24/03/2026
শীতকাল আসলে কীভাবে বাঁচে মৌমাছিরা?
বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল চলে। এই সময়টা মৌমাছিদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের, কারণ বাইরে তাপমাত্রা কমে যায় এবং ফুলও কম থাকে, যার কারণে খাবার (nectar/pollen) জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অনেক পোকামাকড় যেখানে হাইবারনেট করে বা মরে যায়, সেখানে honeybee-রা একেবারে ভিন্নভাবে টিকে থাকার কৌশল অবলম্বন করে।
শীতের সময় মৌমাছিরা hive এর ভিতরে রাণী মৌমাছি -কে কেন্দ্র করে একটা গোল ক্লাস্টার বা বলের মতো গঠন করে। এই ক্লাস্টারের ভিতরের মৌমাছিরা তাদের flight muscle কাঁপিয়ে (vibrate করে) গরম উৎপন্ন করে। এই communal shivering এর মাধ্যমে তারা হাইভের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রায় ৯৫°F) এর মতো ধরে রাখে, যদিও বাইরের তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায়।
এই তাপ উৎপন্ন করার জন্য প্রচুর energy লাগে, আর সেই energy আসে মধু থেকে—যা তারা গ্রীষ্ম ও শরৎকালে সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে রাখে।পোষা মৌমাছির ক্ষেত্রে, মধু সংগ্রহে না থাকলে তাদেরকে গ্লুকোজ সিরাপ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয় । Worker bee-রা পালা করে ক্লাস্টারের বাইরের ঠান্ডা অংশে ও ভিতরের গরম অংশে যায়, যাতে কোনো মৌমাছি একটানা ঠান্ডায় না থাকে। এইভাবেই তারা সমবায় কৌশলে পুরো কলোনিকে শীতকাল পার করায়।
এই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা শুধু টিকে থাকে না, বরং পরের spring season (আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে মে) শুরু হলে আবার ফুলে ফুলে উড়ে বেড়িয়ে pollination শুরু করে। তাদের এই পরিকল্পনা ও সহযোগিতামূলক বাঁচার উপায় প্রকৃতির এক অসাধারণ উদাহরণ।
✍️ কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান সাজিদ