Let’s do it for Allah and Akhirah

Let’s do it for Allah and Akhirah Life's an adventure so enjoy every bit! Smile and let go. Whatever is coming will be best planned by your Creator!

যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট!যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এই দিনগুলোতে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচে...
18/05/2026

যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট!

যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এই দিনগুলোতে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই আসুন, আমরা আগে থেকেই কিছু আমল ঠিক করে নেই, যেন এই দিনগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে চলে না যায়।

সুন্দরভাবে গুছিয়ে আমল লিস্ট শেয়ার করছি যেন রেডি হয়ে যেতে পারেন--

১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে আদায় করা:

সব আমলের ভিত্তি হলো ফরয ইবাদত। চেষ্টা করি সময়মতো, মনোযোগের সাথে সালাত আদায় করতে।

২. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা:
বারবার বলি:

*আস্তাগফিরুল্লাহ*
নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হই, আল্লাহর কাছে ফিরে যাই

৩. তাকবীর, তাহমীদ, তাহলীল ও তাসবীহ বেশি পড়া:

এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়ি:

--আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

৪. কুরআন তিলাওয়াত করা

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন পড়ার লক্ষ্য ঠিক করি। অল্প হলেও নিয়মিত পড়ি। এখন থেকেই পড়া শুরু করুন, যিলহজ্জের ১০ দিনের মধ্যে একটা কুরআন খতিমা কমপ্লিট করতে পারেন।
৫. ফরজ নামাজের যত্ন নেয়ার পরে নফল সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া:

বিশেষ করে:* তাহাজ্জুদ, সালাতুদ দুহা

৬. রোযা রাখা

সম্ভব হলে যিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোযা রাখি।

বিশেষভাবে **আরাফার দিনের রোযা** অনেক ফযীলতপূর্ণ তাদের জন্য যারা হজে নেই। ঐ দিনের রোজার মাধ্যমে আগের এবং পরের ২ বছরের গুনাহ মাফ হয় সুবহানআল্লাহ!

৭. বেশি বেশি দোয়া করা:

নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, উম্মাহর জন্য, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।

৮. যিকিরে জিহ্বা সজীব রাখা:

কাজ করতে করতে, হাঁটতে হাঁটতে, রান্না করতে করতে, ফাঁকে ফাঁকে যিকির করি। ছোট ছোট যিকিরও অনেক ভারী হয়ে যায় মীযানে।

৯. সদকা করা:

সামর্থ্য অনুযায়ী দান করি। অল্প হলেও আন্তরিকতা নিয়ে দিই!

১০. কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল-নখ না কাটা:

যিনি কুরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তিনি যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার চেষ্টা করবেন।

১১. ভালো কাজের পরিকল্পনা করে রাখা:

যেমন:
* একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করা

* আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক করা

* কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া

* ইসলামি কিছু শেখা বা শেখানো

১২. অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা কর

হিংসা, অহংকার, রাগ, শত্রুতা ইত্যাদি এসব থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। শুধু বাহ্যিক আমল নয়, অন্তরের আমলও জরুরি।

কুরবানীর এই মহান দিনগুলোতে কেবল পশু কুরবানীতে সীমাবদ্ধ না থাকি। বরং নিজেদের গুনাহ, নফসের খেয়াল, অহংকার, রাগ, খারাপ ভাষা —এসবকেও কুরবানী করার চেষ্টা করি।

এ সময় self-purification বা আত্মশুদ্ধির আমলও খুব জরুরি। যেমন:

* নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

* মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা

* অন্যের হক সম্পর্কে সচেতন হওয়া

* কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সংশোধন করা

* অন্তরকে নরম করা

এই ১০ দিন যেন আমাদের ভেতরের মানুষটাকেও বদলে দেয়।

১৩. পরিবারের মাঝেও নিজ ঘরে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা:

আমাদের মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোনদের, স্বামী/স্ত্রীরা সবাই সবাইকে উৎসাহ দিই—যেন ঘরেও যিলহজ্জের সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।

১৪. হজ্জের মৌসুমকে অন্তরে জীবন্ত রাখা:

