শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha

শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha স্বপ্নগুলো অক্ষরহীন
বাস্তবতা দিচ্ছে ঠোকা,
ইচ্ছেগুলোর হাতটা ধরে
প্রকাশ পাচ্ছে “শহরের চুপকথা”।

রথের পথে এক মুঠো আলো   রথযাত্রার দিন সকাল থেকেই গ্রামের পথ ভরে উঠেছিল শঙ্খধ্বনি, কীর্তন আর মানুষের পদচারণায়। সবাই ছুটছি...
15/07/2026

রথের পথে এক মুঠো আলো


রথযাত্রার দিন সকাল থেকেই গ্রামের পথ ভরে উঠেছিল শঙ্খধ্বনি, কীর্তন আর মানুষের পদচারণায়। সবাই ছুটছিল রথ দেখতে। কিন্তু ভিড়ের এক কোণে বসে ছিলেন এক বৃদ্ধ কুমোর। সারাজীবন তিনি জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রার ছোট ছোট মাটির মূর্তি গড়েছেন, অথচ কখনও রথের দড়ি টানার সুযোগ পাননি।
সেদিনও তিনি দূর থেকে রথের দিকে তাকিয়ে শুধু হাসছিলেন। হঠাৎ একটি ছোট ছেলে এসে তাঁর হাত ধরে বলল,
— দাদু, সবাই রথ টানছে। আপনি কেন দাঁড়িয়ে আছেন?
বৃদ্ধ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
— আমার হাতে আর আগের মতো শক্তি নেই।
ছেলেটি কিছু না বলে নিজের ছোট্ট হাত দিয়ে বৃদ্ধের হাত শক্ত করে ধরল। তারপর দু'জনে একসঙ্গে রথের দড়িতে হাত রাখল। সেই মুহূর্তে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়—সবাই এক ভক্তির বন্ধনে আবদ্ধ।
রথ এগিয়ে চলল। বৃদ্ধের চোখের কোণে জল চিকচিক করছিল। তিনি বুঝলেন, ভগবানের কাছে শক্তির মূল্য নয়, আন্তরিকতার মূল্যই সবচেয়ে বেশি।
সন্ধ্যায় যখন সূর্যের শেষ আলো রথের চূড়ায় পড়ল, তখন মনে হলো—জগন্নাথ যেন মানুষের কাছে একটিই বার্তা রেখে গেলেন -যে হাত অন্যকে সঙ্গে নিয়ে এগোয়, সেই হাতই প্রকৃত ভক্তির হাত।
রথযাত্রা তাই শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মানুষের হৃদয়কে মানুষের সঙ্গে, আর মানুষকে ঈশ্বরের করুণার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার এক চিরন্তন যাত্রা।

কলমে - মৌমিতা চৌধুরী
#স্টোরি #বইপ্রেমী

এক রাজশ্রী'র গল্প... - পর্ব -১আমি রাজশ্রী, একটু বদমেজাজী, উড়নচণ্ডী, ডানপিটে, প্রচণ্ড রকমের বাচাল। কথায় বলে কলেজছাত্রী ...
28/06/2026

এক রাজশ্রী'র গল্প...
- পর্ব -১

আমি রাজশ্রী, একটু বদমেজাজী, উড়নচণ্ডী, ডানপিটে, প্রচণ্ড রকমের বাচাল। কথায় বলে কলেজছাত্রী কিন্তু পড়াশুনা কতটা করি ঠিক জানি না।

এটা আমার গল্প।

সেদিন হঠাৎই কলেজের পর কলেজে একমাত্র বান্ধবী অঙ্কিতার সাথে প্রিন্সেপ ঘাট যাওয়ার প্ল্যান হলো। সেই মতো গঙ্গার ধারে বসে আছি, মাঝে মাঝে দু - একটা ডিঙ্গি নৌকা চলে যাচ্ছে।
আমরাও দুজনের কয়েকটা ছবি তুলছি।

