28/07/2025
বাচ্চাটা অস্বাভাবিক রকমের ফর্সা। আমাদের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসছে। দাঁত দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। ভয়ে শরীর হিম হয়ে যাচ্ছে। হার্ট এটাক করার উপক্রম। এবার বাচ্চাটি ভয়ংকর সুরে হাসতে লাগল। এ হাসিটা আরও বেশি ভয়ে ফেলে দিচ্ছে আমাদের। ভয়টা কাটতে না কাটতেই বাচ্চাটি হাসতে হাসতেই আবার মিলিয়ে গেল।
পিয়াস কাঁদতে কাঁদতে বলল
"পাপের গড়া পূর্ণ করতে এত বড়ো লোভ করেছিলাম। জানিনা আর কী আছে কপালে। ঐ লাশ/টা একটা স্বনামধন্য পরিবারের মেয়ের। ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিক চৌধুরির একমাত্র মেয়ে রুনা চৌধুরির। ওদের টাকা পয়সা কোনো কিছুর অভাব নেই। রুনা মেয়েটা ছোটো থেকে তুখোড় মেধাবী ছিল। কলেজেরেই এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে সে ভালোবাসত। ছেলেটির নাম তীব্র। তীব্রও কলেজ টপার ছিল। মূলত পড়াশোনা নিয়ে কথা বলতে বলতেই তাদের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক তৈরী হয়। আর সে সুসম্পর্কটা রূপ নেয় ভালোবাসায়। তীব্র সবসময় ভয়ে থাকত এটা নিয়ে যে, সাধারণ ঘরের ছেলে সে, তার সাথে রুনার বাবা রুনাকে বিয়ে দিবে না হয়তো। তবে রুনাকে ভীষণ ভালোবাসে তীব্র। এ আশঙ্কা যেন তাকে কুড়ে কুড়ে খেত। সে চাইত সারাজীবনের জন্য রুনা তার হোক।
দেখতে দেখতেই পার হয়ে গেল চারটি বছর। দুজনেই ভার্সিটির গন্ডি পার হয়েছে। তীব্র প্রায় সময় ডিপ্রেশনে থাকত। কারণ তার কোনো ভালো চাকুরি হচ্ছে না। এত এত সার্টিফিকেট , এত ভালো রেজাল্ট কিছুই যেন কাজে দিচ্ছে না। অথচ কত স্বপ্ন ছিল বাবা মায়ের জন্য ঘর করবে। অনেক বড়ো চাকুরি করে দেশ বিদেশে ঘুরবে। রুনাকে বিয়ে করবে। রুনাকে তার বাবা যেভাবে রেখেছে সেভাবেই সে রাখবে। কিন্তু কোনো স্বপ্নই তার পূরণ হচ্ছে না। সব স্বপ্ন এসে বাঁধা দিচ্ছে একটা জায়গাতেই আর সেটা হলো চাকুরি। রুনা অনেকবার তীব্রকে বলেছে তার বাবার কোম্পানিতে জয়েন হতে। সে রেফার করে দিবে। তবে তার আত্নসম্মানের সাথে বিষয়টি সাংঘর্ষিক।। এদিকে রুনার একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে। অন্য দিকে তীব্র এর কোনো চাকুরি হচ্ছে না। সব মিলিয়ে রুনাও মলিন হয়ে যেতে লাগল৷ মনে হচ্ছে তীব্রর সাথে এবার এ বিষয় নিয়ে কথা বলা জরুরি। তাই তীব্রর সাথে একদিন একটা খোলা জায়গায় বসল। বেশির ভাগ সময় তারা খোলা জায়গায় বসে। কারণ এতে তীব্রর খরচ হয় না। এ মুহূর্তে তীব্রর নিকট ১০০ টাকা খরচ করাও অনেক কঠিন। একটা পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছে তারা।৷ উপরে নীল আকাশ, সামনে লেক। তাদের কথোপকথন হওয়া উচিত ছিল রোমান্টিক তবে সেটা না হয়ে কথাগুলো হলো তিক্ততায় ভরা। রুনা তীব্রকে জিজ্ঞেস করল,
" তোমার কাছে তো আমি আগে তাই না তীব্র? আমি যদি আগে হই তাহলে কেন তুমি বাবার অফিসে জয়েন করতেছো না? এতে বাবা তোমার কাছাকাছি হবে আর তোমার প্রতি সুধারণাও আসতে পারে। আর সবচেয়ে বড়ো বিষয় তোমারও একটা ইনকাম সোর্স হলো। আমিও বাবাকে তোমার কথাটা বলতে পারলাম। এভাবে যদি আমরা বসে থাকি তাহলে আমাদের জীবনে কিছু হবে না। আমার কথা না শুনলে তোমার এ বেকারত্ব তোমাকে গ্রাস করে নিবে। আর একদিন আমিই তোমার জীবন থেকে সরে যাব। বাবাকে আমি কী বলব? তুমি বেকার তাই তো? এটা কী কোনো পরিচয়? আমি পড়েছি জ্বালায়। এজন্য নিজের স্ট্যাটাসের সাথে মিলিয়ে প্রেম করতে হয়। তীব্র তোমাকে শেষ বারের মতো বলছি হয় বাবার অফিসে জয়েন করো নাহয় কোনো ভালো চাকুরি নিয়ে বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসো। না হয় আমি অন্য কোথাও বিয়ে করে ফেলব।"
