26/04/2026
|| Sunday Storyline With Apremik ||
এক শিমুলের গল্প...🌸❤
প্রথম পর্ব
চৌরাস্তার মোড়ের একটা চায়ের দোকানে কাঠ ফাটা রোদ্দুরে মাথা ধরে, হাতের ফাইলটা পাশে রেখে বেঞ্চিতে বসে পড়ে শিমুল...
হঠাৎই তার মুখের সামনে একটা হাত এগিয়ে আসে।হাতে একবোতল জল।
— এই নিন...
শিমুল - Thank you...
— এই গরমে রোদের মধ্যে একটা ছাতা নিতে পারেন তো ম্যাডাম।
শিমুল দু ঢোক জল খেয়ে বোতল নামিয়ে ছেলেটির মুখের দিকে তাকালো..
একটা সবুজ রঙের জামা এবং কালো প্যান্ট, পায়ে ব্যুট জুতো দেখে বেশ ভালো কোনো Company তে কাজ করে বলে মনে হচ্ছে।
ছেলেটি শিমুলের পাশের, ফাইলের ভিতরে থাকা কাগজটার দিকে চোখ দিয়ে দেখেই শিমুলের চোখের দিকে তাকালো।
পরনে একটা সাদা চুড়িদার একপাশে ওরনা, চুল পরিপাটি করে একটা ক্লিপ দিয়ে বাঁধা... কপালে একটা কালো টিপ, চোখে কাজল, কিন্তু এই কাঠফাটা রোদে অতিরিক্ত পর্যায় ঘেমে গেছে সে। কিন্তু সেই মায়া ভরা চোখে যেন বসে বসেই ডুবে যায় ছেলেটি।
শিমুল আবার ধন্যবাদ বলে বেঞ্চি থেকে উঠতে যাবে এমন সময় একটু মাথা ঘুরেই হোঁচট খেয়ে পড়তে যাচ্ছিল ছেলেটি টপ করে ধরে নেয়।
— এই এই বসুন তো..
শিমুল - নাহ, ও কিছু হয়নি বাড়িতে বাবা মা চিন্তা করছে, সেই সকালে বেরিয়েছি।
— আচ্ছা বেশ চলুন আমি আপনাকে ড্রপ করে দিচ্ছি আমার গাড়ি আছে।
শিমুল - নাহ, তার আর কোনো দরকার হবে না। আমার কাছেই বাড়ি, প্রয়োজনে আমি অটো করে নেবো। ধন্যবাদ।
— প্রয়োজনে তো অটো করতেই হবে... আর আমি বলছি আপনার প্রয়োজন আছে, অটোর জায়গাতে না হয় আমার সাথেই চলুন।
শিমুল - কিন্তু...
— ওহ, অপরিচিত বুঝেছি।
নমস্কার, আমি অজয়, অজয় সেন। লেকটাউন স্পন্দন হসপিটালের জুনিয়র সার্জেন। এবার যাই?
শিমুল - আমি শি....
অজয় — থাক। জানি। শিমুল ঘোষ। আজ সকালে কোনো একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন। এখন আপনি ফিরছেন, এই প্রচণ্ড রোদে একটু অসুস্থ বোধ করছিলেন তাই এই চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে এসে বসেছেন। আর সকাল থেকে একটুও কিচ্ছু মুখে দেননি, তাই রাধে-দা একটা চা আর একটা লস্যি দিন (চায়ের দোকানের দাদা কে উদ্দেশ্য করে। )
শিমুল হা করে কিছুক্ষণ অজয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
অজয় একটু থেমে লস্যিটা নিয়ে এসে শিমুলের দিকে বাড়িয়ে দেয়,
শিমুল - এসবের দরকার নেই।
অজয় - চুপ। আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করেছি? খান এটা ভালো লাগবে।
শিমুল - একটু কাঁপা হাতে লস্যির গ্লাসটা নিয়ে নেয়।
অজয় - দাদা ওইটার থেকে কেটে নিও। (চায়ের দোকান উদ্দেশ্য করে। )
শিমুল - এই না আমি, আমি দেবো লস্যির টাকাটা।
অজয় - আবার। বড্ড কথা বলেন তো আপনি, চলুন। কি হলো আসুন।
শিমুল চুপচাপ আসতে আসতে উঠে দাঁড়ায়, প্রায় একসাথেই দুজনে পার হয়ে যায়। ওপারে অজয়ের গাড়ি রাখা, ওপাশে গিয়ে দরজা খুলে দেয় অজয়। শিমুল উঠে বসে।
অজয় এপাশে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয় এগিয়ে চলে শিমুলের বলা গন্তব্যের দিকে। গাড়ির এসিটা অন করে শিমুলের যাতে ভালো লাগে।
শিমুল গাড়িতে উঠেই চারদিকটা তাকিয়ে দেখলো। গাড়ির ভিতর থেকে বাইরের রাস্তাটা সত্যিই অন্যরকম।
অজয় নিস্তব্ধতা কাটিয়ে প্রশ্ন করে...
অজয় - বাড়িতে কে কে আছে?
শিমুল - মা, বাবা। আপনার?
অজয় - আচ্ছা। মা আছেন। বাবা গত হয়েছেন 3 মাস হলো।
শিমুল কিছু না বলে জানলার দিকে তাকায়।
অজয় - কি করেন বাবা? মা?
শিমুল - বাবা শয্যাশায়ী, ক্যানসার 2nd স্টেজ। মা সেলাইয়ের কাজ করেন।
অজয় - বুঝলাম, আচ্ছা একটা কথা বলুন, আপনি এই রাস্তায় অটো পেতেন কি করে?
শিমুল মাথা নিচু করে চুপ করে থাকে।
অজয় শিমুলের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে আবার সামনের দিকে চোখ ফেরায়..
শিমুল মুখ তুলে বললো -
এই তো এই বাদিকে গিয়ে একটু, আপনি এইখানে রেখে দিন আমি চলে যাবো।
অজয় - বেশ... আচ্ছা শুনুন, আপনার বাবাকে একটু দেখা যেতে পারে?
শিমুল তার ছড়ানো পাটা গুটিয়ে নেয়।
শিমুল - না মানে, আমার বাড়িটা খুব ছোটো, আসলে বাড়ি নয় ঘর।
অজয় - আপনি 2026 এ এসেও এসব ভাবেন?
শিমুল - কিন্তু..
অজয় - কোনো কিন্তু না, দাঁড়ান গাড়িটা সাইড করে রাখি।
অজয় গাড়িটা রাস্তার একপাশে রেখে পিছন থেকে একটা bag নিয়ে নেয়,
— চলুন বলে,গাড়ি থেকে নেমে আসে।
শিমুলের সাথে একসাথে হাঁটতে থাকে।
কলমে : অ প্রেমিক
Topic Suggested By : Sastika Malik
সৌজন্যে : শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha
তারপর?ওদের প্রেম হলো? নাকি ভালোবাসাটা না বলাই রয়ে গেল? পরবর্তী পর্ব জানতে হলে চোখ রাখতে হবে আমাদের পেজে। আগামী রবিবার আমরা আবারও হাজির হবো গল্পের ডালি নিয়ে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন, আমাদের পেজ টিকে Follow করতে ভুলবেন না। এবং আজকের পর্ব কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। 😌