হঠাৎই বেশ কিছুটা দূরে একটা ছেলে এসে বসলো, হাতে দুকাপ চা, পরনে পাঞ্জাবী, চোখে সরু ফ্রেমের চশমা হাতে একটা শরৎচন্দ্র সমগ্র।
প্রথম দেখাতেই ভালোলাগা বা ভালোবাসা কথাটা হয়তো এখনই বুঝলাম। কেন জানি না নিজের থেকেই একটা টান অনুভব হলো। কিভাবে কথা বলবো বুঝতে পারছি না।
অঙ্কিতাকে বললাম - দাড়া তো একটু।
বলে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম।
ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম দেখতে পারি একটু বইটা?
— আসলে বহুদিন আগে পড়েছিলাম বইটা তাই আপনার হাতে দেখেই একটা টান হলো।

ছেলেটি — হ্যাঁ হ্যাঁ, এই নিন না।
গলায় আওয়াজটা বেশ গম্ভীর, মুখের দিকে চেয়ে রইলাম।

ছেলেটি - কই নিন।
— হ্যাঁ হ্যাঁ।

বহুদিন আগে বইটা পড়েছিলাম দুচার পাতা উল্টে দেখছি,
ছেলেটি প্রশ্ন করলো, - বাংলা অনার্স?
— হ্যাঁ, কি করে বুঝলেন?
ছেলেটি - এই বই ঘাঁটাঘাঁটি দেখে, আপনি একটা কাজ করুন। এই বইটা রাখুন। পড়া হয়ে গেলে নিয়ে নেবো। আজ উঠি।

— আপনার নাম, নম্বর কিছু দিয়ে দিন তাহলে।

ছেলেটি — আমার নাম সৌমিক। আর আপনি?

— রাজশ্রী... আপনার নম্বরটা তাহলে দিন আমি যোগাযোগ করে বইটা ফিরিয়ে দেবো।

সৌমিক - নম্বরটা থাক, ঘড়ির দিকে দেখে আগামী বৃহস্পতিবার ঠিক এই জায়গাতে এই সময় দেখা হবে।
আজ উঠি।

— আচ্ছা।

ফেরার পথে বহুবার search করে দেখলাম অবশেষে ফেসবুকে খুঁজে পেলাম, পুরো নাম সৌমিক চ্যাটার্জী। প্রোফাইলে বাদামী পাঞ্জাবি পরনে ছবি। রবীন্দ্রভারতী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, একটু ইতস্তত করেই Request পাঠালাম।

