26/03/2026
বাসে উঠবেন, বাস গতি হারিয়ে নদীতে পড়ে যাবে।
লঞ্চে উঠতে যাবেন, দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে পিষ্ট হবেন।
প্রাইভেট কারে উঠে জাস্ট বসে থাকবেন, পেছন থেকে ট্রাক এসে ধাক্কা মারবে।
এসব কিচ্ছু করবেন না। শুধু রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবেন, নির্মিতব্য কোনো ভবন থেকে ইট আপনার মাথায় পড়ে মরে যাবেন।
কিংবা হাঁটবেনও না। চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাবেন, মাথার ওপর থেকে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে আপনার মগজ আপনার চায়ের সাথে মিশে যাবে।
সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন। কোনো একটা বিমান বিদ্ধস্ত হয়ে সেই স্কুলের ওপরেই পড়বে আর আপনার সন্তান পিঠে দাউদাউ করা আগুন নিয়ে ছোটাছুটি করবে।
আপনি কাজ করতে যাবেন কলকারখানায়। আগুন লাগবে, বিল্ডিং ধ্বসে পড়বে।
মোটকথা, আপনি মরবেনই। ঘাটে, মাঠে, রাস্তায়, আকাশে, নদীতে- কোথাও আপনার নিস্তার নাই।
এর সমাধান হলো, বের হবেন না। ঘরের ভেতরেই থাকবেন।
বসে বসে কবিতা পড়বেন:
"নন্দ বাড়ীর হত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ী, কি জানি কখন উল্টায় গাড়ীখানি;
নৌকা ফি সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে ‘কলিশন’ হয়;
হাঁটিতে সর্প, কুক্কুর আর গাড়ী-চাপা পড়া ভয়;"
তারপর বুঝে ওঠার আগেই দেখবেন আপনার কপাল নন্দলালের চেয়েও খারাপ। কারণ ঘরের ভেতরেই হয় গ্যাস সিলিন্ডার বার্স্ট হয়ে, নয় অন্য কোনোভাবে আগুন লেগে আপনি মারা যাবেন।
আপনার মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত হবো, বিশ্বাস করুন!
খুব ব্যথিত হবো। আপনার মৃতদেহের ছবি টানা দুদিন আমাদের চোখে ভাসবে। আপনার প্রিয়জনদের আহাজারি আমাদেরকে কয়েকটা রাত ঘুমাতে দেবে না। আমরা জানবো, আজ আপনি গেলেন, কাল আমাদের পালা।
আপনার, এবং আমাদের দোষ একটাই- এই মৃত্যু উপত্যকাই আমাদের দেশ। মরে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোথাও যাওয়ার নেই।