রুনার কথা গুলো তীব্রকে বেশ আঘাত করল। সে কিছুটা রেগে গেল। রেগে গিয়ে বলে উঠল
"আমি তোমার জন্য আমার আত্মসম্মান বিক্রি করতে পারব না। আমি তোমার বাবার গোলাম হতে পারব না। এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে, কলেজ টপার হয়ে এখন আমাকে রেফারে চাকুরিতে ঢুকতে হবে? তোমার যদি বিয়ে করার হয় করে ফেলো অন্য কাউকে। আমি কি জোর করে তোমার সাথে প্রেমে গিয়েছি? তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে। আর ব্যক্তিত্ব দেখেই তুমি প্রেমে পড়েছিলে। আর এখন সে ব্যক্তিত্ব আমি বিসর্জন দিতে পারব না।"
কথাগুলো বলে তীব্র চুপ হয়ে গেল। তার কপাল থেকে বিন্দু বিন্দু ঘাম বেয়ে পড়ছে। বেশ কষ্ট পেয়েছে বুঝায় যাচ্ছে৷ কিন্তু রুনা তাতে ভ্রূক্ষেপ করল না। তার কাছে এখন তীব্রর এ একঘেয়েমি ভালো লাগছে না। কারণ তীব্র তাকে উপেক্ষা করছে এটাই তার মনে হচ্ছে। সে কিছুটা রাগান্বিত গলায় বলে উঠল
"তোমার এ ইগোই তোমার থেকে আমাকে আলাদা করে দিল। যে ব্যক্তিত্ব দেখাতে গিয়ে বাপ, মায়ের মুখে ভাত তুলে দিতে পারতেছো না, নিজের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে পারতেছো না। সে ব্যক্তিত্বকে আমি থুথু মারি। একটা সয়ম আমি তোমার ব্যক্তিত্ব দেখে ভালোবেসেছিলাম৷ আজকে তোমার ব্যক্তিত্বকেই আমি ঘৃনা করছি। আমি বিয়ে করে নিব। আর চাই না তোমার ভালোবাসা, তোমার বউ হতে। টাকার বিছানায় ঘুমালে আর সারাদিন মজ,মাস্তিতে মেতে থাকলে তুমি একটা তীব্র কেন? হাজারটা তীব্রকে আমি ভুলে যেতে পারি।"
কথাগুলো বলে রুনা চলে গেল।।তীব্র নিজের চুল নিজে টানতে লাগল।।জীবনের সমস্তটা দিয়ে সে পড়াশোনা করেছে। ভালো রেজাল্ট করেছে। আর সে সবকিছুই তার জীবনের সুখের বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পড়ালেখা না করলে রিকশা চালিয়ে খেতে পারত। এখন সেটাও পারছে না চক্ষুলজ্জার কারণে। বাবা মায়ের স্বপ্ন তো দূরে থাক, নিজের স্বপ্নের নাগালেই সে যেতে পারছে না। এসব ভেবে নিজের কপালে দুই হাতের মুষ্টি দিয়ে সে আঘাত করতে লাগল। আঘাত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একটা সময় থেমে গেল।
সেখান থেকে উঠে সে তার বাড়িতে ফিরে আসলো। রুনার প্রতি তার ভীষণ ভালোবাসা আছে তবে রুনার এ কথাগুলো সে নিতে পারছে না। মনের গহীনে আত্মহননের অনেক কিছুই ঘুরছে। তবে সাহস করে সেটাও পারছে না।
দিন কাটতে লাগল। তীব্রর ডিপ্রেশন আরও বাড়তে লাগল। রুনাকে তার ভীষণ মনে পড়তে লাগল। নিজের আত্মসম্মানের জন্য সে রুনাকে কলও দিচ্ছে না। তবে তাকে ভুলে থাকতেও সে পারছে না। আজকে নিজের সাথে যুদ্ধ করে পারল না। নিজের তথাকথিত আত্মসম্মানকে বিলিয়ে দিয়েই সে রুনাকে কল করল। আর ওপাশ থেকে শুনা গেল অবাক করা কিছু বিষয়। এ অবস্থায় সে কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না.....
