Arch.heritage ltd.

Arch.heritage ltd. ARCH. HERITAGE LTD. PROVIDES CONSULTANCY SERVICES FOR PLANNING, BUILDING DESIGN AND INTERIOR DESIGN----

09/08/2026

# সমস্যা এবং সমাধান :

সমস্যা ০১) - রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছেন। রাস্তার কিনারে পানি জমে আছে। হঠাৎ একটা গাড়ি কিংবা মটর সাইকেল আসলো এবং স্পীড বাড়িয়ে ঠিক যেখানে পানি আছে, সেখান দিয়ে ময়লা পানি আপনার গায়ে ছিটিয়ে চলে গেল। মটর সাইকেল ওয়ালা আবার ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁত কেলিয়ে আপনার গা জ্বালা করা একটা হাসি দিয়ে গেল।

সমস্যা ০২) - রাস্তা পার হচ্ছেন। একটা মটর সাইকেল কিংবা একটা ব্যাটারি রিক্সা আসছে। বেশ খানিকটা দূরে আপনি সচ্ছন্দে পার হতে পারবেন। তারপরও হাত তুলে পার হচ্ছেন। ইশারা করছেন যেন আপনার পিছন দিয়ে যায়। আপনি নিশ্চিত থাকেন ব্যাটারী রিক্সা যা তার সর্বোচ্চ গতিতে চলছিল তা সেইভাবেই চলতে থাকবে তাতে যদি আপনার গায়ের উপর উঠে যায় তাতেও কোন পরোয়া নাই। কারন যে গতিতে সে চলছে সেই গতিতে তারপক্ষে এদিক ওদিক কিংবা ব্রেক কষা সম্ভব না। দূর থেকে ব্রেক করলে হয়তো হতো কিন্তু সে এব্যপারে কোন পরোয়াই করেনা। আর মটর সাইকেল চালক দের তো কাজই হচ্ছে আপনাকে বিব্রত করা। খেয়াল করবেন মটর সাইকেল যে গতিতে এবং যে ডিরেকশনে চলছিল তাতে এদিকে ওদিকে না করে অনায়াসে সে আপনার পিছন দিয়ে চলে যেতে পারতো। কিন্তু মটরসাইকেল চালক বলে কথা। আপনাকে হাত তুলতে দেখলেই সে গতি বাড়িয়ে দিয়ে দিক পরিবর্তন করে আপনার সামনে দিয়ে যাবে। এর ফলে মাঝ রাস্তায় আপনি যে বিপদে পরতে পারেন সেদিকে সে ভ্রুক্ষেপ করবেনা। কারন পথচারী কে বিপদগ্রস্হ করে তারা এক ধরনের মজা পায়।

সমাধান :
০১) হাতে একটা আধলা ( ইঁটের অর্ধেকটা ) নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ান। দেখবেন গাড়ি আস্তে আস্তে ভদ্রভাবে পানির উপর দিয়ে চলছে। মটরসাইকেল পানির ধারে কাছেও আসছে না।

02) একই ভাবে আধলা হাতে যানবাহনের দিকে বিশেষ করে মটরসাইকেল এবং ব্যাটারি রিক্সার দিকে তাকাতে তাকাতে রাস্তা পার হোন। দেখবেন মটরসাইকেল মোটেও আপনার সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। আর ব্যাটরী রিক্সা প্রানপনে ব্রেক কষার চেষ্টা করছে। আপনি নিরাপদে রাস্তা পাড় হয়ে যাবেন।

