24/06/2023
এখন কথা হচ্ছে, পৃথিবীতে যদি কেউ গান না গায়, কবিতা না লেখে , ছবি না আঁকে, ভাস্কর্য না বানায় , মানবজাতির কী এসে যাবে? সত্যিই তো, কবিতা লিখে সংসার চলে না, ছবি আঁকিয়েদের অনেককেই না খেয়ে থাকতে হয়, ভাস্কর্যেরই বা কী এমন গুণ? সবাই যদি ব্যাংকার হত, অথবা কাজ করতো সফটওয়্যার ফার্মে, তাহলে নিশ্চয়ই পৃথিবীটা আরো উৎপাদনশীল হত? আরো সাচ্ছন্দ্যময় হত?
মোটেও না ! আমার তো মনে হয় শিল্প-সাহিত্য-গান না থাকলে মানব সভ্যতা ধ্বংসের মুখে এগিয়ে যেত। কি, বিশ্বাস হয় না?
সভ্যতা গড়ে ওঠে কিসে? শুধুমাত্র ইট-পাথর-কনক্রিটের ইমারত দিয়ে? ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ডিভাইস দিয়ে? হ্যাঁ, এগুলি সভ্যতার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু সভ্যতা মানে শুধুমাত্র বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি না। শিল্প-সাহিত্য ছাড়া সভ্যতা গড়ে ওঠে না।
আমি ছবি আঁকা, গান গাওয়া, কবিতা লেখা, গল্প রচনা করা, সবকিছুকে শিল্পের একটি সমন্বিত রূপে দেখতে চাই। মানুষ একটি অনুভূতিশীল প্রাণী। যে প্রাণীর অনুভূতি এবং আবেগ যত প্রখর, সে তত উন্নত। পশু-পাখিরা শুধুমাত্র আদিম প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত। তাদের বেঁচে থাকতে হলে খাদ্য এবং বাসস্থান, এই দুই হলেই চলে। কিন্তু মানুষের চাহিদা বেশি। তার মনের খোরাক লাগে। তার বিনোদন লাগে। তার অভিমান হয়, মন খারাপ হয়, সে অনেক কিছু কল্পনা করে, যেগুলি প্রকাশের মাধ্যম হলো শিল্পকলা এবং সাহিত্য।
আদিম মানুষও কিন্তু গুহাচিত্র এঁকেছে। কেন এঁকেছে? শুধুমাত্র সেই থেকে বোধের উন্মেষ শুরু। সেই থেকে আমাদের মানুষ হওয়া শুরু।
কবিতা ভাত যোগাবে না, কবিতা কর্মসংস্থান যোগাবে না, জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে না। একজন কবি মারা গেলে হয়তো পৃথিবীর কিছুই বদলাবে না। কিন্তু যদি এমন হয়, যে পৃথিবীতে কোন কবি নেই, কবিতা নেই, কবিতা পাঠ নিষিদ্ধ, এক বছরের মধ্যে আত্মহত্যার হার অনেক বেড়ে যাবে।
যারা ছবি আঁকে, কবিতা লেখে, গল্প লেখে,গান গায়, সবাই একটি সমন্বিত মহাঅস্তিত্বের অংশ বলে আমার মনে হয়। একই অনুভূতি কেউ গান গেয়ে প্রকাশ করে, কেউ কবিতা লিখে, কেউ ছবি এঁকে। অনুভূতির প্রখরতা যদি মানুষের না থাকতো, গল্প-কবিতাও যেমন দরকার হত না, অতি উন্নত প্রযুক্তি দিয়েও কিছু এসে যেত না।
আপনি আর আমি গাছে গাছে চড়ে বেড়াতাম আর কাঁচা মাংস খেয়ে ক্ষুধা মিটাতাম।
একজন কবি বা একজন শিল্পী মারা গেলে কিছু এসে যায় না হয়তো। কিন্তু পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণভোমরা রক্ষিত আছে শিল্পীদের হাতেই।