কলমে — ক্ষণিক

#স্টোরি

#বইপ্রেমী

10/05/2026

অপেক্ষার শেষ প্রহর.... ❤🌼

শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, জরাজীর্ণ এক বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে আছেন নীলিমা দেবী। আজ মা দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল রঙে লেখা দিনটি তার কাছে বিষাদের পাহাড়। নীলিমা দেবীর ঝাপসা চোখ দুটো সারাক্ষণ গেটের দিকে তাকিয়ে থাকে। যদি একবার একটি গাড়ি এসে থামে, আর যদি সেখান থেকে নেমে আসে তার একমাত্র ছেলে আকাশ। নীলিমা দেবীর স্বামী মারা গিয়েছিলেন আকাশ যখন মাত্র পাঁচ বছরের শিশু। তারপর থেকে শুরু হয়েছিল এক মায়ের জীবনযুদ্ধ। মানুষের বাড়িতে কাজ করা থেকে শুরু করে সেলাই মেশিন চালানো—সবই করেছেন তিনি শুধু ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করার জন্য। আকাশ যখন রাতে পড়তে বসত, নীলিমা দেবী পাশে বসে তালপাতার পাখা দিয়ে বাতাস করতেন। নিজে আধপেটা খেয়ে ছেলের পাতে তুলে দিতেন সবটুকু ভালো খাবার। আকাশ মেধাবী ছিল, পড়াশোনা শেষ করে বড় চাকরি পেল, বিয়েও করল। নীলিমা দেবী ভেবেছিলেন জীবনের শেষ কটা দিন হয়তো একটু সুখে কাটবে। কিন্তু নিয়তি ছিল অন্যরকম।
বিয়ের পর আকাশ ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল। বড় ফ্ল্যাটে মায়ের ছেঁড়া শাড়ি আর খসখসে গায়ের চামড়া যেন তার আভিজাত্যে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। একদিন আকাশ বলল, "মা, এই শহরে তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে। চলো তোমাকে এমন জায়গায় রেখে আসি যেখানে তোমার বয়সী অনেক বন্ধু পাবে।" নীলিমা দেবী সেদিন বুঝতে পারেননি 'বন্ধু' বলতে ছেলে বৃদ্ধাশ্রমের কথা বলছে। যেদিন তাকে এখানে রেখে আকাশ চলে যাচ্ছিল, নীলিমা দেবী একবারও কাঁদেননি। শুধু ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, "সাবধানে যাস বাবা, শরীরটার যত্ন নিস।" আজ তিন বছর হয়ে গেল আকাশ আর আসেনি। মাঝে মাঝে নীলিমা দেবী ফোন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ওপাশ থেকে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোনটা কেটে দেওয়া হয়। বৃদ্ধাশ্রমের অন্য মায়েরা যখন তাদের সন্তানদের কথা বলে গর্ব করেন, নীলিমা দেবী তখন চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে চোখের জল মোছেন।
আজ সকালে বৃদ্ধাশ্রমের আয়া এসে নীলিমা দেবীকে এক তোড়া ফুল দিয়ে বলল, "মাসিমা, আজ মা দিবস। আপনার ছেলে কি আসবে না?" নীলিমা দেবী ম্লান হেসে বললেন, "ও তো খুব বড় অফিসার রে, সময় পায় না। হয়তো আজ আসবে।" বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল, কিন্তু আকাশ আসলো না। নীলিমা দেবীর শরীরটা আজ বেশ খারাপ লাগছে। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত যন্ত্রণা। তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে বালিশের নিচ থেকে আকাশের ছোটবেলার একটা ছবি বের করলেন। ছবিতে ছোট আকাশ তার মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে হাসছে। নীলিমা দেবী অস্ফুট স্বরে বললেন, "খোকা, তুই যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস। আমার মতো অভাগী মা যেন আর কারও ঘরে না জন্মায়।"
রাত বাড়ার সাথে সাথে নীলিমা দেবীর চোখের পাতা ভারী হয়ে এল। নার্স এসে যখন তাকে রাতের খাবার দিতে ডাকল, তখন নীলিমা দেবী আর উত্তর দিলেন না। তার নিথর হাত থেকে আকাশের সেই ছোটবেলার ছবিটা মেঝেতে পড়ে গেল। পরদিন সকালে আকাশের ফোনে একটা খবর গেল। নীলিমা দেবী আর নেই। আকাশ যখন বৃদ্ধাশ্রমের মর্গে মায়ের মৃতদেহের সামনে এসে দাঁড়াল, তখন তার হাতে ছিল একটা দামি উপহার। কিন্তু সেই উপহার নেওয়ার মানুষটি তখন সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। মা দিবসের এই উপহার আজ বড়ই নিরর্থক। মা চলে গেলে কোনো বিলাসিতা বা চোখের জল তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারে না।❤🧿

কলমে- মি ষ্টি
Follow us...

"আছ অন্তরে চিরদিন— হে বিশ্বকবি"​আজ পঁচিশে বৈশাখ। বাঙালির আবেগ, মনন আর সংস্কৃতির বাতিঘর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজ...
09/05/2026

"আছ অন্তরে চিরদিন— হে বিশ্বকবি"

​আজ পঁচিশে বৈশাখ। বাঙালির আবেগ, মনন আর সংস্কৃতির বাতিঘর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী।

​যাঁর লেখনী আমাদের আকাশ দেখতে শিখিয়েছে, যাঁর সুর আমাদের বিরহ-মিলনে সান্ত্বনা দিয়েছে— সেই ধ্রুবতারার চরণে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকায়, প্রার্থনায় আর স্বপ্নে আপনি আছেন এবং থাকবেন।

​শুভ রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বাঙালির প্রাণের কবিকে জানাই শতকোটি প্রণাম।
🌼
Follow us শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha

রঙের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে কিছু নীরব গল্প,পাতার কোণে জেগে ওঠে মনের অদেখা কল্প।নীল শাড়ির আঁচলে মেখে বিকেলের আবেশ,বইয়ের পাতায় ...
05/05/2026

রঙের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে কিছু নীরব গল্প,
পাতার কোণে জেগে ওঠে মনের অদেখা কল্প।
নীল শাড়ির আঁচলে মেখে বিকেলের আবেশ,
বইয়ের পাতায় খুঁজি আমি হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ।
তুলি যখন ছুঁয়ে যায় অনুভূতির প্রতিটা ধ্বনি,
তখনই ছবির মাঝেই বেঁচে ওঠে আমার আমি।

লেখনী - Moumita Chowdhury Mou
চিএগ্রহণ - অদ্রিজা দে
সৌজন্যে : শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha

Follow Us...



ঘোড়ার ক্ষুরে বাজে বিকেলের নীরব সুর,ধুলোমাখা পথে হারায় শহরের কোলাহল দূর।ছায়াঘেরা গাছেরা রাখে গল্প গোপন করে,দু’টি স্বপ্ন ছ...
04/05/2026

ঘোড়ার ক্ষুরে বাজে বিকেলের নীরব সুর,
ধুলোমাখা পথে হারায় শহরের কোলাহল দূর।
ছায়াঘেরা গাছেরা রাখে গল্প গোপন করে,
দু’টি স্বপ্ন ছুটে চলে মুক্ত বাতাসের তরে।
সময়ের বাঁধন ভুলে পথ আজ আপন মনে,
গ্রামের আকাশ লিখে দেয় স্বাধীনতার ক্ষণে।

লেখনী - Moumita Chowdhury Mou
চিএগ্রহণ - অদ্রিজা দে
সৌজন্যে : শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha

Follow Us...





কিছু প্রাপ্তি হয়তো কোনোদিনই ডায়েরির ভাঁজ থেকে বাস্তবে নেমে আসে না। মোমবাতির এই মৃদু আলোয় যখন সেই চিরচেনা অনুভূতির কথাগুল...
03/05/2026

কিছু প্রাপ্তি হয়তো কোনোদিনই ডায়েরির ভাঁজ থেকে বাস্তবে নেমে আসে না। মোমবাতির এই মৃদু আলোয় যখন সেই চিরচেনা অনুভূতির কথাগুলো লিখি, তখন মনে হয়—সবচেয়ে প্রিয় জিনিসগুলো দূরে থাকাই বোধহয় তাদের সৌন্দর্য।
​হয়তো তারা নিষিদ্ধ, নয়তো খুব দামি; হয়তো তারা আমার গল্পের অংশ হয়েও অন্য কারো উপন্যাসের শেষ পাতা। তবুও, মধ্যরাতের এই নির্জনতায় যখন সেই অপূর্ণতার আঁচ লাগে, তখন মনের কোণে এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পাই।
​সবকিছু নিজের হতে হয় না, কিছু জিনিস কেবল দূর থেকে ভালোবেসেই পূর্ণতা দিতে হয়। ঠিক যেমন এই অন্ধকার ঘরে ছোট্ট এক ফালি মোমের আলো—সে পুরো ঘরকে আলোকিত করতে না পারলেও, আমার একাকীত্বকে বেশ যত্ন করে আগলে রেখেছে।
কলমে - Sastika Malik

সৌজন্যে - শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha
Follow Us...

নৃত্য শুধুমাত্র শিল্প নয়, এটা একটা অনুভূতি...❤✨নৃত্য আমাদের জীবনের সাথে জড়িত। তাল, লয়, ছন্দ মিলিয়ে যেমন নৃত্য তৈরি হ...
29/04/2026

নৃত্য শুধুমাত্র শিল্প নয়, এটা একটা অনুভূতি...❤✨

নৃত্য আমাদের জীবনের সাথে জড়িত। তাল, লয়, ছন্দ মিলিয়ে যেমন নৃত্য তৈরি হয় তেমনই জীবনও একটি ছন্দে গাথা থাকে।

সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের অনেক শুভেচ্ছা...😌❤
সৌজন্যে : শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha
Follow Us...

|| Sunday Storyline With Apremik ||এক শিমুলের গল্প...🌸❤প্রথম পর্বচৌরাস্তার মোড়ের একটা চায়ের দোকানে কাঠ ফাটা রোদ্দুরে ম...
26/04/2026

|| Sunday Storyline With Apremik ||

এক শিমুলের গল্প...🌸❤
প্রথম পর্ব

চৌরাস্তার মোড়ের একটা চায়ের দোকানে কাঠ ফাটা রোদ্দুরে মাথা ধরে, হাতের ফাইলটা পাশে রেখে বেঞ্চিতে বসে পড়ে শিমুল...

