07/11/2025
আজকের সমাজে সবচেয়ে করুণ বাস্তবতা হলো—
আমরা নিজেদের নিকটতম মানুষের সাথেই সম্পর্কের বন্ধন শিথিল করে ফেলেছি।
অস্তিত্বের মূলে থাকা মানবিকতা, আন্তরিকতা আর স্নেহ—
সবকিছুই যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে স্বার্থপরতার অন্ধকারে।
আজ আমরা অহংকারকে গৌরব ভেবে বুকে লালন করছি,
ইগো আর স্বার্থপরতাকেই যেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ মনে করছি।
ফলে আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক—
সবই ধীরে ধীরে কেবল নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আরও ভয়াবহ হলো,
আমরা সেই একই ভুল হুবহু হস্তান্তর করছি আমাদের সন্তানদের হাতে।
মাত্র কয়েক বছরের কোমল বয়সেই তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল।
যে সময় তাদের শেখার কথা মানুষকে ভালোবাসা, সম্পর্কের মূল্য, সহমর্মিতা—
সেই সময় তারা শিখছে কেবল স্ক্রল করা আর একা একা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডুবে থাকা।
প্রতিদিনের দৃশ্য যেন একই—
অনেকবার ফোন করার পর রাতে জানতে হয়:
ফোন সারাদিনই সন্তানের হাতে ছিল।
এতে কি শিশুর মনে কাছের মানুষের প্রতি কোনো মূল্যবোধ জন্মাবে?
সে কি বুঝতে শিখবে সম্পর্কের মাহাত্ম্য?
না, সে শিখবে কেবল—
মানুষের চেয়ে যন্ত্রই অধিক প্রিয়,
সংলাপের চেয়ে স্ক্রিনই অধিক আকর্ষণীয়।
এভাবেই ধীরে ধীরে আমরা এক প্রজন্ম তৈরি করছি,
যাদের কাছে সম্পর্ক হবে নিছক একটি শব্দ,
আর পরিবার হবে কেবল কিছু মানুষের আনুষ্ঠানিক সমষ্টি।
প্রযুক্তি আমাদের অগ্রগতির পথ খুলে দিয়েছে,
কিন্তু আমরা যদি সচেতন না হই,
তাহলে সেই প্রযুক্তিই হয়ে উঠবে সম্পর্ক ধ্বংসের অস্ত্র।
এখনও সময় আছে—
আমরা চাইলে এই প্রবণতাকে বদলাতে পারি।
নিজেদের অহংকারকে সংযত করতে হবে,
পরিবারকে দিতে হবে সযত্ন সময়,
আর সন্তানদের শেখাতে হবে যে—
সম্পর্কই আসল সম্পদ,
মোবাইল নয়।
কারণ দিনের অন্তিমে—
আমাদের আশ্রয় হয়ে থাকবে আপনজনের ভালোবাসা,
কোনোদিনও যান্ত্রিক স্ক্রিন নয়।