31/08/2026
বাবা-মা দুজনেই জীবিত। কিন্তু এই বিচ্ছু ওর মা মৃত, বাবা আরেকটি বিয়ে করেছে। সৎ মা তন্ত্রমন্ত্র করায় তাকে ফেলে দিয়েছে। তাঁর দুনিয়ায় কেউ নেই। - এমনই গল্প রেলওয়েস্টেশনে সাংবাদিকদেরকে বানিয়ে বানিয়ে বলে ভাইরাল। সে গল্প ঝরিয়েছে মানুষের চোখের জল। খাইয়েছে বাপকে গালি।
মূলত মাদ্রাসায় পড়াশুনা করবে না বলে, জোর প্রয়োগ করায় বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
বাবা মা বোন সবাই আছে। ওর সন্ধান পেয়ে ঢাকায় এসেছে। এবার ঘরে ফেরার পালা।
মজার ব্যাপার ছেলেটা দেখতে আসলেই অনেক সুন্দর। তাই সাংবাদিক ভাবলো, যাই একটা ভিডিও বানাই। রাজপুত্র বলে ভিডিও বানিয়েছে।
অথচ প্রকৃতপক্ষে স্টেশনের সিংহভাগ পথশিশুই বাসা থেকে রাগ করে কিংবা পথ হারিয়ে যায় রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছে। এদেরকে প্রত্যেকের উপর রিপোর্ট করলে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই দায়িত্ব কেউ নেয় না।
দেখতে সুন্দর হলে পৃথিবীতে অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এই ছেলেটাও পেয়েছে। তাও ভালো হয়েছে। পথেঘাটে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চেয়ে অন্তত পরিবারের কাছে তো ফিরে যেতে পারছে।
তবে যে কাজ রাষ্ট্রের করার কথা, এদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা পুনর্বাসন। সেই কাজ রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে করে না।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আবু সালমান নামে এক ব্যক্তিকে দেখি সে এই দায়িত্ব নিয়েছে। রেলস্টেশনে থাকা হারিয়ে যাওয়া শিশুদের ভিডিও করে উনি ভাইরাল করে। উনার মাধ্যমে অনেক শিশুকেই দেখলাম পরিবারের কাছে ফিরে যেতে দেখেছি।
টিভি চ্যানেলগুলো চাইলেই আলাদা সাপ্তাহিক একটা অনুষ্ঠানই করতে পারে, এদের ঘরে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
একটা রিপোর্টে বলা হয়েছিলো, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ।
এত বিশাল একটা জনসংখ্যাকে সুন্দর জীবন না দিতে পারলে, নিরাপদ দেশ কীভাবে গড়বেন?
সে চিন্তা কী আমরা কখনও করেছি?