যারা হজ্জ করতে যাচ্ছেন, তারা তো আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে হজ্জ করবেন।

আর যারা হজ্জে যাচ্ছেন না, তারাও যেন এই দিনগুলোতে এমন মানসিকতা রাখি—আমরাও আল্লাহর জন্যই সাড়া দিচ্ছি, আমরাও ইবাদাতে, যিকিরে, তাওবায়, দোয়ায় নিজেদের হাজির করছি।

এই কথার সাথে মিলে আমরাও বলি:

**লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক**

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি সাড়া দিচ্ছি।

হয়তো শারীরিকভাবে হজ্জে যাওয়া হয়নি, কিন্তু অন্তর যেন আল্লাহর দরবারে হাজির হয়।

১৫. আরাফার দিনটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া:

এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, যিকির, তাওবা, কুরআন তিলাওয়াত ও রোযার প্রতি গুরুত্ব দিই।

১৬. ঈদের দিন আল্লাহর শোকর আদায় করা:

ঈদের আনন্দের মাঝেও যেন আল্লাহকে ভুলে না যাই। কুরবানি, সালাত, যিকির— সবকিছুই ইবাদত।

এক নজরে আমল চেকলিস্ট:

☐ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত

☐ কুরআন তিলাওয়াত

☐ ১০ দিনের বিশেষ যিকির

☐ ইস্তিগফার

☐ আরাফার দিনের জন্য বিশেষ দুয়া লিস্ট রেডি করা, দোয়া করা

☐ আরাফার দিনে রোজা রাখা

☐ সম্ভব হলে প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা

☐ সদকা দেয়া

☐ নফল সালাত

☐ আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা, নিজের বদঅভ্যাস কুরবানী করা

☐ রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

☐ ভালো ব্যবহার করা

☐ অন্যের হকের ব্যাপারে সচেতন হওয়া

☐ কুরবানী করা, কুরবানীর গোশত শেয়ার করা হকদারদের সাথে

নিজের জন্য এই নিয়তটি ঠিক করে ফেলুন আজকেই --

*“আমি এই ১০ দিনে আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ, আমার আমলে, আমার অন্তরে, আমার চেষ্টা দিয়ে!"

আল্লাহ আমাদের যিলহজ্জের এই বরকতময় দিনগুলোকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানোর তাওফীক দিন।আমিন।

লেখা : শারিন সফি অদ্রিতা

আমি এখন নিয়ম করে সবকিছু আল্লাহকে বলার অভ্যাস করে নিয়েছি। আল্লাহ ছাড়া আর কাকে বলব? আমি যে একটা ছোট্ট ফিডার খুঁজতে গিয়েও ক...
08/01/2026

আমি এখন নিয়ম করে সবকিছু আল্লাহকে বলার অভ্যাস করে নিয়েছি।

আল্লাহ ছাড়া আর কাকে বলব? আমি যে একটা ছোট্ট ফিডার খুঁজতে গিয়েও কত পেরেশানিতে পড়ি এসব ছোটখাটো ব্যাপার এত মনোযোগ দিয়ে শুনার মত কে আছে? আর কে-ই বা তার মত করে সবচেয়ে সুন্দরভাবে সমাধান করার মত আছে?

~ কালেক্টেড 🌹

কষ্ট , মন খারাপ, ভেতর পুড়ে যাওয়া তার মতো করে কে বুঝবে ! অন্য কাওকে বলে লাভটাও কি !!
আল্লাহ শুধু তার প্রতি পূণ্য তাওয়াক্কুল করার ও শুধু তার কাছে নিজেকে প্রকাশ করার মতো শক্ত করে দিক !! ( যদিও মনের সবতো তিনিই জানেন না বললেও !)

একদা হযরত ঈসা (আ.) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবর...
06/01/2026

একদা হযরত ঈসা (আ.) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল। (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্যতম প্রধান মুজেযা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। )

হযরত ঈসা (আ.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"

লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"

হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"

লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট্ট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।

এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?'

হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটিমাত্র খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"

আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।

সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)
©

『 ভিশন এলোমেলো হয়ে আছি মালিক, একটু গুছিয়ে দিন আমায়। 』নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আজ আমি বড্ড ক্লান্ত। হাজারটা চিন্তা...
06/01/2026

『 ভিশন এলোমেলো হয়ে আছি মালিক, একটু গুছিয়ে দিন আমায়। 』

নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আজ আমি বড্ড ক্লান্ত। হাজারটা চিন্তার ভিড়ে আমি হারিয়ে যাচ্ছি, কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি জানি, আপনি ছাড়া এই বিশৃঙ্খলা আর কেউ ঠিক করতে পারবে না।

মালিক, আমার এই অগোছালো জীবনের সুতোগুলো আপনার রহমতের হাতে নিন। ঝাপসা হয়ে আসা চোখে স্পষ্ট হওয়ার আলো দিন। আমার ভেতরের এই ভাঙচুর থামিয়ে দিন আর আপনার একান্ত করুণায় আমার জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে দিন। আমি আপনার আশ্রয়েই শান্তি খুঁজে পেতে চাই।

— —

মালিক, আমার এই শব্দহীন চিৎকার তো আপনার অজানা নয়। আমার দুশ্চিন্তার প্রতিটি প্রহরকে আপনি প্রশান্তিতে বদলে দিন। আমি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলেও, আপনি দয়া করে আমাকে ছেড়ে দেবেন না। আমার প্রতিটি অগোছালো পদক্ষেপকে আপনার রহমতের চাদরে মুড়িয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিন। আপনিই তো আমার একমাত্র ভরসা। 🤲🏻
-সংগৃহীত

ইনশাআল্লাহ !
06/01/2026

ইনশাআল্লাহ !

25/09/2025

আগে শুধু কুরআন খতম করার জন্যই পড়তাম—বাংলায় হলেও!
আলহামদুলিল্লাহ, এখন প্রতিদিন সুরাগুলোর বাংলা অনুবাদ বুঝে তেলাওয়াত শোনার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন হয়তো সম্ভব হয় না, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ এই চ্যানেলে তেলাওয়াতগুলো এত সুন্দর, কোনো বিজ্ঞাপন নেই!
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন বোঝার তাওফিক দান করুন।
আমাদের হেদায়েত ও ঈমানের সঙ্গে রাখুন।
ঈমানের সাথেই মৃত্যু দান করুন।

https://youtube.com/?si=wLKSN2whWrdiyO-R

18/12/2024

সৌদিতে প্রায় প্রতিদিন দুআর মধ্যে একটা কথা বলে, "আল্লাহ আমি ছাড়া তোমার আরও বান্দা আছে। কিন্তু আমার তুমি ছাড়া আর কোন রব নাই। আর কোন চাওয়ার জায়গা নাই।"

আরেক জায়গায় দুআ শুনেছিলাম,
"আল্লাহ! তুমিই তো অভাবীদেরকে তাড়িয়ে দিতে নিষেধ করেছো। তাহলে এই অভাবীকে খালি হাতে কেন ফিরিয়ে দিবা?

অদ্ভুত লাগে! আল্লাহর কিছু বান্দা তার রবের সাথে কীভাবে বন্ধুর মত মন খুলে কথা বলে। কত সুন্দর করে চাইতে থাকে।

আর সেই মহান রবের ঘোষনা তো আছেই-
'কতই না উত্তম বন্ধু তিনি, কতই না উত্তম সাহায্যকারী।' - সুরা হাজ্জ:৭৮

সুবাহান আল্লাহ ❤

বহু পরিশ্রমে, বহু অপেক্ষার পর পাওয়া কিছু রুটি। এতো পরিশ্রম, এতো কষ্ট, এতো ধাক্কাধাক্কি আর তীব্র প্রতিযোগিতার পর যখন রুটি...
15/11/2024

