29/03/2026
কোলাহলযুক্ত শহরে কিংবা নির্জণ গ্রামের সবচেয়ে নিরীবিলী জায়গাটায় একটা বসতি আছে...।
কোন পর্যটক যায় না, কোন নেতা যায় না, সেথায় কোন মানুষের আনাগোনা নেই বল্লেই ছলে...!!
নেই কোন ঝগড়া-বিবাদের আসর...। নেই জাতের প্রভেদ...। মাঝে-মাঝে দু একটা নিথর দেহ গিয়ে জায়গা করে নেয় সেথায়...। সেটি মৃতদের স্থান,কবরস্থান...!
অতঃপর সেইদিন একটা নিম্নবিত্ত দেহের নির্বাসিত হওয়ার কারসাজি চলছিলো...। শেষ দেখাটা দেখতে গিয়েছিলাম...। সদর দরজায় ঢুকতে না ঢুকতেই শুনতে পেলাম নিকটাত্মীয়দের বুকফাটা আর্তনাদ...। মরহুমের মাথার সামনের চার-পাঁচটি আগরবাতি জ্বালানো, সাদা কাফনে চকলেটের মতো মোড়ানো দেহ...। আজ যেন সমস্ত দায়িত্ব থেকে মুক্তি তার...। সমস্ত হতাশা, না পাওয়ার যন্ত্রনা, সন্তানের চাহিদা মেটানোর অক্ষমতা সবকিছুর ছুটি...। পূর্ব পাশের ঘর থেকে ভেসে আসছে অনবরত কোরআনের ধ্বন্নী...।
সকাল গড়িয়ে মহ্নানে লাশটাকে কবর মুখী করা হলো...। বিদায় বেলা পালা করে কেউ কেউ কাদলো আবারো...। লাশটিকে তরুণরা কাঁধে করে নিয়ে গেল মসজিদ মাঠে...। জানাজা শেষে দাফন কার্যক্রম শুরুর জন্য নেওয়া হলো সেই নির্জন জায়গায়...। কিছু মানুষ নতুন কবরের পাশে গেল আর, কিছু মানুষ অন্য কবরগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল...।
ওদিকে একদল মানুষেরা একটা কবর খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল...! ওটা নাকি কোন এক প্রভাবশালীর কবর...। কিন্তু তবুও দু-হাত বেশী মাটি তাকে দেওয়া হয় নাই কেনো..? পাড় ভাঙ্গা কবরের দুই ধার শরতের মৃদু বাতাসে হেলে গেছে বাঁশের তৈরি বেড়া...। কবরের বুক ফাটিয়ে আশ্রয় বানিয়েছে একটা শেয়াল...! বেচে থাকলে হয়তো তার বসার ঘরেও ঠাই পেতো না ঐ শেয়াল, কিন্তু আজ তার শোয়ার ঘরে এসেছে তবুও হুস করে তাড়িয়ে দেয়ার কোনো উপমা নেই...!
আজ সে বড্ড অসহায়...। সমস্ত অহংকার যেনো উইপোকা খেয়ে নিয়েছে...।