15/03/2024
মানুষকে খুশি করার কিছু চমৎকার উপায়!
***************************************
মানুষকে খুশি করা, মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠা কি খুব কঠিন? আপনার কী মনে হয়? আসলেই কি মানুষকে খুশি করতে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়?
আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এমন কিছু চমৎকার জিনিসের কথা যেগুলো মানুষের প্রিয় হয়ে উঠতে, মানুষকে খুশি করতে অনেক সাহায্য করবে। আবার এই জিনিসগুলো একেবারেই ফ্রি!
কী সেগুলো? চলুন জেনে নেই!
১। সালাম - কখনও নিজের বাসার দারোয়ান কিংবা সিএনজি বা রিকশাওয়ালা মামাকে সালাম দিয়েছেন? কখনও বাসার নিচের দোকানের মামাকে সালাম দিয়ে তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করেছেন? দিয়ে দেখুন একবার! দেখবেন আপনি তাদের কতটা আপন হয়ে গেছেন। আর সালাম দেওয়ার পর ওই মানুষগুলো যে ভুবন ভোলানো প্রাণখোলা হাসিটা ফেরত দেয় সেই হাসিটা আপনার দিন গড়ে দিতে যথেষ্ট। আর এই অমূল্য হাসিটা পেতে কী প্রয়োজন? শুধু তাদেরকে একটা সালাম দেওয়া।
এই সালাম কিন্তু ফ্রি!
২। সম্মান - কথিত আছে, সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়। তাই আপনি যদি সম্মান প্রত্যাশা করেন তাহলে সম্মান করতে শিখুন। পৃথিবীতে যত প্রতিষ্ঠিত আর সম্মানিত মানুষ আছেন তারা সবাইকে সম্মান করেন। সবার মতামতকে সম্মান দিতে জানেন। আর এই সম্মান দেওয়ার অভ্যাস আপনাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলবে।
আর এই সম্মান করতেও কিন্তু অর্থের প্রয়োজন হয় না।
৩৷ স্নেহ - বড়দেরকে যেমন সম্মান করতে হয় তেমনি ছোটদেরকেও স্নেহ করতে হয়। ছোটরা সরল, অবুঝ আর অনুকরণপ্রিয়। ওরা তাই শিখবে যেসব ওদের আশেপাশের বড়রা করে। তাই আপনি যদি ছোটদের স্নেহ করেন তাহলে ছোটরাও তাই শিখবে। তারাও তাদের চেয়ে বড়দের সম্মান করবে আর ছোটদের স্নেহ করবে।
আর এই স্নেহ করাতেও খরচাপাতির বালাই নেই।
৪৷ ভালোবাসা - সম্মান আর স্নেহ তো গেলো। এবার আসি ভালোবাসায়। আমাদের কাছে বন্ধুত্বের সম্পর্কের মানেটাই অনেকটা বদলে গেছে। আমরা মনে করি বন্ধু মানেই তাকে তার কোনো একটা দোষ বা ত্রুটি নিয়ে পচানো। বন্ধুত্ব মানেই পচানো। কেউ আপনার বন্ধু হলেই তাকে পচানো জায়েজ। আসলেই কি তাই? এমনটা কি হওয়া উচিত? বন্ধুত্বের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি। আপনার বন্ধু, প্রিয়জন, সহকর্মী আর কাছের মানুষগুলোকে ভালোবাসতে শিখুন। তাদেরকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। তাদের মূল্যায়ন করতে শিখুন। এই মানুষগুলো মূল্যবান। এই মানুষগুলো বিশেষ। পরিবারের পর আপনার যে কোনো বিপদে আপনার পাশে কিন্তু এই মানুষগুলোই থাকবে।
তাই তাদেরকে ভালোবাসুন। আর এই ভালোবাসায় খরচা নেই।
৫৷ সময় - আপনি একটা মানুষকে অনেক বেশি মূল্যবান কিছু দেবার ক্ষমতা রাখেন এবং সেটাও কোনো প্রকার খরচাপাতি ছাড়াই। হ্যাঁ, আমি বলছি সময়ের কথা। একটা মানুষের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান জিনিসগুলোর একটি হলো সময়। আপনার পরিবারকে, আপনার কাছের মানুষগুলোকে সময় দিন। তাদের কাছাকাছি থাকুন। তাদের সাথে কথা বলুন। তাদের কথা শুনুন। একসাথে বাইরে খেতে যান কিংবা বেড়াতে যান! যে মানুষগুলো আপনাকে ভালোবাসে তাদের জন্যে এইটুকু তো করতেই পারেন? তাই না!