বহু পরিশ্রমে, বহু অপেক্ষার পর পাওয়া কিছু রুটি। এতো পরিশ্রম, এতো কষ্ট, এতো ধাক্কাধাক্কি আর তীব্র প্রতিযোগিতার পর যখন রুটিগুলো পাওয়া হলো; তখন.....
এগুলো দেখলে মনে হয়, আল্লাহ বোধহয় আমাদের কখনো মাফ করবেন না। মনে হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বোধহয় কখনো আমাদের জন্য শাফা'আত করবেন না। আমরা বোধহয় আর কখনো জান্নাতে যেতে পারবো না।
খেতে বসলে একটু মনে কইরেন মানুষগুলোর কথা। এক বছরের বেশি তো হয়ে গেল। অনেকের কাছেই হয়তো এগুলো নরমাল হয়ে গেছে, এখন আর হয়তো অন্তরে সেভাবে লাগে না। এমন যেন না হয় ভাইবোনেরা, এমনটা যেন কখনো না হয়।
র*ক্তমাখা এই কয়েকটা রুটি থেকে একটা রুটিই আমাদের নাজাতের পথকে রুদ্ধ করে দিতে যথেষ্ট!
ইয়া আল্লাহ, আমাদেরকে আপনি সাহায্য করুন। আমাদের উম্মাহকে আপনি সাহায্য করুন। আমাদের গুনাহর কারণেই আজ এই অবস্থা। আমাদেরকে গুনাহ ত্যাগ করার তাওফীক দিন, ইয়া আল্লাহ! আমাদের পবিত্র করুন, শক্তি দিন, সাহস দিন। এই ব্যথা, এই দৃশ্যগুলোর ভার অন্তর যে আর নিতে পারছে না, ইয়া রব্ব!

লিখা: Pro-Shikkha প্রো-শিক্ষা
যারা শহীদ হচ্ছে তারা তো সৌভাগ্যবান !! আমাদের কি হবে!!?

05/11/2024

নভেম্বর ১৯৯২!
স্ত্রী আসন্ন সন্তান প্রসবা!ডাক্তার
১৭,নভেম্বর প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দিলেন।

৫,নভেম্বর পর্যন্ত শিউলী আমাদের বাড়িতে থালা বাসন মাজে,নিচু হয়ে ফ্লোরে বসে শীল পাটায় হলুদ মরিচ পিষে,রান্নাবান্না করে!

তারপরও পিতৃহীনা বালিকা বধুটিরে কারনে অকারনে অনেক কথা শুনতে হয়!আমি এসবের যথার্থ কারন খুঁজে পাই না।

বাঙালী একান্নবর্তী পরিবারে বড় বউদের ভাগ্য খুব একটা প্রসন্ন হয় না-শিউলীরও হল না!

এই যে আর দশ বারো দিন পর
ওর বাচ্চা হবে।অল্প বয়সী এতিম মেয়েটার একটু বিশ্রাম দরকার।

আমি আর আব্বা ছাড়া বাড়িতে
তাকে এই কথাটি বলার মত কেউ নেই;অথচ তারা সবাই নারী!

অফিসে যাবার কালে শিউলী ফিসফিস করে বলে,

-আমার না পেট ব্যথা করছে!

-গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা না তো?

-আরে না!এটা অন্যরকম ব্যাথা।

আমি চিন্তিত মুখে,কাঁধে লাঞ্চ ক্যারিয়ার ঝুলিয়ে অফিসে চলে গেলাম!

মিরপুর টু প্যারিদাস রোড,ঢাকা!
________________________
সন্ধ্যায় অফিস ফিরে দেখি শিউলী বাসায় নাই!মনটা উদাস হয়ে গেল!
সাহস করে আম্মাকে জিজ্ঞেসও করতে পারছি না-শিউলী কই!

আমি পানির জন্য গলা খাঁখারি দেই।
আম্মা পানির গ্লাশে পানি ঢালতে থাকেন,

-শিউলীরে তর জ্যাঠাশ জাহানারা আইসা নিয়া গেছে!ঢং!কই রইছে
১৭ তারিখ আইজকা মাত্র ৫ তা…

আম্মা আরো কিছু বলতে চেয়ে আমার মুড অফ দেখে থেমে গেলেন!

রাতের খাওয়া শেষে আমাদের বাসা থেকে অল্প দূরে জাহানারা আপার বাসায় শিউলীকে দেখতে যাই!

