23/08/2026
মেঝে পরিষ্কারের কার্যকর পদ্ধতি - করুন এভাবে
নিয়মিত ঘর মোছার পরও মেঝেতে ময়লার ছাপ, জুতোর দাগ কিংবা তেলচিটে ভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় চা-কফি বা খাবারের পুরোনো দাগও সহজে উঠতে চায় না। এর কারণ, শুধু পানি ও ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মুছলেই মেঝেতে আটকে থাকা সব ধরনের ময়লা পুরোপুরি দূর হয় না।
প্রতিদিনের ধুলো, খাবারের ছোট কণা, রান্নার তেল, জুতোর ময়লা ও অন্যান্য আবর্জনা ধীরে ধীরে মেঝের উপর জমতে থাকে। এগুলোর কিছু অংশ সাধারণ ঝাড়ুতে উঠে গেলেও শক্ত হয়ে থাকা ময়লা মেঝেতে আটকে যায়। তখন সরাসরি ভেজা মপ ব্যবহার করলে সেই ময়লা পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে চারদিকে ছড়িয়ে দাগ তৈরি করতে পারে।
তাই মেঝে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হলে ভেজা কাপড় বা মপ ব্যবহারের আগেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
শুকনো অবস্থায় ময়লা সরানঃ
পরিষ্কারের শুরুতেই মেঝের ধুলো ও আলগা ময়লা ভালোভাবে সরিয়ে নিন। শুধু মাঝখানের খোলা অংশ নয়, ঘরের কোণা, আসবাবের নিচে, দেয়ালের পাশ এবং দরজার আশপাশেও বিশেষভাবে নজর দিন।
টাইলস বা মার্বেলের যেসব জায়গায় পুরোনো দাগ রয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করুন। কারণ, পুরো মেঝে একসঙ্গে মোছার সময় শক্ত দাগগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া হয় না।
দাগ আলগা করতে ঘরোয়া উপায়ঃ
দাগযুক্ত অংশ পরিষ্কারের জন্য সমপরিমাণ বেকিং সোডা ও লবণ মিশিয়ে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। মিশ্রণটি দাগের ওপর দিয়ে নরম স্ক্রাবার দিয়ে খুব হালকা হাতে ঘষুন। এতে জমে থাকা ময়লার স্তর আলগা হয়ে পরবর্তী ধাপে পরিষ্কার করা সহজ হতে পারে।
তবে এই পদ্ধতি সব ধরনের মেঝের জন্য উপযুক্ত নয়। পালিশ করা মার্বেল, প্রাকৃতিক পাথর বা বিশেষ ফিনিশযুক্ত মেঝেতে ঘষাঘষি করলে উপরিভাগের উজ্জ্বলতা নষ্ট হতে পারে কিংবা নতুন দাগ তৈরি হতে পারে। তাই কোনো মিশ্রণ ব্যবহারের আগে মেঝের ছোট ও কম দৃশ্যমান অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই নিরাপদ।
এবার ভেজা মপ ব্যবহার করুনঃ
দাগ ও জমে থাকা ময়লা আলগা করার পর পুরো মেঝে আবার ভালোভাবে ঝেড়ে বা ভ্যাকুয়াম করে নিন। এরপর পরিষ্কার পানিতে মেঝের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ফ্লোর ক্লিনার মিশিয়ে মপ করুন।
জীবাণুনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হলে পণ্যের গায়ে লেখা নির্দেশনা এবং নির্ধারিত পরিমাণ অনুসরণ করুন। বেশি পরিমাণে সাবান, ফিনাইল বা ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহার করলেই মেঝে বেশি পরিষ্কার হবে—এ ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্লিনার মেঝেতে থেকে গেলে আঠালো স্তর তৈরি হতে পারে। সেই স্তরে আবার খুব দ্রুত ধুলো ও ময়লা আটকে যায়।
গরম পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকুনঃ
হালকা গরম পানি কিছু ধরনের তেলচিটে ময়লা পরিষ্কারে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সব টাইলস, মার্বেল, পাথর কিংবা অন্য ফ্লোরিংয়ের জন্য গরম পানি নিরাপদ নয়। তাই মেঝের উপাদান এবং ব্যবহৃত ক্লিনারের নির্দেশনা বিবেচনা করে পানির তাপমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
একই সঙ্গে একাধিক রাসায়নিক ক্লিনার মেশানো থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। ব্লিচ, ফিনাইল, অ্যাসিডজাতীয় ক্লিনার কিংবা অন্য কোনো পরিষ্কারক একসঙ্গে মিশলে ক্ষতিকর গ্যাস বা বিপজ্জনক রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। একটি ক্লিনার ব্যবহারের পর প্রয়োজন হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মেঝে ভালোভাবে মুছে নিন।
সপ্তাহে এক দিন বাড়তি যত্ন নিনঃ
প্রতিদিনের সাধারণ পরিষ্কারের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক দিন মেঝে একটু গভীরভাবে পরিষ্কার করা ভালো। বিশেষ করে বেশি চলাচল হয় এমন জায়গা, আসবাবের নিচে, দেয়ালের পাশ, রান্নাঘরের আশপাশ এবং ঘরের কোণাগুলোতে জমে থাকা ময়লা ভালোভাবে সরিয়ে ফেলুন।
চা, কফি, তেল বা খাবার মেঝেতে পড়ে গেলে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখবেন না। যত দ্রুত দাগ পরিষ্কার করা যায়, তা তত সহজে উঠে আসে। দাগ শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে সেটি তুলতে বেশি সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন হতে পারে।
মেঝে পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখার জন্য কোনো একটি বিশেষ মিশ্রণই যথেষ্ট নয়। কার্যকর ফল পেতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা, ভেজা মপের আগে শুকনো ময়লা সরানো, মেঝের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনার নির্বাচন এবং রাসায়নিকের পরিমিত ব্যবহার।
পরিষ্কারের ধাপগুলো একটু গুছিয়ে অনুসরণ করলে মেঝে মোছার পর দাগ বা আঠালো ভাব থেকে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘরও থাকবে আরও পরিচ্ছন্ন, সতেজ ও আরামদায়ক।