04/06/2026
ইনভিসিবল ফ্লেক্স
দশ বছর ধরে আমি একটি মানুষকে ভালোবেসেছিলাম। সময়, অনুভূতি, অপেক্ষা, স্বপ্ন,সবকিছুর মধ্যে তার উপস্থিতি ছিল। ভেবেছিলাম, একদিন হয়তো এই দীর্ঘ পথচলার একটি গন্তব্য হবে। কিন্তু জীবনের সব গল্প পূর্ণতা পায় না।
একদিন দেখলাম, যে মানুষটিকে ঘিরে এত বছরের স্বপ্ন বুনেছিলাম, সে অন্য একজনের হাত ধরে নতুন জীবনে পা রেখেছে। আরও অবাক হয়েছিলাম এই দেখে যে, অল্প সময়ের মধ্যেই সে নতুন জীবনে হাসছে, সুখী আছে, স্বাভাবিক আছে। যেন আমার সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কোনো ভার তার হৃদয়ে নেই।
প্রথম দিকে প্রশ্ন ছিল অনেক। কেন? কীভাবে? এত সহজে কি মানুষ ভুলে যেতে পারে? এত বছরের সম্পর্ক কি সত্যিই এত হালকা ছিল?
কিন্তু সময় আমাকে একটি জিনিস শিখিয়েছে—সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি নয়। কিছু উত্তর নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
আমার ইনভিসিবল ফ্লেক্স এটা নয় যে আমি তাকে ভুলে গেছি। আমার ইনভিসিবল ফ্লেক্স এটা নয় যে আমি কষ্ট পাই না।
আমার ইনভিসিবল ফ্লেক্স হলো— এত কিছুর পরও আমি তার ক্ষতি কামনা করিনি। তার সুখ দেখে হিংসায় নিজেকে নষ্ট করিনি। প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজিনি। কারও সামনে তার সম্মান ছোট করার চেষ্টা করিনি।
যে মানুষ আমাকে পায়নি, তার জন্য আমার হৃদয়ে কষ্ট আছে,কিন্তু ঘৃণা নেই।
আজও যখন অতীতের কথা মনে পড়ে, বুকের ভেতর একটা শূন্যতা অনুভব করি। তবুও আমি জানি, মানুষের চরিত্র সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় সে কষ্ট পাওয়ার পরে কী করে, সেটাতে।
সে তার জীবন নিয়ে এগিয়ে গেছে। আমিও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
আমার অদৃশ্য অহংকার, আমার ইনভিসিবল ফ্লেক্স আমি ভেঙেছি, কিন্তু কাউকে ভাঙিনি। আমি কেঁদেছি,কিন্তু কারও চোখের পানি হওয়ার কারণ হইনি। আমি হারিয়েছি,কিন্তু নিজের মানবিকতা হারাইনি।
সবাই নিজের সুখ দেখাতে পারে। কিন্তু হৃদয়ভাঙা মানুষ হয়েও কাউকে অভিশাপ না দিয়ে নিজের কাছে সৎ থাকতে পারাই হয়তো সবচেয়ে নীরব, সবচেয়ে অদৃশ্য, সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্লেক্স।