28/03/2026
আজ যে মেয়েটা এসেছিল, সে বিবাহিত।
তার হাতে সোনার আংটি। গলায় পাতলা চেইন। সবকিছু ঠিকঠাক।
দেখলে বোঝার উপায় নেই, তার ভেতরে একটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়া ঘর আছে।
সে বলল, “ডাক্তার সাহেব, আমার বুক ধড়ফড় করে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ভয় পান?”
সে বলল, “না… মানে… তেমন কিছু না।”
এই “তেমন কিছু না” কথাটা খুব ভয়ংকর।
ধীরে ধীরে কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম—
তার স্বামী খারাপ মানুষ না।
মারে না।
চিৎকার করে না।
খরচ দেয়।
সব দায়িত্ব পালন করে।
তবু মেয়েটা একা।
কারণ দায়িত্ব আর ভালোবাসা এক জিনিস না।
সে বলল না—
কথা বলতে গেলে স্বামী ফোনে ব্যস্ত থাকে।
বলল না—
তার পছন্দ-অপছন্দ কেউ জানতে চায় না।
বলল না—
রাতে পাশাপাশি শুয়েও দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য এক সমুদ্র থাকে।
সে শুধু বলল,
“আমি আগে এমন ছিলাম না।”
এই লাইনটা বলার সময় তার চোখে জল আসেনি।
বরং অদ্ভুত একটা শুকনো ভাব।
বিয়ের আগে সে হয়তো হাসত বেশি।
হয়তো গল্প করত।
হয়তো নিজের স্বপ্ন নিয়ে ভাবত।
এখন সে ভাবে—
গ্যাসের চুলা নিভল কি না।
বাচ্চার হোমওয়ার্ক শেষ হলো কি না।
শ্বশুরবাড়ির কারো মন খারাপ হলো কি না।
নিজের মন খারাপের খবর সে নিজেই রাখে না।
আমি প্রেসক্রিপশন লিখে দিলাম।
মৃদু অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি, কিছু ভিটামিন।
কিন্তু জানি—
ওর দরকার ছিল ওষুধ না।
ওর দরকার ছিল একটা মানুষ,
যে বলবে,
“তুমি বদলে গেছো। আগের মতো হাসো না কেন?”
বিবাহিত মেয়েদের কষ্টটা খুব নীরব।
কারণ তারা “অভিযোগ” করতে পারে না।
কারণ সমাজ বলে—
“স্বামী তো খারাপ না।”
খারাপ না মানেই কি যথেষ্ট?
রাতে বাসায় ফিরে মনে হচ্ছিল—
একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় দমবন্ধ হওয়া মুহূর্ত তখনই,
যখন সে বুঝে যায়—
তার জীবনে কোনো বড় সমস্যা নেই,
তবু সে সুখী না।
এই অসুখটার কোনো নাম নেই।
কোনো রিপোর্টে ধরা পড়ে না।
শুধু চোখের ভেতরে একটা নিভে যাওয়া আলো থাকে।
আর পৃথিবী ভাবে—সব ঠিক আছে।
collected