হঠাৎই তার মুখের সামনে একটা হাত এগিয়ে আসে।হাতে একবোতল জল।

— এই নিন...

শিমুল - Thank you...

— এই গরমে রোদের মধ্যে একটা ছাতা নিতে পারেন তো ম্যাডাম।

শিমুল দু ঢোক জল খেয়ে বোতল নামিয়ে ছেলেটির মুখের দিকে তাকালো..
একটা সবুজ রঙের জামা এবং কালো প্যান্ট, পায়ে ব্যুট জুতো দেখে বেশ ভালো কোনো Company তে কাজ করে বলে মনে হচ্ছে।

ছেলেটি শিমুলের পাশের, ফাইলের ভিতরে থাকা কাগজটার দিকে চোখ দিয়ে দেখেই শিমুলের চোখের দিকে তাকালো।
পরনে একটা সাদা চুড়িদার একপাশে ওরনা, চুল পরিপাটি করে একটা ক্লিপ দিয়ে বাঁধা... কপালে একটা কালো টিপ, চোখে কাজল, কিন্তু এই কাঠফাটা রোদে অতিরিক্ত পর্যায় ঘেমে গেছে সে। কিন্তু সেই মায়া ভরা চোখে যেন বসে বসেই ডুবে যায় ছেলেটি।

শিমুল আবার ধন্যবাদ বলে বেঞ্চি থেকে উঠতে যাবে এমন সময় একটু মাথা ঘুরেই হোঁচট খেয়ে পড়তে যাচ্ছিল ছেলেটি টপ করে ধরে নেয়।

— এই এই বসুন তো..

শিমুল - নাহ, ও কিছু হয়নি বাড়িতে বাবা মা চিন্তা করছে, সেই সকালে বেরিয়েছি।

— আচ্ছা বেশ চলুন আমি আপনাকে ড্রপ করে দিচ্ছি আমার গাড়ি আছে।

শিমুল - নাহ, তার আর কোনো দরকার হবে না। আমার কাছেই বাড়ি, প্রয়োজনে আমি অটো করে নেবো। ধন্যবাদ।

— প্রয়োজনে তো অটো করতেই হবে... আর আমি বলছি আপনার প্রয়োজন আছে, অটোর জায়গাতে না হয় আমার সাথেই চলুন।

শিমুল - কিন্তু...

— ওহ, অপরিচিত বুঝেছি।
নমস্কার, আমি অজয়, অজয় সেন। লেকটাউন স্পন্দন হসপিটালের জুনিয়র সার্জেন। এবার যাই?

শিমুল - আমি শি....

অজয় — থাক। জানি। শিমুল ঘোষ। আজ সকালে কোনো একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন। এখন আপনি ফিরছেন, এই প্রচণ্ড রোদে একটু অসুস্থ বোধ করছিলেন তাই এই চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে এসে বসেছেন। আর সকাল থেকে একটুও কিচ্ছু মুখে দেননি, তাই রাধে-দা একটা চা আর একটা লস্যি দিন (চায়ের দোকানের দাদা কে উদ্দেশ্য করে। )

শিমুল হা করে কিছুক্ষণ অজয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

অজয় একটু থেমে লস্যিটা নিয়ে এসে শিমুলের দিকে বাড়িয়ে দেয়,

শিমুল - এসবের দরকার নেই।

অজয় - চুপ। আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করেছি? খান এটা ভালো লাগবে।

শিমুল - একটু কাঁপা হাতে লস্যির গ্লাসটা নিয়ে নেয়।

অজয় - দাদা ওইটার থেকে কেটে নিও। (চায়ের দোকান উদ্দেশ্য করে। )

