21/02/2023
www.payraconstruction.com
বাড়ি বানানোর সময় চারপাশে জমি ছাড়লে,
“এর সুবিধা বাড়ির মালিকই পাবেন"
বহুতল বসতবাড়ি বানাতে হলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা বিএনবিসি’র নিয়মকানুন মেনেই বাড়ির নকশা করতে হবে। অন্যথায় জীবন ও পরিবেশ দুটোই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
বাড়ি বানানোর সময় বিএনবিসি অনুযায়ী ‘ম্যাক্সিমাম গ্রাউন্ড কভারেজ’ বা এমজিসি’র একটি চার্ট অনুসরণ করতে হয়। এতে জমির আকার অনুযায়ী কী পরিমাণ জায়গা ছেড়ে কয়তলা ও কত বড় ভবন নির্মান করা যাবে, সেটা উল্লেখ করা আছে।
যেমনঃ — যদি জমির পরিমাণ দুই কাঠার মধ্যে হয় তবে জমির মালিক শতকরা ৬৭.৫ ভাগ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তাকে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জমি ছেড়ে বাড়ি বানাতে হবে।
তবে, তিনি ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ বা ‘ফার’ পাবেন ৩.১৫। মানে, ২ কাঠা জমি x ৩.১৫ ফার = ৬.৩০ কাঠার জমির সমপরিমাণ জায়গা ভবনে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
জমির আয়তন যত বেশি ‘ফার’ও তত বেশি হয়।
তবে বাড়ি বানানোর সময় চারপাশে জমি ছাড়লে, “এর সুবিধা বাড়ির মালিকই পাবেন। “নিয়ম মেনে বাড়ি বানালে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ পায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বাসায় থাকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ।
এছাড়া, “বিল্ডিং কোড নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে। এজন্য বাড়ি বানানোর সময় জমির চারপাশ থেকে কিছুটা অংশ বাদ দিয়ে বহুতল বাড়ি বানাতে হয়। ফলে বর্ষার সময় বৃষ্টির পানির মাধ্যমে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ হয়।
“এছাড়া সবাই যদি চারপাশে জায়গা খালি না রেখে বাড়ি বানায় তাহলে ভবিষ্যতে মাটির ভেতরকার পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে। বলা যেতে পারে একটা ফাঁপা জায়গার উপর ঢাকা শহর দাঁড়িয়ে থাকবে।
এটা যে কত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় একটু ভাবলেই বোঝা যাবে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে।”
একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, জমির আকার যত বড় হয় তত বেশি (ফার) পাওয়া যায়। ‘মেক্সিমাম গ্রাউন্ড কভারেজ’ও তখন কমতে শুরু করে।
ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়ি বানানোর আগে সরকার অনুমোদিত স্থপতির মাধ্যমে তৈরি করা নকশার অনুমতি নিতে হবে।
নির্মাণ কাজ শেষে সেই স্থপতি এই মর্মে সম্মতি জ্ঞাপন করবেন যে, তার দিক-নির্দেশনামতো বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী কোনো বিষয়ে নিয়মকানুন অনুসরণ না করার জন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি দায়ী থাকবেন।
লেখা--
ড. জেবুন নাসরিন আহমদ
অধ্যাপিকা,স্থাপত্য বিভাগ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়