বিঃ দঃ আসলে উপরে বর্নিত সমস্যাগুলো আছে। তবে সমাধান আমার কল্পনা প্রসুত। বাস্তবে আমরা কেউ সেটা করবো না। আমাদের বিবেক আমাদের বাধা দিবে। তবে এটা ঠিক ব্যাটারি রিক্সার মত এরকম একটা যান সাথে অদক্ষ চালক রাস্তা দিয়ে কেন চলতে দেয়া হচ্ছে? এটি হচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ প্রশাসনের অব্যবস্হাপনার একটি বাস্তব উদাহরন। আর মটরসাইকেলের কথা আর কিই বা বলবো। ছোট বড় যেই চালাক বেপরোয়া এবং বেয়াদব হবেই। রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে বেপোরোয়া চলাচল এবং উল্টো পথে চলাচল এদর বৈশিষ্ট্য। এরা ফুটপাত দিয়ে হর্ন বাজিয়ে চলাচল করে। আমি এরকমও দেখেছি স্কুল থেকে বাচ্চাকে পিছে বসিয়ে ফুটপাত দিয়ে চলছে। ভাবুন বাচ্চাকে ট্রেনিং দিচ্ছে কিভাবে আইন অমান্য করতে হয়। আবার এমনও দেখেছি বিবি বাচ্চাকে পিছে বসিয়ে চলছে। তার নিজের মাথায় হেলমেট থাকলেও বিবি এবং বাচ্চার মাথায় নাই। এরকম ভাবে আমি উল্টো দিকেও চলতে দেখেছি। ভাবটা এমন বিবি বাচ্চা মরলে মরুক। তার যেন কিছু না হয়। কথা প্রসঙ্গে বলে রাখি রাস্তায় সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনা ঘটে মটরসাইকেলের। এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দোষটা মটরসাইকেলেরই থাকে।

সুতরাং ব্যাটারি রিক্সার মত বাহনকে নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরী। মটরসাইকেল চালকরা আইন অমান্য করলে তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্হা করতে হবে। কিন্তু এটাও ঠিক, দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত মাথাভারি এই প্রশাসনের কাছে এটা আশা করা কতটা বাস্তবসম্মত।

 # দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি সংস্থাপ্রসঙ্গ: ধানমন্ডি লেক এবং দুটি বৃক্ষের মৃত্যুগত ৯ই জুলাই যে বৃষ্টিপাত হলো, তাতে...
07/08/2026

# দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সরকারি সংস্থা

প্রসঙ্গ: ধানমন্ডি লেক এবং দুটি বৃক্ষের মৃত্যু

গত ৯ই জুলাই যে বৃষ্টিপাত হলো, তাতে ঢাকার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। যদিও ধীরে ধীরে সেই পানি নেমে যায়। অতিবৃষ্টির ফলে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া একটি পুরোনো সমস্যা। এর স্থায়ী সমাধান অবশ্যই প্রয়োজন, তবে আজ আমি সেই সমস্যা নিয়ে লিখছি না।

রোববার বিকেলে বৃষ্টি থেমে গেলে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হলাম। যথারীতি ধানমন্ডি লেকে, যেখানে আমি ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত হাঁটছি। সেখানে পৌঁছে রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম। তাকওয়া মসজিদ প্রান্ত থেকে ৮ নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত পুরো হাঁটার পথ পানিতে তলিয়ে গেছে।

এত বছর ধরে এখানে হাঁটছি। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। এর আগে কয়েকবার লেকের পানি উপচে উঠলেও তা শুধু নিচু অংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত। হাঁটার পথের দুটি অংশের মধ্যে নিচু অংশ কিছু সময়ের জন্য ডুবে গেলেও উঁচু অংশ শুকনো থাকত এবং মানুষ সেখান দিয়েই চলাচল করত। এবার সেই উঁচু অংশও পানির নিচে চলে গেছে।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায়, অনেক আগে লেকের পানি কখনও পাড় অতিক্রম করত না। তখন মানুষের আনাগোনাও তুলনামূলক কম ছিল, ফলে লেকটি অনেক বেশি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ছিল।

