11/05/2023
একটা সময় ছিল যখন আমি প্রচুর চশমার ফ্রেম ভাঙতাম,সবে যখন প্রাথমিকের গণ্ডি পেড়িয়ে তার একধাপ ওপরে উঠি তখন থেকেই চশমা আর উম্মু একে অপরের সব সময়ের সঙ্গী।তবে বনিবনাটা কেন জানি একদমই হয়ে উঠত না।এমনও সময় গেছে আগের দিন আব্বু ফ্রেমটা গড়ে আনলেন,আর আমি বেখেয়ালে ঘুমের ঘোরে বিছানার পাশে চশমা টা রেখে ঘুমুতে গিয়ে ঘুমের ঘোড়েই হাত পা লাগিয়ে ফ্রেমের হাতল বা গ্লাস টা ভেঙে দিলাম।
আবার ছোটবেলায় আমি ইরেজার হারাতাম প্রচুর,অন্য সব বাচ্চাদের সাথে তূলনা করলে আমার হারানোর রেকর্ড টা কমই ছিল ধরতে গেলে বলা যায়।
আমার ছোট থেকেই নিজের সাথে নিজের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার একটা সুঅভ্যাস ছিল আলহামদুলিল্লাহ।কখনো কখনো যদিও সেটা খারাপ ভাবে প্রকাশ পায়,তবে ভালোটাও আছে।
যেমন হুট করেই একদিন ডিসিশন ফাইনাল হলো মনে মনে আমি আজকের পর যেদিন হতে চশমার ফ্রেম মিনিমাম দেড় বছরের বেশী চালাতে পারব,সেদিন বুঝব একটা জিনিসকে যত্ন নিতে শিখে গেছি আমি।
আবার অন্য একদিন একিভাবে এমন আরো একটা সিদ্ধান্ত তৈরী হলো,যা ছিল যেদিন থেকে ইরেজার হারানো বন্ধ হবে আমার সেদিন থেকে বুঝব জিনিসের প্রতি মায়া দিয়ে ভালাবাসা দিয়ে সংরক্ষণ করার মতো সুঅভ্যাস বা ম্যাচিউরিটি টা এসেছে আমার যা নিতান্তই প্রয়োজনীয় ছিল।
এভাবে করে নিজের সাথে নিজে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই প্রতিনিয়ত,নিজেকে নিজে যতোবার গড়ি আর চিন্তা করি কেমন করে ছোট থেকে বড় হয়ে গেলাম,ভালো পরিস্থিতি খারাপ পরিস্থিতি বুঝে গুছিয়ে চলা শিখে গেলাম।একটা কথা আমি সব সময় মনের ভিতর নিয়েই চলি,"লেস এক্সপেক্টেশন্স,মোর স্যাটিসফ্যাকশন!"
আশা জিনিস টা না রেখে গুছিয়ে চলা শিখে যেতে পারলেই জীবন সুন্দর।
(জ্বরের ঘোরে পড়ে দেড় বছরেরও বেশী সময়ের সঙ্গী চশমা টা কে হারিয়ে পুরনো উম্মুকে মনে পড়ে গেল কেমন করে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার পথ চলা শুরু করেছিলাম।কস্ট একাউন্টিং এর মতো এক্সামে গিয়ে দুইবার চোখ লেগে এসেছিল প্রচন্ড খারাপ লাগা থেকে যেখানে সেখানে লাইনের পর লাইন লিখে ফেললাম অথচ খারাপ লাগছে না এখন আর।)