-কিছু খাইছ?

-না!কিছু খাইতে মন চায় না!

-তোমার জন্য চিকেন প্যাটিস আনছি খাইবা?

-আমার ক্যান যেন মনে হইতেছিল তুমি আমারে দেখতে আসবা! চিকেন প্যাটিস আর কাঁচের বোতলে বরফ ঠান্ডা ফান্টা নিয়া আসবা!

-একশ'তে একশ’ মিলে গেছে!
আল্লার কসম আমি তাই আনছি!

শিউলী গোগ্রাসে প্যাটিস আর ফান্টা খেয়ে সাবাড় করে ফেলল-আমারে একটু সাধলও না মেয়েটা-হাঃহাঃহা!

জাহানারা আপার পুরান ঘরে-
যে ঘরে একদিন আমাদের বাসর হয়েছিল!

সেখানেই আমার অল্প বয়সী বালিকা বধুটির সাথে মৃদু স্বরে কথা চলছে!

-জানো গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখি কি…!

শিউলী কৌতুহল নিয়ে শুধায়,

-কি?

-আমি বিছানায় লেপমুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি!কে যেন খবর দিল-আলম তর মাইয়া হইছে!

আমি ঘুমের মধ্যে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম-হে মা'বুদ!আমি কি আপনার কাছে প্রথম সন্তান হিসাবে পুত্র সন্তান চেয়ে খুব বেশি চেয়ে ফেললাম?

বেশ কিছুক্ষণ ধরে কাঁদার পর কোত্থেকে যেন তুমি মোটামুটি ছয় মাসের একটা ছেলে বাচ্চা কোলে নিয়ে বিছানায় উঠে বসলে!

সুন্দর ফুটফুটে ছেলেটির কপালে কালো টিপ আর কাজলে আঁকা জোড়া ভ্রু!

ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল মুখে দিয়ে ক্রমাগত ভুওওও…ভুওওও শব্দ করছিল বাবুটা!

-কার বাবু নিয়ে ঘুর?

-বাহ রে!কার আবার?আমাদের!

-আমাদের না মেয়ে বাচ্চা হইছে!

-আরে নাহ!তুমি পয়লা সন্তান ছেলে আশা কর-তাই তোমার সাথে একটু মজা নিলাম!

-ওরে দুষ্ট!

স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল!

আমি জাহানারা আপার বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসব,শিউলী আমারে অনেকটা সময় জড়ায়ে ধরে থাকল,

-কাল সকালে আমারে আজিমপুর ম্যাটারনিটি হসপিটালে ভর্তি করাতে নিয়ে যাবেন বড়’পা!

-এত তাড়াতাড়ি?

-আপা অভিজ্ঞ মানুষ,সিম্পটম দেখে ধরে ফেলেছেন-ডেট আগায়া আসছে!আমারে তুমি মাফ কইরা দিও অজান্তে তোমারে কষ্ট দিয়া থাকি যদি!

এই বলে শিউলী আমার পায়ে হাত দিয়ে কদমবুসি করতে গেল।আমি তাকে ধরে উঠিয়ে দিলাম!

-পাগল!তোমার আবার অপরাধ কি?

-জানো প্রতিটা মেয়ের জন্য মা হওয়া যেমন আনন্দের তেমনি মা হতে গিয়ে মাতৃ মৃত্যুর শংকাটাও কিন্তু ভয়ঙ্কর-তাই মাফ চেয়ে নিলাম!

একটা কথা কইবা?আমার মেয়ে বাচ্চা হইলে তুমি আমারে আগের মত ভালবাসবা তো?

-আরে পাগল কও কি?তোমার এমন ধারনা ক্যান হইল?

-না তোমার ছেলে বাবু খুব পছন্দ!

-তাইলে শোন…ছোট বেলায় আব্বার সাথে যখন ক্ষেত লাগাইতে যাইতাম আব্বা মাঝে মধ্যেই একটা কথা কইত-'যেমন তেমন দুই ভাই,
যেমন তেমন দুই গাই’!