এই লেকেরও একটি ইতিহাস আছে। একসময় এটি 'পান্ডো' নদী নামে পরিচিত ছিল, যা কাওরান বাজার নদীর একটি পরিত্যক্ত শাখা বা খাল ছিল তা তুরাগ নদীর সাথে যুক্ত ছিল । কালক্রমে সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—সম্ভবত অপরিকল্পিত নগরায়ণের এক দুর্ভাগ্যজনক পরিণতিতে। বর্তমানে এটি একটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, যা ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক থেকে ২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত।
গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত এটি একটি প্রাকৃতিক খাল ছিল। পরবর্তীতে দুই পাড়জুড়ে আবাসিক ভবন নির্মিত হওয়ায় লেকের কিছু অংশ দখল হয়ে যায়। পাশাপাশি আশপাশের ভবনের বর্জ্য ও ময়লা পানিও লেকে পড়তে থাকে। ফলে লেকের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে লেক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান একটি প্রতিবেদন সিটি কর্পোরেশনে জমা দেয়, যেখানে অন্যান্য সুপারিশের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কথাও উল্লেখ ছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে ধানমন্ডি লেকসহ নগরের জলাশয়গুলোর উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এর পরের সরকার লেক উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেও, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনভিজ্ঞ কিছু প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমার মতে, সেখান থেকেই ধানমন্ডি লেকের অবক্ষয়ের সূচনা।

লেক উন্নয়নের নামে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রেস্টুরেন্ট ও নানা বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করে এটিকে ধীরে ধীরে একটি বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়। ফলে মানুষের ব্যাপক সমাগম শুরু হয়। সেই সঙ্গে প্রভাবশালীদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায় অসংখ্য অস্থায়ী খাবারের দোকান গড়ে ওঠে। বাড়তে থাকে ময়লা-আবর্জনা, যার বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত লেকেই গিয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মাছ চাষের জন্য লেক ইজারা দেওয়ার ফলে কিছু ব্যক্তি বা কর্মকর্তার আর্থিক সুবিধা হলেও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে লেকটি একটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হতে থাকে। দুর্গন্ধ বাড়ে, পাখির সংখ্যা কমে যায়।

নিয়মিত সংস্কার, খনন এবং পাড় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় লেকের পাড় ভাঙে এবং তলদেশ ভরাট হতে থাকে।
মানুষের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের বর্জ্যও এই ভরাট প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। একই সঙ্গে লেকের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় সামান্য বেশি বৃষ্টিতেই পানি উপচে দুই পাড় প্লাবিত হয়, যা পাড়ের বড় বড় বৃক্ষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
গত কয়েক বছর ধরেই এ সমস্যা বাড়ছিল। কিন্তু এবার তা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পানি লেকের পাড়ে জমে থাকায় কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং দুটি বৃক্ষের মৃত্যু হয়। এটি হয়তো অনুমিত ছিল, কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এভাবে চলতে থাকলে একসময় ধানমন্ডি লেকের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। ধীরে ধীরে বৃক্ষরাজি হারিয়ে যাবে, লেক ভরাট হবে, আর একসময় এখানে যে একটি ঐতিহাসিক লেক ছিল, সেটিও আমাদের হারিয়ে যাওয়া খাল-নদীগুলোর মতো শুধু ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে।

আজ দুটি বৃক্ষের মৃত্যু শুধু দুটি গাছ হারানোর ঘটনা নয়; এটি ধানমন্ডি লেকের ক্রমাবনতিশীল অবস্থার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে হয়তো হারাতে হবে পুরো লেককেই।

এই লেককে বাঁচাতে হবে। আর বাঁচাতে হলে প্রয়োজন একটি বৈজ্ঞানিক, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বচ্ছ সংস্কার পরিকল্পনা। লোক দেখানো বা পকেট ভারি করার প্রকল্প নয়; দেশি-বিদেশি যোগ্য ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এর পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, ধানমন্ডি লেকসহ রাজধানীর সব জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

লেক বাঁচান, পরিবেশ বাঁচান।
পরিবেশ বাঁচাতে হলে লেক বাঁচাতে হবে, আর লেক বাঁচাতে পারলেই বাঁচবে আমাদের শহর।

28/07/2026

# অপরাধ বনাম শিক্ষিত সমাজ :

প্রতিদিনের মতো আজও যথারীতি ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাঁটার পর একটু বিশ্রামের জন্য বসেছিলাম। কিছু দূরে আরও দুজন বসে গল্প করছিলেন। তাঁদের কথার কিছু অংশ কানে আসছিল।

হঠাৎ একজন আরেকজনকে বললেন, “চানাচুর খাবি?” ঘুরে দেখি, একজন চানাচুর বিক্রেতা তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে। দ্বিতীয়জন বললেন, “না রে ভাই, খাব না। চানাচুর খেলেই গ্যাস হয়।”

প্রথমজন হেসে বললেন, “আরে, আমরা তো পেশাদার মানুষ। কত গ্যাস ঢোকে, আবার বেরিয়েও যায়!”