শিমুল - এই না আমি, আমি দেবো লস্যির টাকাটা।

অজয় - আবার। বড্ড কথা বলেন তো আপনি, চলুন। কি হলো আসুন।

শিমুল চুপচাপ আসতে আসতে উঠে দাঁড়ায়, প্রায় একসাথেই দুজনে পার হয়ে যায়। ওপারে অজয়ের গাড়ি রাখা, ওপাশে গিয়ে দরজা খুলে দেয় অজয়। শিমুল উঠে বসে।
অজয় এপাশে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয় এগিয়ে চলে শিমুলের বলা গন্তব্যের দিকে। গাড়ির এসিটা অন করে শিমুলের যাতে ভালো লাগে।

শিমুল গাড়িতে উঠেই চারদিকটা তাকিয়ে দেখলো। গাড়ির ভিতর থেকে বাইরের রাস্তাটা সত্যিই অন্যরকম।

অজয় নিস্তব্ধতা কাটিয়ে প্রশ্ন করে...

অজয় - বাড়িতে কে কে আছে?

শিমুল - মা, বাবা। আপনার?

অজয় - আচ্ছা। মা আছেন। বাবা গত হয়েছেন 3 মাস হলো।

শিমুল কিছু না বলে জানলার দিকে তাকায়।

অজয় - কি করেন বাবা? মা?

শিমুল - বাবা শয্যাশায়ী, ক্যানসার 2nd স্টেজ। মা সেলাইয়ের কাজ করেন।

অজয় - বুঝলাম, আচ্ছা একটা কথা বলুন, আপনি এই রাস্তায় অটো পেতেন কি করে?

শিমুল মাথা নিচু করে চুপ করে থাকে।

অজয় শিমুলের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে আবার সামনের দিকে চোখ ফেরায়..

শিমুল মুখ তুলে বললো -
এই তো এই বাদিকে গিয়ে একটু, আপনি এইখানে রেখে দিন আমি চলে যাবো।

অজয় - বেশ... আচ্ছা শুনুন, আপনার বাবাকে একটু দেখা যেতে পারে?

শিমুল তার ছড়ানো পাটা গুটিয়ে নেয়।

শিমুল - না মানে, আমার বাড়িটা খুব ছোটো, আসলে বাড়ি নয় ঘর।

অজয় - আপনি 2026 এ এসেও এসব ভাবেন?

শিমুল - কিন্তু..

অজয় - কোনো কিন্তু না, দাঁড়ান গাড়িটা সাইড করে রাখি।

অজয় গাড়িটা রাস্তার একপাশে রেখে পিছন থেকে একটা bag নিয়ে নেয়,
— চলুন বলে,গাড়ি থেকে নেমে আসে।

শিমুলের সাথে একসাথে হাঁটতে থাকে।
কলমে : অ প্রেমিক
Topic Suggested By : Sastika Malik
সৌজন্যে : শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha
তারপর?ওদের প্রেম হলো? নাকি ভালোবাসাটা না বলাই রয়ে গেল? পরবর্তী পর্ব জানতে হলে চোখ রাখতে হবে আমাদের পেজে। আগামী রবিবার আমরা আবারও হাজির হবো গল্পের ডালি নিয়ে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন, আমাদের পেজ টিকে Follow করতে ভুলবেন না। এবং আজকের পর্ব কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। 😌

হুজুগে বাঙালি আয়োজিত চতুর্থ বার্ষিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনী "চিত্রক্যানভাস — ২" অনুষ্ঠানে শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkot...
24/04/2026

হুজুগে বাঙালি আয়োজিত চতুর্থ বার্ষিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনী "চিত্রক্যানভাস — ২" অনুষ্ঠানে শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha পরিবার উপস্থিত থাকতে পেরে অত্যন্ত আপ্লুত। ❤😌
In Frame : Sukh Sagar Das সুচন্দ্রা পাড়ুই তন্নি অপ্রেমিক Shree Kundu

Address

Kolkata
700006

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শহরের চুপকথা - Sohorer Chupkotha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share