আব্বারে এর অর্থ জিগাইলে কইত-
বা'জান রে!কৃষি নির্ভর এই দেশে পোলা আর হালের গরুর বিকল্প নাই।সেই থেইকা……

-তুমি তো আর কৃষক হও নাই!

-আব্বাও তো পুরোদস্তুর কৃষক ছিলেন না।সরকারি চাকরি করতেন-
আধা আধি কৃষক ছিলেন!

-বাঁচা মরা আল্লাহর হাতে-বুঝলা!
ক্ষীণ একটা কষ্ট নিয়া এই বাড়ির বংশপ্রদীপ জ্বালাতে যাচ্ছি!

-কি কষ্ট আমারে কও!

-তার আগে তুমি কথা দেও এই কথা কোন দিন আমার শাশুড়িরে জিগাইবা না!

আমি কতক্ষন ইতস্তত করে বললাম,

-কথা দিলাম!

-সত্যি?

-একশ’ তে একশ’!

-আমি বাড়ির বড় বউ ছিলাম-
কাজের মেয়ে তো ছিলাম না !

আমার বাবা নাই বলেই কি আম্মা আমার সাথে এমন ব্যবহারটা করলেন?

আজ সকাল পর্যন্ত আম্মা আমারে সংসারের কাজ থেকে ছুটি দেন নাই-
ভাগ্যিস বড় আপা আমারে আনতে গেছিলেন!

অথচ আগামীকালই আমাকে হাসপাতাল ভর্তি হতে হচ্ছে-নিজের মেয়ের সাথে কি উনি এমন ব্যবহার করতে পারতেন?

আমার অবস্থা বড়ই সঙ্গীন-তোমারে বলি নাই গত কয়েকদিন ধরে ঘুমে আজে বাজে স্বপ্ন দেখি-শুধু মরে যাওয়ার স্বপ্ন!আমারে নিতে মৃত্যুর ফেরেশতারা আসে!

আমি শিউলীকে বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে থাকলাম,

-আমারে ছাইড়া যাওনের এত শখ তর?খাঁড়া……!

হঠাৎ মনে হল আজ শিউলীর পেটে অলিভ ওয়েল মেসাজ করা হয় নাই!

পেটে সন্তান আসার তিন মাস পর থেকে প্রতি রাতে ওকে অলিভ ওয়েল মেসাজ করে দেই।যেন উদরে মাতৃত্বের দাগ না পড়ে!

-শিউলী ও ঘর থেকে একটু অলিভ ওয়েল এনে দিবা?

-যাও!আমার শরম লাগে!একদিন না দিলে কিছু হবে না!

আমি ওর উদরে বার কয়েক হাত বুলাই;অনাগত সন্তানের সাথে কথা বলি-আম্মুকে নিয়ে ভাল থেকো হে অনাগত সন্তান আমার!
_________________________
৭,নভেম্বর খুউব ভোরে আমি আজিমপুর ম্যাটারনিটি হসপিটালে চলে গেলাম!সকাল ৯টার দিকে শিউলীরে লেবার রুমে নেয়া হল!

লেবার রুমের সামনে বারান্দায় কাঠের লম্বা বেঞ্চিতে বসে আমি ক্রমাগত দোয়া ইউনুস পড়ছি-

‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সোবহানাকা ইন্নি কুন্তুম মিনাজ জোয়ালিমিন…!
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা……!

হঠাৎ সাইরেন বাজিয়ে হসপিটাল থেকে দ্রুত বেগে একটা এম্বুলেন্স বেরিয়ে গেল!কেউ কি মারা গেল?

লেবার রুমের আয়াটা কে এক ফাঁকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম,

-খালা!কেউ কি মারা গেল?এমন জোরে এম্বুলেন্স ছুটল-কই গেল?

খালা আমার দিকে একরাশ বিরক্তি নিয়ে চাইলেন!

-কি অলুক্ষুইন্না কথা?মরব ক্যা?
সিজারের রোগী নিয়া ক্লিনিকে গেছে!

-খালা!রাগ কইরেন না,এই নেন পাঁচ ট্যাকা চা নাস্তা খাইয়েন!

