03/05/2026
লালবাগ কেল্লা
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পুরান শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন । এর নামটি এর পার্শ্ববর্তী এলাকা লালবাগ থেকে এসেছে, যার অর্থ লাল বাগান। লালবাগ শব্দটি মুঘল স্থাপত্যে লালচে এবং গোলাপী আভাকে বোঝায় । মূল কেল্লার নাম ছিল ঔরঙ্গাবাদ কেল্লা । এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন যুবরাজ মুহাম্মদ আজম শাহ , সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র। পরবর্তিতে মুঘল বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান দুর্গটির নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধান করেন । শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পরে পরী বিবিকে দুর্গের ভিতরে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
দুর্গটি তিনটি ভবনের (মসজিদ, বিবি পরীর সমাধি ও দিওয়ান-ই-আম) সমন্বয়ে গঠিত, যার সাথে দুটি প্রবেশদ্বার এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গপ্রাচীরের একটি অংশ ছিল।
দক্ষিণ দিকের দুর্গ প্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি বিশাল বুরুজ রয়েছে। দক্ষিণ দুর্গ প্রাচীরের উত্তরে ছিল ব্যবহারিক ভবন, আস্তাবল, প্রশাসনিক ব্লক, এবং এর পশ্চিম অংশে ঝর্ণা ও জলাধারের ব্যবস্থা সহ একটি সুন্দর ছাদ-বাগান ছিল। আবাসিক অংশটি পশ্চিম দুর্গ প্রাচীরের পূর্বে, প্রধানত মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছিল।
দক্ষিণ দিকের দুর্গ প্রাচীরে নিয়মিত ব্যবধানে দুই তলা উচ্চতার পাঁচটি বুরুজ ছিল এবং পশ্চিম প্রাচীরে দুটি বুরুজ ছিল; সবচেয়ে বড়টি প্রধান দক্ষিণ ফটকের কাছে অবস্থিত। বুরুজগুলোতে একটি সুড়ঙ্গ ছিল।
দুর্গের কেন্দ্রীয় এলাকাটি তিনটি ভবন দ্বারা দখল করা আছে—পূর্বে দিওয়ান-ই-আম এবং হাম্মাম , পশ্চিমে মসজিদ এবং উভয়ের মাঝখানে পরি বিবির সমাধি—একই লাইনে, কিন্তু সমান দূরত্বে নয়। নিয়মিত ব্যবধানে ঝর্ণাসহ একটি জলপথ তিনটি ভবনকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে সংযুক্ত করে।
লালবাগের কেল্লা বাংলাদেশের একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপন। এর স্থাপত্যশৈলী,বাগান ও পরিবেশ দেখলে মুঘল আমলের শিল্প সংস্কৃতি ও আর্কিটেকচারের সুস্পষ্ট ধারণা করা যায়। এটি শুধু মাত্র একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র নয় মুঘল আর্কিটেকচারের এর জীবন্ত নিদর্শন।