সময় দিতে সবসময় পয়সা লাগে না।
৬। সহমর্মিতা - আপনার কাছের কেউ যখন কোনো খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায় কিংবা কোনো বিপদে পড়ে তখন চেষ্টা করুন তার পাশে থাকার। তার কথা শোনার। দেখবেন এই খারাপ সময়টা কেটে যাবার পরও ওই মানুষটা আপনাকে মনে রাখবে।
সহমর্মিতায় খরচা নেই।
৭৷ সহযোগিতা - আপনার কাছের কোনো পরিচিত কাউকে কোনো সমস্যায় পড়তে দেখলে চেষ্টা করুন তাকে সাহায্য করার। কেউ পড়া বুঝতে কষ্ট করলে তাকে পড়া বুঝিয়ে সাহায্য করুন। কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে তাকে সাহস দিন। শহরে কিংবা প্রতিষ্ঠানে কেউ নতুন এলে তাকে সবার সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করুণ।
এই কাজগুলো কিন্তু একদম ফ্রি। উল্টো বিনিময়ে পাওয়া যাবে সবার ভালোবাসা।
৮৷ ক্ষমা - ক্ষমা মহৎ গুণ। নিজের দোষে ক্ষমা চাওয়া আর অন্যের দোষে ক্ষমা চাওয়া মহৎ লোকের বিশেষত্ব। এখন থেকে এই অভ্যাসটা শুরু করুন। ক্ষমা করে দেওয়ার মাঝে একটা অদ্ভুত অন্যরকমের প্রশান্তি আছে। আর নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে প্রয়োজন অনেক সাহসের।
তবে হ্যাঁ, এতে টাকা-পয়সার প্রয়োজন নেই কিন্তু!
৯৷ প্রশংসা - আমরা প্রশংসা করার বেলায় বরাবরই মহাকৃপণ। কারও ভালো অভ্যাস কিংবা কাজের জন্যে আমরা কখনও প্রশংসা করি না। আর তাই নিজেরাও সচরাচর প্রশংসা পাই না। কেমন হয় যদি এখন থেকেই এ কাজটা শুরু করি?
আপনার প্রশংসা যদি কারও দিনটাই সুন্দর করে দেয় তাহলে কিন্তু মন্দ হয় না! কী বলেন?
১০। ধন্যবাদ - ছোট্ট একটা মিষ্টি হাসিমাখা ধন্যবাদ আপনাকে সবার প্রিয় করে তুলবে অনায়াসে। বিশ্বাস হচ্ছে না? কাউকে তার কোনো একটা ছোট্ট কাজের জন্যে ধন্যবাদ দিয়েই দেখুন না! সাথে সাথে টের পাবেন!
আমরা অনেকেই বন্ধুদেরকে নিজস্ব সম্পত্তি ভেবে বসি। বন্ধু হয় বলে ধরেই নেই যে আমি বিপদে পড়লে তাদের কর্তব্যই আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা। বন্ধুদের ধন্যবাদ দিতে নেই।
এটা করা ঠিক না। যেকোনো উপকার, সাহায্য আর পরামর্শের জন্যে ধন্যবাদ আমাদের সকলের প্রাপ্য। ধন্যবাদ দিতে তো আর টাকা লাগে না! তাও এত কিপ্টেমি কেন?
১১৷ কৃতজ্ঞতা - কখনও কারও কোনো একটা সাহায্য, পরামর্শ, উপদেশ খুব কাজে লাগলে আমাদের উচিত সেই মানুষটার প্রতি সেজন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাসটা আপনাকে অন্য আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে তোলে। মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলে!
আর হ্যাঁ, মন খুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও কিন্তু খরচাপাতির বালাই নেই।
মানুষকে খুশি করতে একেবারেই ফ্রি কতগুলো সুন্দর সুন্দর উপায় বলে দিলাম? আপনি ও এ ব্যাপারে আপনার মূল্যবান মতামত দিতে পারেন।
(collected)