কথা শুনে বুঝলাম, দুজনই গাড়িচালক।
প্রথমজন বলতে লাগলেন, “আমরা বড়লোকের গাড়ি চালাই। ওরা আগে নিজেরা খায়, তারপর আমাদের খেতে ডাকে। কোনো অনুষ্ঠান থাকলে অবশ্য কিছু ভালো খাবারও জোটে। বিশ্বাস করবি, আমি যার গাড়ি চালাই, তার বাসা মসজিদের একেবারে কাছেই। এতটুকু পথেও তিনি গাড়িতে যান। তিনি নামাজ পড়েন, আর আমি বাইরে গাড়িতে বসে অপেক্ষা করি—নামাজ শেষে তাঁকে আবার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য।”
দ্বিতীয়জন বললেন, “কি আর করবি? ওরা বড়লোক মানুষ। যা করবে, সেটাই ঠিক। আমরা তো ওদের চাকরি করি। যা বলবে, তাই করতে হবে।”

প্রথমজন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ঠিক বলেছিস। ওরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। কত অন্যায় করে, তবু কিছুই হয় না। কারণ ওরা শিক্ষিত মানুষ। সব করেও পার পেয়ে যায়। আসলে এই শিক্ষিত লোকগুলোর মধ্যেই বেশি খারাপ মানুষ আছে।”

কথাটা আমার কানে খটকা লাগল। সত্যিই কি তাই? শিক্ষিত মানুষই কি বেশি খারাপ? অশিক্ষিত মানুষ কি খারাপ হয় না?

প্রশ্নটি মাথায় ঘুরতে থাকল। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে দেখলাম, কথাটার মধ্যে কিছু বাস্তবতা আছে।

রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বড় ব্যবসায়ী—সমাজের প্রভাবশালী ও শিক্ষিত অংশের অনেকেই নানা ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট কিংবা অর্থ পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে প্রায়ই শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান মানুষের নাম উঠে আসে।
অন্যদিকে, অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যেও অপরাধী আছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা বিভিন্ন অবৈধ কাজে তাদের কেউ কেউ জড়িত থাকে। তবে এসব অপরাধ সাধারণত ব্যক্তি পর্যায়ের এবং তুলনামূলকভাবে সীমিত ক্ষতির।
অন্যদিকে, বড় ধরনের দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট, অর্থ পাচার কিংবা সংগঠিত অপরাধের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব সাধারণত শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের হাতেই থাকে। অনেক সময় তারাই নিজেদের স্বার্থে ছোট অপরাধীদের ব্যবহার করে বড় অপরাধ সম্পন্ন করে।
তাহলে কি আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, শিক্ষিত মানুষ যখন অপরাধ করে, তখন সে জেনে-শুনে, সচেতনভাবেই করে? দেশের ক্ষতি হবে—এটা জেনেও করে। পক্ষান্তরে, অশিক্ষিত মানুষের অপরাধের পেছনে অনেক সময় দারিদ্র্য, বেঁচে থাকার সংগ্রাম, লোভ কিংবা অন্যের প্ররোচনায় অপরাধ সংঘটিত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিজেরা পরিকল্পনাকারী নয়; বরং অন্যের হাতে ব্যবহৃত হয়। দেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সম্পর্কে তাদের সচেতন ধারণাও অনেক সময় থাকে না।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন—শিক্ষিত হলেই কেউ খারাপ মানুষ হয়ে যায় না। বরং সমাজের অসংখ্য শিক্ষিত মানুষ সততা, ন্যায়নীতি ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।

