15/08/2026
আমার এক ছোটবোনের বাসায় চুরি হয়েছে। ৪৭৫০০ টাকা। তো বেশ ইন্টারেস্টিং কাহিনী! মজাও পাবেন। শিক্ষাও...
আমাকে নক দিয়েছে সমাধানের জন্য। তাঁর বিশ্বাস আমি চোরকে খুঁজে বের করে টাকা উদ্ধার করে দিতে পারবো। আমি শার্লক হোমস।
এবার সে বিস্তারিত বলতে লাগলো -
তো আমার বোনের হাজব্যান্ড রেগুলার দোকানের টাকা এনে ওর হাতে দেয়। আর সেও আলমারিতে লক করে রাখে। কিন্তু সেদিন হাজব্যান্ড তাকে না বলেই ৮২০০০ টাকা রাখে আলমারিতে।
পরদিন ওর হাজব্যান্ডের বন্ধুর বউ কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসে। সদ্য জন্ম নেওয়া বেবিকে নিয়ে এই প্রথম ওদের বাসায় ঘুরতে এসেছে। প্রথমবার দেখা।
বাচ্চার বাপ বলে, একদম সন্ধায় অফিস থেকে ফেরার পথে আপনাদের এখানে ডিনার করে ওদেরকে নিয়ে যাবো। ওর হাজব্যান্ডও চলে গেলো।
তো সেই বন্ধুর বউ ও বেবিকে অন্য রুমে না দিয়েই, এই গরমে নিজেদের বেডরুমে একটু আরাম ফিল করাতে নিয়ে বসায়। বেবিকে যাতে উনি কমফোর্টের সাথে ব্রেস্টফিড করাতে পারে।
দুজনে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে বোন রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করে। এই ফাঁকে কয়েকবার প্রয়োজনে আলমারি খুলেছিলো। আর আলমারির চাবি ঝুলানোই ছিলো।
তো হঠাৎ মহিলা তাকে জিজ্ঞেস করে, 'ভাবী! বেডরুমে সিসিক্যামেরা নাই তো?'
সে হেসে বলে, 'ধুর! বেডরুমে আবার সিসিক্যামেরা কে লাগায়?'
মহিলা বলে, 'আরেহ! অনেকে তো লাগায়। তাই ভাবলাম আপনারাও লাগিয়েছেন কীনা।'
ওদের দুজনের ছোট্ট সংসার। বাচ্চাকাচ্চা নেই। বাসায় কেউ এলে বেশ খুশি হয়। এই বন্ধুর বেবি হওয়ার সময় ওরা ৫ হাজার টাকা খুশিতে বকশিস দিয়েছিলো। খুবই ক্লজ বন্ধু ওর হাজব্যান্ডের।
তো রাতে ডিনার খেলো। দুই দম্পত্তি বাচ্চাসহ হাসিখুশি সেলফি তুললো।
চলে যাওয়ার পরদিন স্বামী-স্ত্রীর মাথায় হাত। একটা কাজে আলমারি খুলতে গিয়ে বোন দেখে ড্রয়ার হালকা খোলা। আর ড্রয়ারের ভেতরে টাকা এলোমেলো। তখন ওর হাজব্যান্ডকে রাগ দেখিয়ে বলে, এভাবে টাকা কেউ এলোমেলো করে রাখে? ভাজ না করে! টাকা রেখেছো আমাকে কেন বলোনি?
ওর হাজব্যান্ড বলে, আরেহ! আমি তো ঠিকভাবেই রেখেছিলাম।
সন্দেহ হওয়ায় টাকা হাতে নিয়ে গুনে দেখে ৮২ হাজার টাকা থেকে ৪৭৫০০ হাজার টাকা মিসিং!
খুবই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং বিব্রত হয়ে যায় দুজনেই।
বোনের সন্দেহ বন্ধুর বউ চুরি করেছে। কিন্তু এই টাকার কথা সে কীভাবে জিজ্ঞেস করবে মহিলাকে? কীভাবে ফেরত পাবে?
আমি খুব ব্যস্ত থাকায় তাকে বললাম, 'সিসিটিভির কথা হয়তো ব্রেস্টফিডিং করাবে , প্রাইভেসির জন্য বলেছে। যদিও বেডরুমে কে সিসি ক্যামেরা রাখে! মহিলাকে সরাসরি বলতেও পারবা না। বাই চান্স যদি না নেয়। অযথা কষ্ট পাবে। বিব্রতকর একটা সিচুয়েশন।'
এরপর আরও পরামর্শ দিতে যাবো... এর মধ্যে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আর পরামর্শ দিতে পারিনি।
গতকালকে নক দিয়ে জানতে পারলাম টাকা ঐ মহিলাই নিয়েছে এবং বোন টাকা উদ্ধারও করেছে। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে?
