02/09/2026
এইগুলো এখন শুধুই ইতিহাস! কয়েক যুগ পরে দুর্লভ ইতিহাস হয়ে থাকবে! হোমনা, মেঘনা, বাঞ্ছারামপুর, মুরাদনগর এই জনপদের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিলো এই লঞ্চগুলো রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নদীপথে।
রামচন্দ্রপুর থেকে তিতাস নদীর বুক চিরে ছুটে চলতো প্রতিনিয়ত একের পর এক স্থানে যাত্রাবিরতি, লোকজনের হৈ হুল্লোড়, কর্মব্যস্ততায় জমজমাট থাকতো প্রতিটি লঞ্চঘাট!
লঞ্চের সাইরেন শুনে দূর থেকে বুঝা যেতো লঞ্চ আসছে নির্দিষ্ট সময়ে। ভাড়াও কম ছিলো, আর লঞ্চ যাত্রা নদীপথে শান্তির নীড়। চারিদিকের মনোরম দৃশ্য, ঠান্ডা মৃদু বাতাস হকারের মজাদার খাবার, এলাকার লোকজন সবমিলিয়ে দারুণ একটি ভ্রমন! বাঞ্ছারামপুর থেকে আসতো বিমানের মত একটি লঞ্চ, ছোট্ট দ্রুতগতির রীম, আরও আগে আলীনুর, গুলেনুর, সীবার্ড ফরদাবাদ, রামচন্দ্রপুর টু নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী দিনরাতব্যাপী চলাচল করতো লঞ্চগুলো! আমার নিজেরও অজস্র স্মৃতি রয়েছে এই লঞ্চগুলোর সাথে! সদরঘাটে নিজেদের এলাকার লঞ্চগুলো দেখলেই অনেক ভালো লাগতো, সর্বশেষ ২০১৮ সালে সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে বাড়ি যাই। প্রচুর মালামাল পণ্য পরিবহন করতো চন্দনপর, হোমনা, উজানচর, রামকৃষ্ণপুর ঘাটে অনেক মালামাল নামাতো! সময়ের বিবর্তনে হাড়িয়ে যাচ্ছে এই শত বছরের ঐতিহ্য! করোনার পর থেকে ২০২০ সাল থেকে সদরঘাট থেকে রামচন্দ্রপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ!
তবে, দুটি লঞ্চ রামচন্দ্রপুর নারায়ণগঞ্জ রুটে এখনও নিয়মিত চলাচল করে! আর এখন তো দৌলতপুর লঞ্চঘাট ও নেই!! এগুলো এই জনপদের মানুষের কাছে আবেগ, অনুভূতি এবং ভালোবাসা। সময় বদলে যায়, মানুষ বদলায় কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। সড়কপথে যাতায়াতের সুব্যাবস্থা থাকায় সবাই ঐদিকে ছুটছে, কিন্তু এই যানজট ধূলাবালি মাখা ধূসর পথ ছেড়ে নদীপথে লঞ্চে যাতায়াত করুন অল্প টাকায় মনের প্রশান্তি পাবেন অস্থির এই দুনিয়ায়!