কিন্তু যখন কোনো শিক্ষিত মানুষ ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দেশের ক্ষতি হয়—এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার অপরাধের দায় আরও বড় হয়ে যায়। কারণ সে জানে সে কী করছে, কেন করছে এবং এর পরিণতি কী হতে পারে। অন্যদিকে, অনেক অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত মানুষ দারিদ্র্য, লোভ, অজ্ঞতা কিংবা অন্যের প্ররোচনায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা পরিকল্পনাকারী নয়, বরং ব্যবহৃত হয়।
তাই সব শিক্ষিত মানুষ খারাপ—এ কথা যেমন সত্য নয়, তেমনি সব অশিক্ষিত মানুষও নির্দোষ—এ কথাও সঠিক নয়। তবে বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, বড় ধরনের দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সংগঠিত অপরাধের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান মানুষের উপস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়। আর এ কারণেই তাদের অপরাধের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতি অনেক বেশি এবং তাদের নৈতিক দায়ও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়।

সবশেষে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—সমস্যাটা কি শুধু শিক্ষার, নাকি নৈতিকতারও? ডিগ্রি অর্জন করলেই কি একজন মানুষ সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত হয়ে যায়, নাকি প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সৎ, বিবেকবান ও দায়িত্বশীল করে তোলে?

কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু শিক্ষিত মানুষের ওপর নয়, নৈতিক মানুষদের ওপরও নির্ভর করে।

আপনার কী মনে হয়?

13/07/2026
11/07/2026

# The Tree

প্রকৃতি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু আমরা সব সময় তাকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি। আমাদের চারপাশের অসংখ্য গাছ নীরবে ছায়া দিয়েছে, অক্সিজেন দিয়েছে, পাখিদের আশ্রয় দিয়েছে, অথচ তাদের পরিচয়, ইতিহাস ও গুরুত্ব আমরা ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছি।

'The Tree' সেই ভুলে যাওয়া গল্পগুলোকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার একটি ছোট্ট প্রয়াস। এই ধারাবাহিকে প্রতিটি পর্বে থাকবে একটি গাছের ছবি, তার পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, পরিবেশে অবদান এবং কেন তাকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন—তার সংক্ষিপ্ত গল্প।
হয়তো আজকের এই লেখাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু কিছু তথ্য নয়, বরং প্রকৃতিকে ভালোবাসার একটি ছোট্ট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আজকের গাছ : ঘকড়ই গাছ

নিচের ছবিটির গাছটির নাম কড়ই গাছ। এটি শুধু একটি গাছ নয়, আমাদের নগর-ঐতিহ্যেরও একটি নীরব সাক্ষী। বিশাল আকৃতির এই বৃক্ষ বহু বছর বেঁচে থাকে, ছায়া দেয়, প্রাণ দেয়, আর প্রকৃতিকে করে তোলে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য।
একসময় ঢাকা শহরের নানা প্রান্তে অসংখ্য কড়ই গাছ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নের নামে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবির গাছটি ধানমন্ডি লেকের। এখানেও এখনও কিছু কড়ই গাছ টিকে আছে। এছাড়া বুয়েটের স্থাপত্য ভবনের পেছনে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস. এম. হলের সামনের রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল কড়ই গাছগুলো যেন অতীত ঢাকার জীবন্ত স্মৃতি।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ যে কড়ই গাছগুলো আমরা দেখি, সেগুলোর অধিকাংশই বহু বছরের পুরোনো। নতুন করে এই গাছ খুব একটা লাগানো হচ্ছে না বলেই মনে হয়। তাই ছোট বা নবীন কড়ই গাছ এখন প্রায় চোখেই পড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এই মহীরুহগুলো শুধু ছবিতেই রয়ে যাবে।
কড়ই গাছের কাঠ অত্যন্ত মজবুত। চৌকাঠ, দরজা-জানালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় মূল্য কাঠে নয়, জীবন্ত অবস্থায়। একটি পূর্ণবয়স্ক কড়ই গাছ হাজারো মানুষের জন্য ছায়া, পাখিদের আশ্রয়, নির্মল বাতাসের উৎস এবং নগরের উত্তাপ কমানোর এক নীরব যোদ্ধা।
আমার বিশ্বাস, মহাসড়কের দুই পাশ, শহরের প্রধান সড়ক, পার্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং লেকের আশপাশে পরিকল্পিতভাবে কড়ই গাছ লাগানো উচিত। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন এনজিও এবং আমাদের প্রত্যেকের সম্মিলিত উদ্যোগেই এটি সম্ভব।
আমরা উন্নয়নের কথা বলি, কিন্তু প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন কংক্রিটের পাশাপাশি সবুজও জায়গা পাবে। কারণ, একটি বড় গাছ তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগে, অথচ সেটি ধ্বংস করতে লাগে মাত্র কয়েক মিনিট।
আজ যে কড়ই গাছের ছায়ায় আমরা স্বস্তি পাই, সেটি কোনো এক দূরদর্শী মানুষের বহু বছর আগে লাগানো একটি ছোট্ট চারা। সেই মানুষটির নাম আমরা জানি না, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া উপহার আজও আমাদের জীবনকে শীতল করে রাখে। আগামী প্রজন্মও যেন এমন ছায়া পায়, সেই দায়িত্ব আজ আমাদের।