- ভাইয়া। এতগুলো টাকা হারানোর কারণে আমাদের মন বেশ মন খারাপ হয়ে যায়। কীভাবে উদ্ধার করবো বুঝতেছিলাম না। হঠাৎ বুদ্ধিটা এলো। আমি ফেসবুকে একটা স্টোরি দেই। লিখি -
'ভালোয় ভালোয় চুরি করা টাকাটা ফেরত দিয়ে দিন। একদিন সময় দিলাম। আমি জানি আপনিই নিয়েছেন। আলমারিতে ক্যামেরা ছিলো। আপনার চেহারাসহ সব রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। নক দিয়ে সরি বলেন। আর টাকা ফেরত দিন। আমি এই বিষয় নিয়ে আর কথা বলবো না। মাফ করে দিবো। নইলে ভিডিও আপলোড করে দিবো। কাউকে আর মুখ দেখাতে পারবেন না।'
And guess what? কাজ হয়েছে। ঐ মহিলা স্টোরিটা সিন করে। কিন্তু কিছু বলে না। চব্বিশ ঘন্টা পার হওয়ার আগে নক দিয়ে জানায় জরুরী কথা বলার আছে।
মেসেজ দিয়ে বলে, 'ভাবী। আপনি বিশ্বাস করবেন কীনা জানিনা। আমার সাথে নাকি জ্বীন আছে। এই জ্বীন আমার হাতের আংটি পর্যন্ত চুরি করেছে। হয়তো সেদিন আপনার বাসা থেকেও ঐ জ্বীনই চুরি করেছে। আপনার ঠিক কত টাকা চুরি হয়েছে বলুন? আমি ফেরত দিয়ে দিবো।'
আমি জবাবে বলি, 'তুমি নিয়েছো? আর জানো না ঠিক কত টাকা?'
- 'সত্যি ভাবী। আমি জানিনা কত টাকা। প্লীজ বলুন।'
'৪৭৫০০ টাকা। বিকাশ নাম্বার দিচ্ছি ফেরত দাও।'
- 'এত টাকা? একটু সময় দিন। আমার কাছে নেই। একসাথে দিতে পারবো না। ভেঙ্গে ভেঙ্গে ফেই?'
'কোন সময় হবে না। দ্রুত দিতে হবে।'
এরপর মহিলা বললো, ওর বড় ভাইয়ের সাথে নাকি আলাপ করেছে। বড় ভাইয়ের থেকে নিয়ে টাকা ফেরত দিবে। পরে ফেরত দেয়।
আমি বোনের বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ। ওর হাজব্যান্ড নাকি বেশ বিব্রত। বন্ধুর বউয়ের এই রূপ দেখে। বলছে, কীভাবে এই বন্ধু আর বউয়ের মুখোমুখি আবার হবে?
আমি বলছি ওর বন্ধুকেও বলে দিতে ব্যাপারটা। এরকম মানুষকে আসলে মাফ করা উচিত না। কত বড় কলিজা আর অমানুষ হলে, এত আদর আপ্যায়নের পরেও কারো বাসায় প্রথমবার গিয়ে এভাবে চুরি করে? আবার জ্বীনের নাটক সাজালো।
এমনও তো হতে পারতো, আমার বোন রান্নাঘর থেকে রুমে ঢুকে দেখে মহিলার হাতে টাকা। হাতেনাতে ধরে ফেলায় মহিলা ভয় পেয়ে নিজেকে বাঁচাতে বোনকে মেরে ফেলতো? এত সহজে কাউকে মাফ করলে সে আবার অন্য কারো বাসায় গিয়ে একই অপরাধ করবে।
ওর হাজব্যান্ড বলছে, থাক। বন্ধুকে বললে খুব কষ্ট পাবে।
এই মহিলার ছবি দেখলাম, হিজাবি। ডিনার করে যাওয়ার আগে কী হাসিখুশি চারজনে বেবিসহ সেলফি তুলেছে। আপনি তাকে দেখলে কল্পনাও করতে পারবেন না, সে এই কাজ করেছে। অথচ কত বড় অপরাধ করে বসে আছে।
বিশ্বাস ছাড়া এই পৃথিবীতে সত্যি বলতে বেঁচে থাকা কঠিন। তবে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। বিশ্বাসেরও একটা সীমারেখা থাকা উচিত।
আপনার ঘর ও বেডরুমের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখুন, সে যতই আপনজন হোক না কেন। একটু সতর্ক থাকুন। তাহলে হয়তো এমন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কখনো পড়তে হবে না।
আর এই জ্বীন-ভূতে-শয়তানের কথা বলে কত রকমের ভন্ড-প্রতারক-বাটপার যে এই দুনিয়ায় আছে। নিজের অপকর্মের দোষ এদের উপর চাপিয়ে দিয়ে রক্ষা পেতে চায়।
আপনারা কী মনে করেন! এরকম মানুষের সাথে আর বন্ধুত্ব রাখা উচিত? মহিলার হাজব্যান্ডকে বলে দেওয়া উচিত?
© অন্তর মাশঊদ