08/08/2026
আপনি কি জানেন? আল্লাহর ইচ্ছায় এমন কয়েকজন শিশু ছিলেন, যারা খুব ছোট বয়সেই কথা বলেছিলেন!
এগুলো কোনো রূপকথা নয়। প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছিল সত্য প্রতিষ্ঠা, নির্দোষকে রক্ষা করা এবং মানুষের জন্য শিক্ষা রেখে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
১. হযরত ঈসা (আ.)
হযরত মারইয়াম (আ.) অলৌকিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতক শিশুকে নিয়ে নিজেরজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এলেন। মানুষ তাঁকে দেখে বিস্মিত হয়ে নানা অপবাদ দিতে শুরু করল। কেউ তাঁর কথা শুনতে রাজি ছিল না।
আল্লাহর নির্দেশে মারইয়াম (আ.) কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি শুধু কোলে থাকা শিশুটির দিকে ইশারা করলেন।
লোকেরা বলল, দোলনায় থাকা একটি শিশুর সঙ্গে আমরা কীভাবে কথা বলব?
ঠিক তখনই আল্লাহর ইচ্ছায় নবজাতক ঈসা (আ.) কথা বললেন এবং ঘোষণা করলেন, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। মুহূর্তেই মারইয়াম (আ.) এর নির্দোষিতা সবার সামনে প্রকাশ পেল।
২. জুরাইজ (রহ.) এর ঘটনার শিশু
বনী ইসরাঈলের যুগে জুরাইজ (রহ.) ছিলেন অত্যন্ত নেককার একজন ইবাদতগুজার। এক অসৎ নারী তাঁকে পাপের পথে টানতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। পরে সে অন্য এক রাখালের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়ে মিথ্যা দাবি করল, এই শিশুর বাবা জুরাইজ।
মানুষ না জেনেই জুরাইজ (রহ.) কে অপমান করল, এমনকি তাঁর ইবাদতখানাও ভেঙে ফেলল।
জুরাইজ (রহ.) আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। তারপর শিশুটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাবা কে?
আল্লাহর ইচ্ছায় সেই ছোট্ট শিশু কথা বলে বলল, আমার বাবা ওই রাখাল। সঙ্গে সঙ্গে সত্য প্রকাশ পেল এবং জুরাইজ (রহ.) সম্মান ফিরে পেলেন।
৩. ইউসুফ (আ.) এর ঘটনার শিশুসাক্ষী
মিশরের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির স্ত্রী হযরত ইউসুফ (আ.) কে অন্যায় কাজে প্রলুব্ধ করেছিলেন। ইউসুফ (আ.) আল্লাহর ভয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে তাঁর জামা পেছন থেকে ছিঁড়ে যায়। পরে সেই নারী উল্টো ইউসুফ (আ.) এর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুললেন।
সত্য-মিথ্যা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ল।
তখন আল্লাহ এমন এক সাক্ষীর ব্যবস্থা করলেন, যে ছিল অল্পবয়সী শিশু। সে বলল, যদি জামা সামনে থেকে ছেঁড়া হয়, তবে অভিযোগ সত্য। আর যদি পেছন থেকে ছেঁড়া হয়, তবে ইউসুফ নির্দোষ।
যখন দেখা গেল জামাটি পেছন থেকে ছেঁড়া, তখন সবার সামনে ইউসুফ (আ.) এর নির্দোষিতা প্রমাণিত হলো।
৪. মা ও শিশুর বিস্ময়কর ঘটনা
এক মা তাঁর শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিলেন। এমন সময় এক ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি পাশ দিয়ে গেল। তাকে দেখে মা দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এর মতো বানিয়ে দিন।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শিশুটি বলল, হে আল্লাহ! আমাকে তার মতো বানাবেন না।
কিছুক্ষণ পর এক দুর্বল ও নির্যাতিত নারীকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে যেন তার মতো না করেন।
এবার শিশুটি বলল, হে আল্লাহ! আমাকে তার মতোই বানিয়ে দিন।
পরে আল্লাহর ইচ্ছায় শিশুটি জানিয়ে দিল, যাকে সবাই সম্মান করছে সে ছিল জালিম, আর যাকে অপমান করা হচ্ছে সে ছিল নির্দোষ। মানুষ বাহ্যিক অবস্থা দেখে বিচার করলেও আল্লাহ মানুষের অন্তর ও সত্য জানেন।
৫. আগুনের খাদে ঈমানদার মায়ের শিশু
এক অত্যাচারী রাজা ঈমানদারদের আগুনে নিক্ষেপ করছিল। এক মা নিজের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্তানের কথা ভেবে তিনি এক মুহূর্ত দ্বিধায় পড়লেন।
ঠিক তখনই আল্লাহর ইচ্ছায় কোলে থাকা শিশুটি কথা বলে উঠল,
মা, ধৈর্য ধরুন। আপনি সত্যের ওপর আছেন।
এই কথায় মা সাহস পেলেন এবং ঈমান থেকে একচুলও সরে দাঁড়ালেন না।
এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায়, সত্য কখনো মিথ্যার কাছে হার মানে না। মানুষ ভুল বুঝতে পারে, অপবাদ দিতে পারে, কিন্তু আল্লাহ যখন সত্য প্রকাশ করতে চান, তখন একটি নিষ্পাপ শিশুকেও সেই সত্যের সাক্ষী বানিয়ে দেন। তাই জীবনের যেকোনো পরীক্ষায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী।
বউ শাশুড়ী'র কিচেন 🤍🌹
#ইসলামের_গল্প #ইসলামিক_জ্ঞান #বউশাশুড়িরকিচেন