গাছ কেটে সভ্যতা গড়া যায়, কিন্তু গাছ ছাড়া সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা যায় না।
গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান।

"আজকের একটি চারা, আগামী প্রজন্মের একটি মহীরুহ।"
— The Tree

26/06/2026

# দুর্নীতি, অব্যস্হাপনা এবং সরকারি সংস্হা:

ময়লা মানব। ময়লার মাঝেই যাদের দিন কাটে। এই ময়লার মাঝে থাকতে থাকতে ময়লার দুর্গন্ধ তাদের নাকে আর লাগে না।
খালি হাতে ময়লা ঘাটা তাদের কাছে স্বাভাবিক। এই ময়লা আবর্জনার মাধ্যমেই তাদের জীবন চলে। তাই ময়লা আবর্জনাই তাদের নিয়তি। এদের দুঃখ কেউ বুঝে না। সবচেয়ে অবহেলিত কর্মি এরা। সরকারি সংস্হা, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন আছে যাদের দায়িত্ব এর ব্যবস্হাপনা দেখা। কিন্তুু দুর্নীতি ছাড়া এরা অন্যকিছুই বুঝে বলে মনে হয় না। আমাদের চাওয়া এদের দিকে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যেন একটু সদয় দৃষ্টি দেয়।

নগর বনাম নাগরিক :দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বনাম সরকারি সংস্থা :নিচে একটি বিল্ডিংয়ের ছবি দেওয়া হলো, যেখানে একটি ভবন ভাঙা হচ্...
19/06/2026

নগর বনাম নাগরিক :

দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বনাম সরকারি সংস্থা :

নিচে একটি বিল্ডিংয়ের ছবি দেওয়া হলো, যেখানে একটি ভবন ভাঙা হচ্ছে। বিল্ডিংটি ধানমন্ডি ২৮ নম্বর সড়ক এবং মিরপুর সড়কের কর্নারে অবস্থিত। তবে যে বিল্ডিংটির উল্লেখ করা হলো, সেটা শুধু এই ভবন ভাঙার বিষয় নয়; এটিকে কেবল একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো মূলত সব ভবন ভাঙার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তবে বিল্ডিং কী পদ্ধতিতে ভাঙা হবে, বিল্ডিং ভাঙার জন্য কোনো নিয়ম-কানুন আছে কি না—এ বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য আছে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১ম বিষয় :
নিচের বিল্ডিংটি লক্ষ্য করুন। এই বিল্ডিংটির বয়স সম্ভবত ৪০/৪৫ বছর হবে। বিল্ডিংটি তৈরির সময় সরকারি প্লটে ছয় তলার বেশি উঁচু করা যেত না। এই অদ্ভুত নিয়মের কারণেই হয়তো বিল্ডিংটিকে এত কম বয়সেই ভাঙার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কারণ এখন আবার নতুন নিয়ম হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই নতুন নিয়মটিও এতটা পরিপক্ব বলে মনে হয় না যে ভবিষ্যতে এটিকে আবার পরিবর্তন করতে হবে না। ফলে সময়ের আগেই হয়তো নতুন করে নির্মিত ভবনও ভাঙার প্রয়োজন হতে পারে।
এজন্য যখনই কোনো নিয়ম করা হয়, তখন তা ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে করা উচিত।

২য় বিষয় :
লক্ষ্য করুন, বিল্ডিং ভাঙার ক্ষেত্রে নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে? রাস্তা ও পথচারীদের নিরাপত্তা কি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?

