19/05/2026
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন এবং হাদীসে এই দিনগুলোর ইবাদতকে সর্বোত্তম ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই মোবারক দিনগুলোতে বেশি বেশি জিকির ও তাসবীহ পাঠ করা আল্লাহকে স্মরণ ও জিকির বাড়ানো সুন্নত। বিশেষ করে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বেশি বেশি পড়া উচিত। হাদীস শরীফে এই দিনগুলোতে তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর অধিকভাবে পাঠ করার নির্দেশ এসেছে।তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) প্রত্যেক ফরয সালাতের পর একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং নারীরা মনে মনে বা নিচু স্বরে এটি পড়বেন
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"
এছাড়াও জিলহজ্জ মাসের ১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্জ বা আরাফাহর দিনের রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফাহর দিনের রোজা তার পূর্বের ও পরের—এই দুই বছরের গুনাহ খাতা মুছে দেয়। চুল, নখ ও পশম না কাটা
যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে নিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাদের শরীরের কোনো চুল, নখ বা চামড়া না কাটা মুস্তাহাব। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও নির্দেশ।
এই ১০ দিনে ফরয ইবাদতগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল সালাত (যেমন: তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত), কুরআন তিলাওয়াত এবং সাধ্যমতো দান-সদকাহ করা উচিত। এই দিনগুলোর সাধারণ ভালো কাজের সওয়াবও অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে (অথবা ১১ ও ১২ তারিখে) সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এটি ইব্রাহীম (আ.) ও আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি মহান সুন্নাহ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জিলহজ্জ মাসের এই বরকতময় দিনগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
Digital creator