-কি জানবার চাও?

-এই খানে সিজার হয় না?

-না রে বাজান!অহনও এই হসপিটালে সিজার ফ্যাসালিটি চালু অয় নাই!

-আমার বউর কি সিজার লাগব?

-লাগলে ডাক্তার ম্যাডামই কইব।

-সিজার কি সরকারি হসপিটালে করন যাইব?

-তোমার হেডমওয়ালা লোক থাকলে পারবা;নাইলে ক্লিনিক!

-ওই খানে তো অনেক খরচ!

-একেকটা সিজার কেস নিম্নে দশ হাজার লাগব!

-হায় হায়!আমি মাত্র দেড় হাজার টাকা নিয়া হসপিটালে আসছি;

তাও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে এডভান্স নেয়া!বেতন তো পাই মাত্র দেড় হাজার!

-আল্লা আল্লা কর,তোমার বউর যেন নরমাল ডেলিভারি নসীবে লেখে আল্লায়!

ইমার্জেন্সী ট্যাকা লাগলে এইখানে সুদে ট্যাকা ধার দেওনের বহুত লোক আছে চিন্তা কইরো না মিয়া!
_________________________
আমি প্রায় দুই ঘন্টা ধরে লেবার রুমের সামনে শক্ত কাঠের বেঞ্চিতে বসে আল্লাহ আল্লাহ করছি!হেমন্তের শীত শীত সকালেও শরীর ঘেমে একাকার।

একটা শুভ সংবাদের আশায় চাতকের ন্যায় উর্ধ্বাকাশের মালিকের পানে তাকিয়ে আছি!

ভিতর থেকে কোন খবরই আসে না।
জাহানারা আপা বিমর্ষ বদনে একবার লেবার রুমে যান আবার বাইরে আসেন!

ভিতর থেকে খালা এসে টাইম টু টাইম খবর জানাচ্ছেন-তার কপালেও চিন্তার ভাঁজ!

-বেদনা উঠছে,মাগাড় বাচ্চার দেখা নাই!অই মিয়া অজু কইরা আহো,
দুই রাকাত সালাতুল হাজত পইড়া ফালাও!

আমি এক দৌড়ে অজু করে আসলাম!বেঞ্চির উপর দাঁড়ায়ে দুই রাকাত হাজতের নামাজ আদায় করলাম।

মোনাজাতে আমার মহামুনীবের কাছে কেঁদে কেঁদে বলছি-

‘প্রভু ওগো দয়াময়!পৃথিবীতে আপনার অনুগ্রহ এবং ইচ্ছা ব্যতীত কেউ আসতে পারেনা।

আপনি যদি ইচ্ছা করেন তবে মাতৃগর্ভ থেকে আমার সন্তানকে পৃথিবীতে এহসানের সাথে আনয়নের ব্যবস্থা করুন!

আর যদি আপনার ইচ্ছা আমার থেকে ভিন্ন হয় তবে আমার স্ত্রীকে শুধু আমার বুকে ফিরায়ে দেন-আর কিছুই চাই না!

আমাকে আপনি অত শক্ত হৃদয় করে তৈরি করেননি যে আমি ওর ব্যাথা,প্রতিটি চিৎকার সইতে পারি।
রাব্বানা যালামনা……

হঠাৎ খালা এসে চিৎকার করে বলতে লাগলেন,

-অই ব্যাটা আজান দে’!তর একটা পোলা অইছে!আজকা যে কয়টা বাচ্চা হইছে সবচে খুবসুরত বাচ্চা এইটা!

আমি আলহামদুলিল্লাহ বলে বেঞ্চির উপর দাঁড়িয়ে গেলাম!

উচ্চস্বরে আজান দিতে লাগলাম-
‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর……’!

আনন্দে আমার কন্ঠ রুদ্ধ হল চোখ ছল ছল হল!

লেবার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে খালা!মুচকি মুচকি হাসেন-মাশাল্লাহ ক্বারী সা'ব গো মতন সুন্দর আজান হইছে!

কিছু সময় পর শিউলীকে বেডে দেয়া হল;তখনও ওর হুঁশ নেই!

