06/02/2026
✅কর্মস্থলে সম্মান এবং প্রায়োরিটি পাওয়া অনেক সৌভাগ্যের বিষয় বলে আমি মনে করি বিশেষ করে সেটা যদি বিদেশি হিসেবে হয়। আর এই সম্মানটা আসে দক্ষতা থেকে। আপনি যে দেশেই থাকেন না কেন সেই দেশের ভাষা দক্ষতার সাথে সাথে যদি ইংলিশটাও একটু ভালো জানেন তাহলে সেই সম্মানটা পাওয়া আরও একটু সহজ হয়। জাপানে আসার পর থেকে এখনো পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ কর্মস্থলে জাপানিদের কাছ থেকে তেমন কোন খারাপ অভিজ্ঞতা বা খারাপ ব্যবহারের সম্মুখীন হই নি। সবার কাছ থেকেই একটা আলাদা প্রায়োরিটি পেয়েছি বিশেষ করে যখন আমি ফুল টাইম এমপ্লয়ি হিসেবে আছি, এখন আমি আরো বেশি প্রায়োরিটি পাই আলহামদুলিল্লাহ । আজকে আপনাদের সাথে আমার দু একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করব।
👉ঘটনা -১ : আমি এখন জাপানের হোক্কাইদোতে থাকি এবং জাপানের মধ্যে অন্যতম ঠান্ডা একটি জায়গা হচ্ছে হোক্কাইদো। আমি যেখানে থাকি ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখে সেখানে প্রচন্ড তুষার ঝড় হয়েছিল এবং সেখানে তুষার জমেছিল ৮০ সেন্টিমিটার, প্রায় আমার বুকের সমান। তো সেদিন আমার সকাল থেকে ডিউটি ছিল। আমার বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব হচ্ছে ৫ মিনিট। আমি যখন সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়েছি তখন আমি এই অবস্থা দেখলাম। জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা সেটা আমার তুষারের সাথে।
তো চেষ্টা করলাম তার ভেতর দিয়েই অফিসে যাওয়ার কিন্তু দেখা গেল যে আমি একটু রাস্তা দশ মিনিট গিয়ে আটকে গিয়েছি মাঝখানে। আমি সামনেও যেতে পারছি না পেছনেও যেতে পারছি না এবং চোখেও কিছু দেখতেছি না তুষার ঝড়ের কারণে। অনেক বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম (কান্না করছিলাম), কি করবো বুঝতে পারতেছিলাম না, কিভাবে এইখান থেকে উদ্ধার হব। তখন আমি আমার অফিসের ম্যানেজারকে ফোন দিয়েছিলাম, আমি আটকে গিয়েছি কি করব বুঝতেছিনা বলার সাথে সাথে সেই অবস্থার মধ্যে ৫ মিনিটেও যায়নি তার মধ্যে অন্য একজনকে সাহায্য করার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আর পাশ থেকে প্রতিবেশী জাপানি বয়স্ক দাদা আমাকে হেল্প করেছিলেন। সেই দুইজন মিলে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন।
আমার সেদিনের অবস্থা দেখে আমার ম্যানেজার আমাকে বলেছেন যে, এই ধরনের আবহাওয়ার অবস্থা যদি পরবর্তীতে আবারও হয়, আর তোমার যদি ডিউটি থাকে তাহলে, তোমার সেদিন না আসলেও চলবে। বা কোন হেল্প লাগলে বলবে দরকার হলে আমরা তোমাকে গিয়ে নিয়ে আসবো অফিসে। এটা আমার জন্য বড় একটা পাওয়া আলহামদুলিল্লাহ কারণ যারা জাপানে থাকেন তারা সবাই জানেন জাপানিরা কাজের উপরে অন্য কোন কিছু গুরুত্ব দেয় না এবং তাদের কাছে এই ধরনের সিচুয়েশন কোন কিছুই না, নরমাল একটা বিষয়।
👉ঘটনা -২ : আজকের ঘটনা এটা। তিন দিন যাবত একটানা অনেক বেশি কাজের চাপ যাচ্ছে আমার। অফিসে সকাল বেলা আমি কিন্তু কিছুই বলিনি, আমার ব্রেকটাইম ছিল ৩০ মিনিট তখন আমি কফি পান করতেছিলাম। তো আমার অফিসে যারা আছেন ম্যানেজারসহ সবাই আমার চোখমুখ দেখে বুঝেছিলেন যে, আমি একটু বেশি টায়ার্ড হয়ে গিয়েছি । সেজন্য আমাকে দুপুরের জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ব্রেক টাইম দিয়ে দিয়েছেন। এই যে ছোট্ট একটা বিষয় কিন্তু ২ ঘন্টা বেশি সময় দিয়েছেন রেস্ট করার জন্য এটা অনেক ভালো লাগার একটা বিষয় আমার কাছে।
✅ এরকম ছোট ছোট আরো অনেক ঘটনা আছে যেখানে আমি তাদের কাছে একটু বেশি প্রায়োরিটি পাই অন্যান্য স্টাফদের তুলনায়। আর এই সম্মান এবং প্রায়োরিটি টা কিন্তু এমনি এমনি তারা আমাকে দেয় না। তারা আমার পরিশ্রম এবং দক্ষতা দেখে দেয়। তো জাপানি ভাষা শেখার সাথে সাথে এখনতো জাপানিজ ভাষা কিছুটা হলেও বলতে পারি এবং কাজের সময় দক্ষতাটা কিছুটা হলেও দেখাতে পারি বলে মনে করি। ইংলিশ ভাষাটাও মোটামুটি পারি বলে তাদের কাছ থেকে অন্যরকম একটা সম্মান পাই। কারণ কাজের সময় আমার জাপানিজ ভাষা এবং ইংরেজি ভাষা দুইটাই কাজে লাগে।
✅সেজন্য সবাইকে বলব যারা জাপানে আসতে চান তারা বাংলাদেশ থেকে কম করে হলেও অন্তত N4 কমপ্লিট করে আসেন এবং জাপানে এসে অন্তত N2 কমপ্লিট করেন। এতে করে জাপানের জীবন একটু হলেও সহজ হবে। বর্তমানে ভাষা দক্ষতা এত বেশি প্রয়োজন যে সেটা না হলে জাপানে আপনার সারভাইভ করা এবং একটা ভালো জব পাওয়া অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যাবে।
✅ আপনারা অনেকেই জানেন আমি জাপানি ভাষার অনলাইনে ক্লাস নিয়ে থাকি। এবং বর্তমানে N4 নতুন ব্যাচ শুরু করেছি যেটা N5 এর লেসন ২০ থেকে রিভাইস করা শুরু করেছি। আমার এখানে ক্লাস করলে আপনার জাপানিজ ভাষা শুধুমাত্র পাশ করে বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কিছুটা অন্যের সাথে জাপানিজ ভাষায় কনভারসেশন করার মত অবস্থায় পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করি ইনশাআল্লাহ। যারা পরবর্তী নাট অথবা জেএলপিটি দিতে চান এবং N4 পড়তে চান তারা চাইলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। শুধুমাত্র যারা N4 করতে আগ্রহী তারাই ইনবক্স করবেন প্লিজ।
✍️কলমে Tanisha Papri
জাপান থেকে।