09/08/2026
বাবা :
বাবা নেই আজ তিনটি বছর হয়ে গেল কিন্তু মনে হচ্ছে এইতো সেদিনও বাবার সাথে কথা হল আমার বাবা একজন কিডনি রোগী পেশেন্ট ছিল তার ডাইলোজিস্ট চলছিল বাসায় থেকে গিয়ে দিয়ে আসতে যেদিন বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায় সেদিন বুঝতেও পারিনি বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে আমার বাবা মন থেকে খুব স্ট্রং ছিল সে এত অসুস্থতার মাঝেও কখনো ভেঙ্গে পড়েনি নিজের চলা নিজের গোসল সব সে নিজেই করেছে এমনকি যেদিন বাবা মারা যাবে হয়তো সে আগের থেকেই বুঝতে পেরেছিল মাকে বলছিল আমার নখগুলো কেটে দাও আমার মোচ টা একটু ছোট করে দাও উঠে বসতে কষ্ট হতো কিন্তু তারপরও সে নিজে নিজে গোসল করেছে মা সাহায্য করেছে আমার বাবা যখন মারা যায় তখন আমি প্রেগনেন্ট প্রায় নয় মাসের বেশি হয়ে গিয়েছিল বাবা যেদিন মারা যাবে তার দুইদিন আগে থেকেই মনটা কেমন জানি লাগতো আমার বাসা থেকে আমার বাবার বাসার দূরত্ব 5 মিনিটের ছিল আমি প্রতিদিন একবার দুইবার করে যেতাম শুধুমাত্র বাবাকে দেখার জন্য বাবা মারা যাবে তার আগের দিন স্বপ্নে দেখি অনেক বড় বড় পাতিলে রান্না হচ্ছে কিসের জানি আয়োজন হচ্ছে ঠিক সেটা বুঝতে পারেনি সকালে উঠে মনটা খুব ভারি হয়ে গেল তারপর সকালে আমার হাজব্যান্ড সহ একটু মার্কেটে গেলাম যেহেতু কিছুদিন পরে বেবি হবে বেবির জন্য কিছু কেনাকাটা করত মার্কেটে যাওয়ার পরে মা ফোন দিল মার ফোনটা দেখেই মনের ভেতরটা একটা কামড় দিল মা বললো কোথায় আছিস আমি বললাম একটু বাহিরে এসেছি বাসায় আসিস তোর বাবার শরীরটা ভালো না আর কিছু বলল না তারপর তাড়াতাড়ি কেনাকাটা শেষে বাসায় চলে আসলাম এসে দেখে আমার বড় আপু এসেছে কেন জানি বাবাকে দেখে আমার বুকটা ফেটে কান্না চলে আসছিল বাবা নাকি সকালে মাকে বলেছে আজকে আমার শেষ দিন রে যদিও বাবার মধ্যে তেমন একটা লক্ষণ দেখা যায়নি একটা মৃত্যু পথযাত্রীর যেরকম লক্ষণ থাকে বাবা আরো কিছু বলেছিল যার কারনে মা বলছিল তোর বাবা কেমন জানি করছে আবোল তাবোল বলছে এত সকাল থেকে অনেকক্ষণ বাবার পাশে ছিলাম এক মুহূর্তের জন্য বাবার কাছ থেকে দূরে সরিনী বাবা গোসল করালো তারপর আমি আর আমার বড় বোন বসে বাবাকে তওবা করালাম আরো দোয়া দরুদ পড়াতে থাকলাম বাবার ড্রাগন ফল খেতে চেয়েছিল তারপর তাকে ড্রাগন ফল কেটে দিয়েছে সে আমাকে আমার বড় বোনকে মাকে ভাবিকে আমার বড় মেয়েটাকে আমার ভাইয়ের মেয়েটাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে সে মোটামুটি ভালোই ছিল তাকে দেখে বোঝাই যায়নি সে সেদিন চলে যাবে তারপর মা আমাকে বলল যা বাসায় যা বাসায় গিয়ে গোসল করে পরে লাগে বিকেলের দিকে আয় কিন্তু কেন জানি এক মুহূর্তের জন্য বাবাকে ছেড়ে যেতে মন চাইলো না গেলাম না মাকে বললাম পরে যাব তারপর দুপুরে অনেকেই বাবাকে দেখতে তোমার হাজবেন্ড আর আমার ভাই খেতে আসলো বাবার পাশে বসলো বাবা তাদেরকে দোয়া করে তোলো আমার ছোট মামার কাছে ক্ষমা চাইলো তাকে দোয়া করলো সব ভালোই ছিল শুধু সকাল থেকে বাবার শ্বাসকষ্ট টা ছিল আমরা মনে করেছিলাম এটা হয়তোবা প্রতিদিনের মতোই কষ্টটা কিন্তু বিকেলের দিকে কষ্টটা একটু বেশি বেড়ে গেছে বাবাকে আমি সকাল থেকেই জিজ্ঞেস করছি করছিলাম বাবা কোন হাসপাতালে যাবেন চলেন আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না লারে কি হইছে আমার আমার কি কিছু হয়েছে নাকি তোরা এত টেনশন করতেছিস কেন কিন্তু বিকেলের পরে যখন বেশি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তখন জিজ্ঞাসা করার পরে বলল কুর্মিটোলাই যাবে যেখানে বাবা ডায়ালোজিস নাই সাথে সাথে ভাইকে আর আমার হাজব্যান্ড কে ফোন দিলাম ওরা বাহিরে চলে গিয়েছিল কাজের জন্য বললাম বাবা হাসপাতালে ভর্তি হতে চেয়েছে অক্সিজেন ম্যানেজ করতে হবে শ্বাসকষ্ট বেশি হচ্ছে তারপর আমার বোন নেবুলাইজার নিয়ে আসলো ভাবলো একটু গ্যাস দিয়ে দেখ শ্বাস কষ্টটা কমে কিনা ঠান্ডার কারণে যে কষ্ট হচ্ছে তারপর গ্যাস দেওয়ার জন্য সব রেডি করল বাবা বিছানা থেকে উঠে ড্রয়িং রুমে সোফার উপর গিয়ে বসলো এরমধ্যে অল্প কিছুক্ষণ গ্যাস নিলো পরে আর নিতে চাইল না এরমধ্যে আমার বড় মামা আর খালু আসলো তাদেরকে বড় করে একটা সালাম দিল সালাম দিয়েই রুমে চলে আসলো মাও পিছন পিছন আসলো ফাইল রেডি করবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা বিছানায় গিয়ে বসেই একটা হেচকির মতো দিলো তখন তখন মা বলল কি হল সবাই দৌড়ে ঘরে গেলাম বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম আমি আর আমার বোন বাবুদের ড্রাগনটা খেয়েছিল সেটাই বমি করে ফেলেছে একদম লাল তোর মত বের হয়েছিল তারপর কান্নার হাজারী সবাই পানি খাওয়াতে লাগলো কিন্তু বাবা সেটা খেতে পারল না মুখ থেকে পড়ে যাচ্ছে বাবা শেষ নিশ্বাসটা আমাদের দুই বোনের কোলের মধ্যেই ত্যাগ করল আসলে পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত হচ্ছে নিজের সব চাইতে কাছের ভালোবাসার আপন মানুষকে নিজের চোখের সামনে দুনিয়ার ত্যাগ করতে দেখা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান দান করেন সাথে সাথে সকল কবরবাসী বাবা মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন
Send a message to learn more