15/08/2026
সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করলে ইদানীং একটা বিষয় খুব চোখে পড়ে—ভার্চুয়াল জগতে মানুষের সুন্দর সুন্দর শব্দের মায়াজাল আর সাজানো থিওরি। বিশেষ করে নারী শিক্ষা, নারীর আত্মসম্মান, ব্যক্তিত্ব আর অধিকার নিয়ে একেকজন এত চমৎকার সব পোস্ট লেখেন যে সত্যি মুগ্ধ হতে হয়।😊
🥸 কিন্তু, নিজের বাস্তব জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা আর চারপাশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হয়েছে, মুখের বড় বড় আদর্শ আর মানুষের ভেতরের আসল মনস্তত্ত্ব—এই দুইয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকে। ☺
আমার কাছে মনে হয়, আমরা আমাদের চারপাশে আসলে তিন ধরনের পুরুষ দেখতে পাই:
••প্রথমত হলেন 'শিক্ষিত' পুরুষ। তিনি হয়তো মস্ত বড় কোনো ডিগ্রিধারী বা সাধারণ কোনো মানুষ। কিন্তু তার আসল পরিচয় প্রকাশ পায় তার আচরণে ও সংযমে। তিনি যখন কোনো নারীর সাথে কথা বলেন, তিনি তার সীমানাটুকুকে মনে-প্রাণে সম্মান করেন। তার চোখের ভাষা বা কথায় কোনো নোংরা ইঙ্গিত বা সস্তা কৌতূহল থাকে না। তিনি কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য বা লাইক-কমেন্ট কুড়ানোর জন্য নারীর প্রশংসা করেন না। বরং বাস্তবে তার সামনে দাঁড়ানো মানুষটির ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেন। তার উপস্থিতি কখনো কোনো নারীর মনে অস্বস্তি বা ভয়ের কারণ হয় না, বরং আস্থার কারণ হয়। এটাই প্রকৃত শিক্ষা।
••দ্বিতীয় দলটা হলো 'শিক্ষিত মূর্খ'। এরা খুব চতুর আর মুখোশধারী। এরা অনলাইনে বা সমাজে নারীর অধিকার আর সম্মান নিয়ে বড় বড় কথা বলবে। কিন্তু বাস্তব জীবনে কোনো নারীর একটু সরলতা, দুর্বলতা বা সুযোগ পেলেই তার ব্যক্তিগত জীবনে উঁকিঝুঁকি মারবে। 'মজার ছলে' বা হাসির আড়ালে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলবে, নারীর পার্সোনাল বাউন্ডারি (ব্যক্তিগত সীমানা) কেমন বা সে কেমন মানসিকতার—তা যাচাই করার চেষ্টা করবে। মুখে এদের বড় বড় আদর্শ, কিন্তু মনে থাকে সস্তা কুৎসিত কৌতূহল। এদের বড় বড় ডিগ্রি হয়তো আছে, কিন্তু দৃষ্টির পবিত্রতা বা প্রকৃত শিক্ষা এদের নেই।
•• তৃতীয় দলটা হলো যারা 'শুধু অশিক্ষিত'। অর্থাৎ যাদের হয়তো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, কিন্তু প্রখর জ্ঞান না থাকলেও মনুষ্যত্ব , বিবেক আছে। যিনি হয়তো বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি, সাধারণ একটা কাজ করে জীবন চালান, কিন্তু তিনি জানেন একটা মেয়ের লড়াই, তার সম্মান বা ব্যক্তিত্বকে কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয়। তাকে ভদ্রতা বা কাণ্ডজ্ঞান শেখার জন্য কোনো বড় বড় বই পড়তে হয়না, তার ভেতরের সহজ বিবেকই তাকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। তিনি মনে করেন, যে পুরুষ একটা মেয়েকে মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে পারে না, তার সার্টিফিকেটের কাগজটা শুধুই একটা মূল্যহীন ঠোঙা।
আসলে দিনশেষে আমি এটাই বিশ্বাস করি যে, প্রকৃত পুরুষত্ব বা ব্যক্তিত্ব কোনো সুন্দর শব্দে বা সাজানো লেখায় থাকে না; তা প্রকাশ পায় মানুষের আচরণে, চাহনিতে আর দৃষ্টিভঙ্গির পবিত্রতায়। শব্দের কারসাজি দিয়ে সাময়িক মনোযোগ বা বাহবা পাওয়া খুব সহজ হতে পারে, কিন্তু অন্য মানুষের ব্যক্তিগত সীমানাকে মনে-প্রাণে শ্রদ্ধা করার নামই আসল শিক্ষা। যারা মনে করে মুখোশ পরে অন্য একটা মানুষের সীমানা লঙ্ঘন করা যায়, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। প্রকৃত ব্যক্তিত্ব কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না, তা আচরণেই ধরা পড়ে যায়।🙂