07/05/2025
কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক বেশ গম্ভীর কণ্ঠে আমাকে উনার পরিচয় দিলেন, 'সিভিল আর্কিটেক্ট'। রামপুরায় পরিচিত এক আঙ্কেলের একটা অ্যাপার্টমেন্ট ডিজাইন করে দিচ্ছেন, রাজউক অ্যাপ্রুভাল সহ কন্ট্রাক্টে পুরো প্যাকেজ। ডিজাইন বা প্ল্যানের দুরাবস্থা নিয়ে কিছু না বলি। তবে এমন অদ্ভুত পরিচয় শুনে নিশ্চিত হতে আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম, 'কী বললেন?'
— সিভিল আর্কিটেক্ট
মানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, নাকি আর্কিটেক্ট?
— দুইটাই করি।
ও, আচ্ছা। তা পড়াশোনা করেছেন কোথায়?
— আমার সাথে বড়ভাই আছেন, উনি চুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার।
সেটা ভালো কথা, কিন্তু আপনার পড়াশোনা?
— আমি আহসানউল্লাহ-তে ছিলাম।
আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে কেউ 'সিভিল আর্কিটেক্ট' গোছের কিছু হওয়ার কথা না। আর্কিটেক্ট হবে, অথবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হবে। ফলে বুঝতে পারলাম ভদ্রলোক পড়াশোনা করেছেন আহসানউল্লাহ ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে, কিন্তু বলার ধরনে বোঝাতে চেষ্টা করছেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আবার কনফিডেন্স লেভেল দেখে ক্লায়েন্টও ভেবেছেন, আর্কিটেক্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারের কাজ দুটোই যেহেতু এই 'সিভিল আর্কিটেক্টের' কাছে পাওয়া যাবে— ফলে এই লোকই উপযুক্ত!
যাই হোক, মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরকম 'সিভিল আর্কিটেক্ট'রা আজকালকার সাস্টেইনেবিলিটি বা গ্রিন বিল্ডিং সংক্রান্ত আলাপও কিছুটা বুঝে ফেলেছেন। তারা জানেন, অনেক মানুষই এখন গ্রিন খোঁজে। তাদের সাইনবোর্ড এবং ভিজিটিং কার্ডেও সেটা স্পষ্ট।
কোম্পানির নাম অনেকটা এমন— গ্রিন ইঞ্জিনিয়ারিং।
কিন্তু, কী কারণে গ্রিন?
কারণ সাইনবোর্ডের রঙ সবুজ!
Collected.