21/10/2025
আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে পৃথিবীর সব বাবাকে বলতাম তাদের মেয়েকে একটা করে বাড়ি বানিয়ে দিতে।
বাবারা শখ করে মেয়েদেরকে স্বর্ণ-গয়না দেয়, আসবাবপত্র দেয়, প্রসাধনী কিনে দেয় অথচ দিনশেষে মেয়েদের দরকার হয় একটা ঘরের, একটা বাড়ির।
বিয়ের পর স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হলে কিংবা একটু ঝগড়া হলে স্বামী তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে, ছেলেমেয়ের সাথে দ্বন্দ্ব হলে তারাও বাড়ি ছেড়ে যেতে বলে
সবশেষে বাবার বাড়িতেও মেয়েদের ঠাঁই হয় না।
এদেশে স্বামী কিংবা ছেলেদের ঝগড়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে - ঘর থেকে বের হয়ে যাও এই কথাটা। কারণ তারা জানে মেয়েদের যাওয়ার মতো কোন ঘর নেই।
নীড় হারা পাখিরা যেমন শত ঝড়ঝাপটা সহ্য করে নিজ বাসাতেই ফিরে আসে ঠিক তেমনি মেয়েদেরকেও শত লাঞ্ছনা সহ্য করে ফিরতে হয় স্বামীর ঘরে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ে হোক কিংবা উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত মেয়ে হোক কষ্ট সহ্য করে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয় স্বামীর সংসারে।
পৈতৃকভাবে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি পেলেও মেয়েরা সে সম্পত্তির ছিটেফোঁটাও পায় না। মেয়েরাও ভাবে সম্পত্তির ভাগ আনলে হয়তো বাপ-ভাইয়ের কাছে আর কখনোই সমাদর পাবে না।
অথচ একজন বাবার উচিত তার মেয়ের ভাগটা বুঝিয়ে দেয়া। এতসব আহ্লাদী জিনিস কিনে দেয়ার চেয়ে মেয়েকে সাধ্যের মধ্যে একটা বাড়ি করে দেওয়া, মাথা গোঁজার একটা আশ্রয় দেয়া।
যাতে দিনশেষে কোন মেয়েকেই প্রচন্ড শীতের রাতে শুনতে না হয়- এক্ষুণি ঘর থেকে বের হয়ে যাও