#পর্ব- ৪
তীব্র জানতে পারল আজকে রুনার বিয়ে। রুনা অবশ্য তীব্রর উপর জেদ করে বিয়েটা করছিল। তবে তীব্র কল দেওয়াতে রুনার সকল জেদ পানি হয়ে যায়। রাগের বরফটা গলতে শুরু করে। সে তীব্রকে বলে উঠল
"আমি তোমাকেই চাই। এ বিয়ে ভাঙা সম্ভব না। তবে আমি তো পালিয়ে আসতে পারব। তুমি আজকেও আত্মসম্মানের কথা তুলে আমাকে ফিরিয়ে দিবে? নাকি আমাকে নিয়ে যাবে এখান থেকে? আজকে তোমার একটা সিদ্ধান্তই আমার জীবনের মোড় ঘুরাতে পারে। হয় আজকেই আমি তোমার সাথে পালিয়ে বিয়ে করব নাহয় বাবার পছন্দমতো ছেলে বিয়ে করব। তুমি জানাও তুমি কী করবে?"
তীব্র তখন এক নিঃশ্বাসে বলল
"আমি তোমাকে চাই। তুমি কোথায় থাকবে বলো আমি সেখানেই আসব।"
রুনা যেন খুশিতে আত্মহারা। তীব্র তার কথাটা মেনে নিয়ে এভাবে বিয়েতে রাজি হবে চিন্তাও করতে পারে নি। সে খুশির কান্নায় ভেসে গেল। ভাঙা গলায় উত্তর দিল
"আমি এখন পার্লারে সাজতেছি। আমি সাজ শেষ করে গাড়ি করে তোমার কাছে চলে আসব। তুমি তোমার সাথে রেহান আর জোবানকে রেখো। তাদের বিয়ের সাক্ষী বানাতে হবে। এরপর আমরা দূরে কোথাও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকব৷ বাবা যখন মেনে নিবে তখন ফিরে আসব। এক মাস চলার জন্য এক লাখ টাকা আমি সাথে করে নিয়ে আসব। তুমি একদম চিন্তা করো না৷ সময়ের সাথে সাথে সব সুন্দর হয়ে যাবে। রাতে বিয়ের আয়োজন। আমি এখান থেকে সন্ধ্যার পর বের হব৷ একটা বোরকা পরে বের হব৷ তোমরা একটা নিরিবিলি জায়গায় থেকো।"
তীব্র রুনার সব কথা মেনে নিল। সে রুনার কথা মতো জোবান আর রেহানকে সাথে নিয়ে রমনা পার্কের এক কোণে অপেক্ষা করছে। তীব্র জানে রুনার এ নিঁখোজ হওয়াটা অনেক বেশি প্রভাব ফেলবে। রুনার বাবা যদি জানে তীব্রর সাথে রুনা পালিয়েছে তাহলে রুনাকে কিছু করবে না তবে তীব্রকে ঠিকই খুন করে ফেলবে৷ তবে ভালোবাসার কাছে এখন সবকিছুই তুচ্ছ মনে হচ্ছে। অপেক্ষার প্রহর যেন তীব্রর কাটছে না। রুনাকে বারবার কল দিচ্ছে না। রুনা কল তুলছে না। বিরক্তও হচ্ছে আবার টেনশনও করছে৷ কলে না পেয়ে একের পর এক মেসেজ দিতে লাগল। কিন্তু রুনার কোনো পাত্তায় পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে কেউ একজন তীব্রর হাত ধরে ফেলল। তীব্র পাশ ফিরিয়ে লক্ষ্য করল একটা বোরকা আর নিকাব পরা মেয়ে। রুনাকে চিনতে তীব্রর একদম কষ্ট হয়নি। রুনার চোখ দুটো তার বড্ড চেনা। সে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল
"রুনা তুমি কী সবসময় মজা নাও। এ সিরিয়াস মোমেন্টেও তুমি মজা করছো। ইচ্ছা করে কল তুলছো না আমাকে টেনশন দিতে তাইতো? আমি কতটা চিন্তা করছিলাম তুমি জানো?"
