20/10/2025
মীর্জা গালিব একদিন মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। মুসল্লীরা তাকে বাধা দিলেন। তারা বললেন, "মাসজিদ খুদা কা ঘর হ্যায়, পিনে কে লিয়ে নেহি"। মসজিদ খোদার ঘর, পানশালা নয়।
গালিব তাকালেন মুসল্লীদের দিকে। তারপর আরেক চুমুক খেয়ে আওড়ালেনঃ
"শারাব পিনে দে মাসজিদ মে ব্যায়েঠকার,
ইয়া, ও জাগা বাতা যাহা খুদা নেহি।"
আমাকে মদ খেতে দাও মসজিদে বসেই। না হয় এমন জায়গা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।
মুসল্লীরা লা জবাব। খোদা নাই এমন জায়গা খুঁজে বের করা কঠিন বৈকি! অসম্ভব ব্যাপার৷
তবে জবাব দিলেন আল্লামা ইকবাল। বহু বছর পর। তার শের দিয়ে। তখন মীর্জা আর বেঁচে নেই।
“ইয়া গালিব!
মাসজিদ খুদা কা ঘর হ্যায়
পিনে কি জাগা নেহি,
কাফির কে দিল মে যা
ওঁয়াহা খুদা নেহি”।
হে গালিব! মসজিদ খোদার ঘর, পানশালা নয়। কাফেরের হৃদয়ে গিয়ে দেখো, সেখানে খোদা নাই।
আহমদ ফারাজ নামের আরেকজন কবি আল্লামা ইকবালের প্রতিউত্তরে লিখলেন,
“কাফির কে দিল সে
আয়া হু দেখ কার,
খুদা মওজুদ হ্যায় ওঁয়াহা,
মাগার উসসে পাতা নেহি”
কাফিরের মনে উঁকি দিয়ে দেখে এসেছি। সেখানেও আল্লাহ আছেন। কিন্তু সে বেখবর, জানতেও পারে না।
তার জবাবে কবি ওয়াসি লিখলেন,
“খুদা তো মওজুদ
দুনিয়া মে হার জাগা।
তু জান্নাত মে যা
ওঁয়াহা পিনে সে মানা নেহি”
খোদা তো দুনিয়ার সবখানেই উপস্থিত আছে। তুমি জান্নাতে যাও, ওখানে মদ খেতে বাধা নেই।
এরপর সাকি লিখলেন,
"পীতা হুঁ সাকি গাম-এ-দুনিয়া ভুলানে কে লিয়ে
জান্নাত মে কৌন সা গাম হ্যায়?
ইসি লিয়ে ওঁয়াহা মাজা নেহি।"
আমিতো পান করি দুনিয়াতে দুঃখ ভুলে থাকতে। কিন্তু বেহেশতেতো দুনিয়াবি দুঃখ কষ্ট থাকবে না। দুঃখ ভুলবার জন্য ওখানে মদ খেয়ে মজা পাওয়া যাবে না।
©️ Elora Zaman