এ বিষয়ে সরকারি সংস্থা, যেমন রাজউক এবং সিটি করপোরেশনের নিশ্চয়ই কিছু নিয়ম-কানুন আছে। বিশেষ করে এমন সংবেদনশীল জায়গায়, যেখানে পথচারী ও যানবাহনের সার্বক্ষণিক চলাচল রয়েছে, সেখানে ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বিল্ডিং ভাঙার ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম-কানুন আছে, সে বিষয়ে গুগল থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো :

বিল্ডিং ভাঙতে হলে যা করতে হবে :

"শহরের মধ্যে উঁচু ভবন (বহুতল বিল্ডিং) ভাঙা একটি জটিল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এটি কোনো সাধারণ কাজ নয়; বরং প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করতে হয়।
শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে মূল নিয়মগুলো হলো :
১. আইনি অনুমতি ও ছাড়পত্র গ্রহণ।
২. রাজউক বা সিটি করপোরেশন থেকে পূর্বানুমোদন নেওয়া।
৩. স্ট্রাকচারাল অ্যানালাইসিস করে নিরাপদ ভাঙার পদ্ধতি নির্ধারণ।
৪. পুরো এলাকা শক্ত বেষ্টনী বা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা।
৫. ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো।
৬. শ্রমিকদের জন্য হেলমেট, সেফটি বেল্ট, গ্লাভস, মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করা।
৭. উপর থেকে নিচের দিকে ধাপে ধাপে ভবন ভাঙা।
৮. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা।
৯. ভাঙা বর্জ্য দ্রুত ও নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করা।"

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিল্ডিং ভাঙার ক্ষেত্রে কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে?
যদি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে বর্ণিত শর্তগুলো কি যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে?
অনাপত্তিপত্র নেওয়া হলেও তা বাস্তবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি কি নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে?
নাকি এখানেও সবকিছু "ম্যানেজ" হয়ে যাচ্ছে?
এখানে "ম্যানেজ" বলতে ঘুষ, দুর্নীতি বা প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের সংস্কৃতিকেই বোঝানো হচ্ছে।

সবশেষে :
সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ, শুধু DAP জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত না থেকে এদিকেও একটু মনোযোগ দিন। কারণ এটি সরাসরি নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়।

বিল্ডিংটি খেয়াল করলে দেখা যায় তার স্ট্রাকচারাল কাঠামো সঠিক ছিল কিনা এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। নিরাপত্তা এবং ভাঙার পদ্ধতিও যথাযথ হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। বিশেষ করে উঁচু ভবনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

শুধু নিয়ম প্রণয়ন করা বা ড্রয়িং পাস করার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তবায়ন ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেদিকেও সমানভাবে নজর দিন।

আর দয়া করে "ম্যানেজ" হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। কারণ একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করাই অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও কার্যকর কাজ।

 # দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বনাম সরকারি সংস্থা:প্রসঙ্গ ধানমন্ডি লেকের অব্যবস্থাপনা :মাঝে মাঝে মনে হয়, এই লেকের দেখভালের জন...
17/06/2026

# দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বনাম সরকারি সংস্থা:

প্রসঙ্গ ধানমন্ডি লেকের অব্যবস্থাপনা :