রুনা তীব্রকে ধরে বলল
"আমি সরি। একদম বুঝতে পারি নি। তবে ঢাকায় থাকা আমাদের জন্য বিপদজনক। আমাদের ঢাকা ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে বিয়ে করা দরকার। ঢাকায় বিয়ে করলে কোনো কোনো ভাবে বাবা আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে।
ঠিক তখন রেহান বলে উঠল
" একটা কাজ করি। তোরা সবাই আমার নানুবাড়ি চল। নানুরা সবাই বিদেশে স্যটল। বাড়িটা এভাবেই পড়ে আছে। আমরা মাঝে সাঝে যাই। বাঙলো বাড়ি নানুদের ঐটা। পাহাড়ের মাঝখানে করেছে।"
এরপর তারা সবাই রেহানের কথায় একমত হলাম। সেদিনেই একটা গাড়ি করে রওনা দিল তারা। রুনা বোরকা নিকাব খুলেনি। কারণ যে কেউ তাকে চিনে ফেলতে পারে। তাই বোরকা পরে থাকায় সবচেয়ে উত্তম বুদ্ধি ছিল। সে সাথে রুনা তার মোবাইলটাও ঢাকায় ফেলে রেখে গিয়েছিল। যাতে করে সবাই মনে করে সে ঢাকাতেই আছে। ট্র্যাক করলেও যেন লোকেশন ঢাকাতেই দেখায়।
তাদের গাড়ি রওনা দেয় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে৷ সেদিন রাত, পার হয়ে প্রায় ১৭ ঘন্টা লাগল তাদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছাতে। ঠিক এ জায়গায়টাতেই তারা আসে। আর এটা রেহানের নানু বাড়ি। তারা পৌঁছায় ঠিক বিকেল ৫ টার দিকে৷ এখানে পৌঁছে রুনা তার বোরকা খুলে। তীব্র রুনাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। এত সুন্দর লাগছে তাকে। বেনারসি শাড়ি পরা সে সাথে গা ভর্তি গহনা। সব মিলিয়ে তাকে যেন পরীর মতো লাগছে। ঠিক যেন একটা লাল পরী। রেহান আর জোবানও রুনার দিকে হা করে তাকিয়ে রইল। রুনা সবসময় অগোছালো হয়ে থাকত। আজকে তাকে এত পরিপাটি দেখে দুজনের চোখই যেন ছানাবড়া। জোবান মুগ্ধ কণ্ঠে বলল
"দোস্ত তোকে অনেক সুন্দর লাগতেছে৷ এ গহনা গুলো কী সোনার?"
রুনা হেসে বলল
"একদম খাটি সোনা। এখানে ১২০ ভরি গহনা আছে। বাবার একমাত্র মেয়ে বলে কথা। আমি তো পার্লারে সব গহনা নিয়ে গিয়েছিলাম সাজার জন্য। সেখান থেকে রেডি হয়ে চলে আসি। সাথে শুধু এক লাখ টাকা নিয়ে আসি। গহনার কথা বলিনি কারণ তীব্র এটাতে রাজি হত না। তবে আমি নিয়ে এসেছি সেফটির জন্য। যাইহোক আমি একটু ফ্রেশ হয়ে গহনা খুলে রাখছি। কাল বিয়ের সময় মন চাইলে পরব নাহয় এগুলো এভাবেই রেখে দিব। সবগুলো গহনা মায়ের। অনেক স্মৃতি মিশে আছে।"
রুনা কথাগুলো শেষ করে গহনা গুলো খুলে বিয়ের উড়নায় মুড়ে নিল। এরপর ফ্রেশ হয়ে ঘরে এসে বসল। রাতে চারজন মিলে একসাথে খাবার কিনে আনল। একসাথে খেল। বেশ মজা করেই তাদের সময় কাটতেছিল। তবে বিপত্তি ঘটে মধ্যরাতে। এলাকার একজন এ বাড়িতে আলো দেখে জানতে পারে রেহান এবং তার বন্ধুরা এসেছে। আর একটি মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছে। এবং তারা এটাও জানতে পারে মেয়েটির সাথে ১০০ ভরি গহনা আছে। এটা জানার পর সে লোকটি আরও কয়েকজন লোক নিয়ে এ বাড়িতে ডাকাতি করতে আসে। আর এসেই তারা প্রথমে রুনার গলায় ছুরি ধরে। ছুরি ধরে ক্ষ্যান্ত হয়নি। বরং তারা রুনাকে খুন করে ফেলল।
ঘটনা এতটুকু শুনে তোমার হয়তো মনে হতে পারে এখানে ডাকাতদের করা ভুলে রুনার আত্মা এখানে আটকা পড়েছে। কিন্তু তা' না। সঠিক ঘটনা হলো। রেহান আর জোবান মিলেই ডাকাত দলের সাথে যোগাযোগ করে এ গহনাগুলোর জন্য। তাদের টার্গেট ছিল ডাকতরা গহনা চুরি করে নিয়ে যাবে তারপর তাদের মাঝে সমানভাবে ভাগ হবে৷ তবে এ পরিকল্পনায় তীব্র জড়িত ছিল না। এদিকে ডাকাত দল এসে পরিস্তিতির সাথে সামলে উঠতে না পেরে রুনাকে খুন করে দেয়। খুন করার উদ্দেশ্য যদিও তাদের ছিল না৷ রেহান আর জোবান তখন ডাকাতদের বলে উঠল
"আমরা তো রুনাকে খুন করতে বলিনি। শুধু বলেছি গহান চুরি করতে। খুন কেন করলেন?"
তীব্র এ কথাটা শুনার পর বুঝতে পারে রুনার খু'নের সাথে তারা জড়িত। তাই রাগে ক্ষোভে তাদের কিছু বলতে গেলে জোবান তাকে ধরে ঠান্ডা করে। এরপর তাকে বুঝায় সে যদি এখন রাগের মাথায় কিছু করে এতে তার ক্ষতিই হবে লাভ না। খুনের দায়ে পুলিশ তাকেও ধরবে৷ কিন্তু সে যদি তাদের সাথে হাত মিলিয়ে রুনার লাশটাকে পুঁতে ফেলে। মুখ বন্ধ রাখে তাহলে কোটি টাকার গহনায় তারও ভাগ আসবে। তার বাবার স্বপ্ন পূরণ হবে৷ রুনা তো আর ফিরে আসবে না। যা হবার তা তো হয়েই গিয়েছে। এখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলে সে কী করবে।
জোবানের কথায় তীব্রও লোভে পড়ে গেল। তার আত্মসম্মান সামান্য কয়টা গহনার কাছে বিক্রি হয়ে গেল। এরপর তারা রুনাকে নিয়ে যে জায়গায় আমরা লাশটা পেয়েছি সে জায়গায় পুঁতে দিয়েছিল। তুমি জানো এটা কবের ঘটনা?
এ প্রশ্নের প্রতিউত্তরে আমি পিয়াসকে প্রশ্ন করতে যাব, এমন সময় আমার বুক কাঁপতে লাগল একটা বিষয় লক্ষ্য করে। তা হলো....
গহনা
#পর্ব- ৩ + ৪
শারমিন আঁচল নিপা
আগামী পর্বে গল্পটি শেষ করে দেয়া হবে। গল্পটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।