10/10/2025
চালাক ফটিকের বুদ্ধির লড়াই
----------------------------------------
ফটিক ছিল গ্রামেরই এক গরিব ছোঁকরা, দুষ্টুমি আর বুদ্ধিতে সব্বার সেরা। বাপ-মা মাঝে মাঝে বকাঝকা করলেও, গ্রামে সবাই জানত—ফটিকের মাথার চালাকি কারও সঙ্গে মেলে না।
একদিন গ্রামের মাতব্বরের মনে সন্দেহ হলো। তিনি বললেন,
— “এই ছোঁকরা নাকি খুব বুদ্ধিমান? দেখি তো, আমার তিনটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে কিনা!”
খবর ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। পরের দিন গ্রামের মাঠে ভিড় জমল, বুড়ো-ছোঁড়া সবাই হাজির। ফটিক এল খালি পায়ে, মুখে চতুর হাসি।
প্রথম প্রশ্ন:
মাতব্বর এক মুঠো ধান ছুঁড়ে দিয়ে বললেন,
— “বল তো, কত দানা ধান আছে এখানে?”
ফটিক চোখ টিপে বলল,
— “একটা দানা কম হলে যত থাকে, আর একটা দানা বেশি হলে যত হয়—এইটাই।”
গ্রামমাঠে হাসির রোল পড়ে গেল। মাতব্বর মাথা চুলকে বললেন, “এই উত্তরটাও তো ভুল নয়!”
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
মাতব্বর মুঠো শক্ত করে ধরে জিজ্ঞেস করলেন,
— “আমার হাতের মধ্যে কী আছে?”
ফটিক নির্লিপ্তভাবে বলল,
— “আপনি হাত খুললে আমি বলব ভুল, বন্ধ রাখলে বলব মিথ্যা। তাই উত্তরটা আপনার হাতেই আছে।”
লোকজন চেঁচিয়ে উঠল—“ওই দ্যাখো, মাতব্বরই থেমে গেলেন!”
তৃতীয় প্রশ্ন:
এবার মাতব্বর বললেন,
— “বল দেখি, দুনিয়ার সব থেকে দ্রুত জিনিসটা কী?”
ফটিক এক মুহূর্ত না ভেবেই বলল,
— “মানুষের বুদ্ধি। চোখের পলক পড়ার আগেই সেটা সব কিছু ধরতে পারে।”
মাতব্বর হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। তারপর গম্ভীর গলায় ঘোষণা করলেন,
— “আমি মেনে নিচ্ছি, ফটিক আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছেলে।”
ফটিক হাসতে হাসতে বলল,
— “মাতব্বর, এত বুদ্ধির পরীক্ষা না নিলেই পারতেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম—আমি ফটিক, নামেই আছে ফাটাফাটি বুদ্ধি!”
গ্রামজুড়ে হইচই পড়ে গেল, সবাই হাততালি দিতে লাগল। সেই থেকে ফটিক শুধু দুষ্টুমি নয়, বুদ্ধির জন্যও গ্রামের গর্ব হয়ে উঠল।
゚viralシfypシ゚viralシalシ