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই লেকের দেখভালের জন্য আদৌ কেউ আছে কিনা!
এই লেকের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭৭ সালে। তখন এই লেকের পাড়ে বসে আমরা আড্ডা দিয়েছি। লেকে কিছু দূষণ ছিল, তবে এখনকার মতো ভয়াবহ ছিল না। তখন প্রচুর গাছ তো ছিলই, সঙ্গে আসত অসংখ্য পাখি—বক, মাছরাঙা এবং আরও নানা প্রজাতির পাখি। বক ও মাছরাঙারা লেকে মাছ শিকার করত। মাছরাঙার মাছ ধরা ছিল সত্যিই দেখার মতো দৃশ্য। উড়তে উড়তে হঠাৎ পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মাছ তুলে আনত।
রাতে অনেকেই মাচা বেঁধে বড়শি দিয়ে মাছ ধরত। এখনকার মতো লেক লিজ দেওয়া হতো না; এটি ছিল উন্মুক্ত। গরমের দিনে পথচারীরা গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিত।
যাহোক, এখনকার কথায় আসি। লেকের ব্যবহার ও দখল প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রথম এই লেকের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পতনের কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সরকারও এ বিষয়ে তেমন সক্রিয় ছিল না। এরপর যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা প্রকল্পটি নিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে কিছু অনভিজ্ঞ তরুণ স্থপতি, যাদের লেক উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না, কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই এই কাজের দায়িত্ব পেয়ে যায়।

ফলস্বরূপ, ধানমন্ডি লেক একটি শান্ত, নিরিবিলি পার্ক হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্কের রূপ নেয়। অথচ ঢাকার প্রতিটি লেকই এই শহরের এক একটি ফুসফুস। তাই এগুলোকে নিরিবিলি, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আগে এখানে কোনো খাবারের দোকান ছিল না। ফলে মানুষের ভিড়ও তুলনামূলক কম ছিল এবং দূষণও কম হতো। কিন্তু লেক উন্নয়নের নামে এখানে তিনটি রেস্টুরেন্ট স্থাপন করা হলো। পাশাপাশি অ্যাম্ফিথিয়েটার ঘিরে তৈরি হলো অসংখ্য ছোট ছোট খাবারের দোকান। লেকের মধ্যে অ্যাম্ফিথিয়েটার কেন এপ্রশ্ন করাই যায়। কারন একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে এটার প্রয়োজনীয়তা কি?

ধানমন্ডি লেক সম্পর্কে আমার মনে এক ধরনের গভীর আবেগ কাজ করে। তাই এটি নিয়ে আমি প্রায়ই ভাবি এবং এর উন্নয়নের জন্য কী করা উচিত, তা নিয়ে নানা পরিকল্পনা করি। কিন্তু সেটা আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এই লেক সম্পর্কে আমার অনেক ক্ষোভ ও আপত্তি রয়েছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অনেক প্রশ্ন তোলা যায়। এটি কী, আর কী হতে পারত—সেটা নিয়ে সংশ্নিষ্ট সবারই ভাবা উচিত।

এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রয়েছে। আজ একটি ছোট্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, যদিও বাস্তবে এটি একটি বড় সমস্যা। তা হলো খাবারের দোকান এবং তাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন।
এই দোকানগুলো ধীরে ধীরে লেকের জায়গা দখল করে নিজেদের আয়তন বাড়িয়ে চলেছে। নিচের ছবিগুলোতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এছাড়া পুরো লেকপাড়জুড়ে অসংখ্য ছোট ছোট খাবারের ঠেলা ও অস্থায়ী দোকান রয়েছে। অনেক সময় হাঁটার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাটুকুও পাওয়া যায় না।

একদিকে লেকের দূষণের দুর্গন্ধ, অন্যদিকে খাবারের দোকান ও মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ে। সারা শহরের মানুষ যেন হুমরি খেয়ে পড়ছে খাওয়ার জন্য। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। এসব খেলায় অংশগ্রহণকারী অনেকের বেপরোয়া আচরণের কারণে বিকেলে একটু নির্ভয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে যায়। অথচ ধানমন্ডিতে চারটি খেলার মাঠ রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই বিভিন্ন ক্লাবের দখলে রয়েছে। এগুলো আগে মোটামুটি উন্মুক্ত ছিল। ক্লাবের দখল থেকে উদ্ধার করে এগুলো বাচ্চাদের খেলার জন্য দেয়া উচিