23/05/2026
# ধৈর্য, সততা ও পরিশ্রমের জয়
বাংলার এক ছোট্ট গ্রামের নাম ছিল শান্তিপুর। গ্রামের চারপাশে সবুজ ধানের ক্ষেত, নদীর শান্ত জল আর পাখির কিচিরমিচিরে ভরা ছিল পরিবেশ। সেই গ্রামেই বাস করত এক দরিদ্র ছেলে, তার নাম রায়হান। রায়হানের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর আর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, কিন্তু তাদের পরিবারে ছিল ভালোবাসা আর সততার শিক্ষা।
রায়হান ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিল। গ্রামের স্কুলে সে সবসময় প্রথম হতো। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে অনেক সময় বই কেনার টাকাও জোটত না। তবুও সে কখনো হতাশ হতো না। রাতে রাস্তার লাইটের নিচে বসে পড়াশোনা করত। গ্রামের মানুষ তাকে দেখে বলত,
— “এই ছেলে একদিন অনেক বড় মানুষ হবে।”
কিন্তু সবাই যে ভালোবাসত, তা নয়। গ্রামের এক ধনী ব্যবসায়ী করিম মিয়া প্রায়ই তাকে অপমান করত।
একদিন করিম মিয়া বলল,
— “গরিবের ছেলেরা বেশি স্বপ্ন দেখলে শেষে কষ্টই পায়।”
রায়হান চুপ করে ছিল। সে জানত, কথার জবাব কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দিতে হয়।
একদিন স্কুলে একটি বড় পরীক্ষার আয়োজন হলো। যে প্রথম হবে, সে শহরের কলেজে পড়ার জন্য বৃত্তি পাবে। রায়হান খুব মন দিয়ে প্রস্তুতি নিতে লাগল। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সংসারে ওষুধ কেনার টাকাও ছিল না।
রায়হান সারারাত বাবার সেবা করল। তার মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
— “বাবা, তোমার পরীক্ষা আছে। তুমি পড়তে বসো।”
রায়হান মায়ের হাত ধরে বলল,
— “পরীক্ষা আবার দেওয়া যাবে মা, কিন্তু বাবার সেবা করার সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না।”
পরদিন ক্লান্ত শরীর নিয়েই সে পরীক্ষায় অংশ নিল। পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখে অনেক ছাত্র নকল করছে। এক বন্ধু তাকে বলল,
— “নকল করে লিখ, না হলে প্রথম হতে পারবে না।”
রায়হান শান্তভাবে উত্তর দিল,
— “অন্যায়ের মাধ্যমে পাওয়া সাফল্য কখনো সত্যিকারের সাফল্য নয়।”
কয়েক সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ হলো। পুরো গ্রামের সবাই অবাক হয়ে গেল। রায়হান প্রথম হয়েছে। শুধু তাই নয়, সে জেলা পর্যায়েও সেরা ছাত্র নির্বাচিত হয়েছে।
গ্রামের মানুষ আনন্দে তাকে অভিনন্দন জানাতে লাগল। করিম মিয়া লজ্জিত হয়ে তার কাছে এসে বলল,
— “বাবা, আমি তোমাকে ছোট করেছিলাম। আজ বুঝলাম, মানুষের বড় পরিচয় টাকা নয়, চরিত্র।”
রায়হান হাসল। সে বলল,
— “মানুষ ভুল করতেই পারে চাচা। কিন্তু ভুল বুঝতে পারাই আসল শিক্ষা।”
শহরে গিয়ে রায়হান আরও মন দিয়ে পড়াশোনা করতে লাগল। অনেক কষ্টের পর সে একজন বড় ডাক্তার হলো। কিন্তু বড় হওয়ার পরও সে নিজের গ্রামকে ভুলে যায়নি। সে গ্রামে একটি ফ্রি হাসপাতাল তৈরি করল, যাতে গরিব মানুষ বিনা টাকায় চিকিৎসা পায়।
হাসপাতাল উদ্বোধনের দিন রায়হানের মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন,
— “আজ তোমার বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”
রায়হান আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “জীবনে কষ্ট আসবেই। কিন্তু ধৈর্য, সততা আর পরিশ্রম থাকলে মানুষ একদিন সফল হবেই।”
সেদিন গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তাদের চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের আলো।
# # শিক্ষণীয় বিষয়
* দারিদ্র্য কখনো মানুষের স্বপ্ন থামাতে পারে না।
* সততার পথ কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত জয় সেখানেই হয়।
* বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন মানুষের সবচেয়ে বড় কর্তব্য।
* অপমানকে শক্তিতে পরিণত করতে পারলে সফলতা একদিন আসবেই।
* পরিশ্রম ও ধৈর্য মানুষকে সম্মানের আসনে পৌঁছে দেয়।
Smarter Shopping, Better Living! Aliexpress.com