বিকেলের দিকে হুঁশ ফিরলে আমাকে হাত ইশারায় কাছে ডাকে শিউলী,

-শোন এইসব হাসপাতালে বাচ্চা চুরি হয় শুনছি-খেয়াল রাইখো!

শিউলী আবার ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল।জাহানারা আপাকে শিউলীর

শিয়রে রেখে আমি এক দৌঁড়ে নিউমার্কেট চলে গেলাম পুত্রের মুখে দেয়ার মধু কিনব বলে!

আগামী ৭,নভেম্বর আমার সেই ডেন্টাল সার্জন পুত্র আবদুল্লাহ আন নায়ীমের শুভ জন্মদিন!চুরি হয়ে যাবার আশংকায় যার মা হসপিটালে বিনিদ্র রাত কাটাত!

আজ চার বছর আমাদের সেই পুত্র ইউরোপ প্রবাসী।তার দেহের মিষ্টি ঘ্রানখানি অনেকদিন আমি পাই না!

ইচ্ছে করে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত চূড়ায় উঠে আটলান্টিক উপকুলের
ছোট্ট সেই দেশটির দিকে তাকাই!

শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে চিল্লায়ে বলি-হ্যাপী বার্থ ডে টু ইউ…হ্যাপী বার্থ ডে টু ইউ মাই সান এন্ড মে ইউ লিভ লং!


©সাইফুল আলম

সদকার জন্য কিছু সুন্দর টিপস .. ১. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না  এমন পোশাক গরীবকে দান করুন।২. একটি জায়নামাজ কিনে ম...
02/11/2024

সদকার জন্য কিছু সুন্দর টিপস ..
১. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরীবকে দান করুন।

২. একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।

৩. একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি আপনার জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য, এটাও এক ধরনের সদকা। এটিকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আপনি পুরস্কৃত হবেন।

৪. আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোন অন্যায় করেছেন, তখনি তাতে সাধ্যমতো পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।

৫. বাড়িতে ঢুকার ও বের হবার পথে দোয়া লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন৷ একইভাবে ঘরের এমন কোন স্থানে দোয়া লিখে রাখতে পারেন যেটা সবার নজরে আসে।

৬. আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সহায়তা করুন আপনার সাধ্যমতো।

৭. আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোন নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি পুরস্কৃত হবেন।

৮. কোন মসজিদে কোরআন মজিদ দিন, যে কোন ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর পাঠ করবে সেটার জন্য ১০ গুন সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলে।

৯. আপনি পান করা গ্লাসে পানি অবশিষ্ট থেকে গেলে তা একটি ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।

১০. আপনার পরিচিত ও প্রতিবেশী ভাই বোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন যখন তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকবেন।

১১. অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন। এটাও সাদকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সদকা।

১২. ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।

১৩. কাউকে এক অক্ষর হলেও দীন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তানসন্ততি, বন্ধুবান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দীন অর্জন করবে, সে সকল সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে।

১৪. সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মদজিদ মাদরাসা দ্বীন শিক্ষা দিতে থাকবে, হাসপাতালে রোগী সেবা পেতে থাকবে, গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন এবং খাবার পাবে, পান করার পানি পান করতে পারবে আপনার ব্যবস্থা করে দেয়া পানির উৎস থেকে। এসকল কিছু সদকায়ে জারিয়া। এগুলো মৃত্যুর পরেও আপনাকে পরকালের জন্য ধনী করতে থাকবে।

১৫. সন্তানদের উত্তম সন্তান হিসেবে গড়ে তুলুন। দ্বীন এবং মানবতা শিক্ষা দিন। এদের দোয়া কবর পর্যন্ত পৌঁছাবে, আপনার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এদের সঠিক মানুষ হতে সাহায্য করবে।

১৬. এই সদকার পন্থাগুলো মানুষের সাথে শেয়ার করুন, তাদের শিক্ষা দিন। এটিও সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
(সংগৃহীত)

Address

London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Let’s do it for Allah and Akhirah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Let’s do it for Allah and Akhirah:

Featured

Share