কোনো খোঁজ নেই।
মনের ভেতর কু ডাক দিলো। আপনি পাগলের মতো পুরো বিল্ডিং ছুটে বেড়ালেন। একের পর এক দরজায় ধাক্কা দিলেন।
“আমার মেয়েকে দেখেছেন?”
সব দরজা খুললো।
শুধু পাশের ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ।
ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই।
ততক্ষণে আশেপাশের মানুষ জড়ো হয়েছে।
৯৯৯-এ ফোন করলেন।
পুলিশ এসে দরজা ভাঙলো।
তারপর—
যে দৃশ্যটা দেখা গেলো, সেটা কোনো বাবা-মায়ের জীবনে দেখার কথা না।
একটি ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুর নিথর দেহ পড়ে আছে মেঝেতে।
চারদিকে রক্তের ছাপ।
আর বাথরুমে পড়ে আছে সেই প্রিয় মুখটা—
যে মুখে জন্মের পর থেকে হাজারো চুমু এঁকেছিলেন।
যে চুলে নিজের হাতে তেল দিতেন, বেণী করে দিতেন,সেই চুল মুঠো করে টেনে এনেছে নরপিশাচ।
যেই মেয়েকে মানুষ করার স্বপ্ন ছিলেন।
মাথা উঁচু করে বাঁচবে— সেই আশা ছিলেন।
কিন্তু সেই মাথাটাই আজ আর দেহের সাথে নেই।
এদিকে খুনি পালিয়ে গেছে অনেক আগেই।
পেছনে রেখে গেছে একটি পরিবারের সারাজীবনের মৃত্যু।
শিশু লামিসা।
বয়স মাত্র ৭-৮ বছর।
বড়ো বোন প্রাইভেটে বের হলে দরজা দিয়ে সেও বাইরে আসে।
পাশের ফ্ল্যাটের আঙ্কেল ডেকে নেয় বাসায়।
এদিকে মা স্কুল পাঠাবে কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না।
আর যখন খুঁজে পেল তখন সে নিশৃংসতায় বলি হয়ে দুনিয়াতেই নাই।
পল্লবীর আজকের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো
বাংলাদেশে মেয়ে শিশু এখনও নিরাপদ না।
প্রতিদিন আমরা নতুন নতুন লাশের খবর দেখি।
কখনও প্রতিবেশী,কখনও শিক্ষক,কখনও আত্মীয়,
কখনও বাড়িওয়ালা, কখনও দোকানদার—
কারো কাছেই যেন শিশু নিরাপদ নয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন?
এত বর্বরতার পরও অপরাধীরা বিচার পায় না দ্রুত।
আর বিচারহীনতা নতুন অপরাধ জন্ম দেয়।
খামখেয়ালি নয়। সব বাবা-মায়েদের বুঝতে হবে—
এখন আর সেই সময় নেই যে সন্তান বাইরে খেলতে গেলো আর নিশ্চিন্তে বসে থাকবেন।
আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কী দেখছে—সবকিছুর দিকে নজর রাখুন।
তাদের “গুড টাচ, ব্যাড টাচ” শেখান।
এমন সম্পর্ক গড়ে তুলুন, যেন ভয়ঙ্কর কোনো ঘটনা ঘটলেও সন্তান সবার আগে আপনাকেই বলতে পারে।
কারণ আপনি এমন এক সমাজে বাস করছেন,
যেখানে সতর্কতার বিকল্প নেই।
আজ লামিসা নেই।
গত সপ্তাহে ছিল ফাহিমা।
এর আগেও ছিল হাজারো নাম।
আমরা শুধু লাশের মিছিল দেখেছি।
কিন্তু থামাতে পারিনি।
এই রাষ্ট্র যদি শিশুদের নিরাপত্তা দিতে না পারে,
অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারে,
তাহলে বলুন—
এই দেশে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে সন্তান বড় করবো?
আজ যদি আপনার সন্তান নিরাপদে থাকে, শুকরিয়া আদায় করুন। কিন্তু ভুলে যাবেন না—এই নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
আপনার সন্তানের হাত শক্ত করে ধরুন।
কারণ এই পৃথিবীতে তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়— আপনি। শুধুই আপনি।
এ ছাড়া আর কেউ না💔
Ismot Jahan Lima