25/03/2026
ঈদের দ্বিতীয় দিনে আমার আপন মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফিহান (মাত্র ২ বছর বয়স) ভুলবশত একটি হিজাবের পিন গিলে ফেলে। ও এখনো খুব ছোট, ঠিকভাবে কথা বলতেও পারে না। পিনটি গেলার সময় আমার মামী বিষয়টা লক্ষ্য করেছিলেন, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। পরে সন্দেহ হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে পিনটি তার পেটে চলে গেছে।
এরপর দ্রুত ঢাকার শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আবার এক্স-রে করার পর ডাক্তাররা জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি নিতে বলেন এবং পর্যবেক্ষণে রাখেন। পিনটি অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এবং বাচ্চাটি খুব ছোট হওয়ায় এন্ডোস্কোপি করা সম্ভব হচ্ছিল না। ডাক্তাররা আশা করেছিলেন, স্বাভাবিকভাবে পায়খানার সাথে পিনটি বের হয়ে যাবে, নাহলে অপারেশন করতে হতে পারে।
আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর অসীম রহমতে আজ অবশেষে পিনটি পায়খানার সাথে বের হয়ে যায় এবং আমরা বড় একটি বিপদ থেকে রক্ষা পাই।
হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় দেখেছি, আমাদের আশেপাশে আরও অনেক এমন ঘটনা ঘটেছে—কেউ মেহেদির পিন, কেউ কয়েন, কেউ আবার চুম্বক গিলে ফেলেছে। এসব দেখে বুঝতে পারলাম, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকা জরুরি।
সবাইকে অনুরোধ করবো, আপনার সন্তানের প্রতি আরও যত্নশীল হোন—
1. বাচ্চা যদি মুখে যেকোনো কিছু দেওয়ার অভ্যাস করে, তাহলে শুরু থেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করুন।
2. বাচ্চার আশেপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখুন, যেন ছোট কোনো বস্তু তার হাতে না পায়।
3. বাসায় অতিথি এলে তাদেরও সতর্ক থাকতে বলুন, যেন তারা ছোট জিনিসপত্র এদিক-সেদিক ফেলে না রাখে।
4. সবসময় চেষ্টা করুন বাচ্চার সাথে কেউ না কেউ থাকুক—মা, নানু, খালা, চাচা বা অন্য কেউ।
5. বাচ্চাকে কখনোই রান্নাঘরে একা যেতে দেবেন না, কারণ সেখানে গরম পানি বা বিপজ্জনক জিনিস থাকতে পারে।
এছাড়া, যদি কখনো এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
সবার সন্তানের সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করি।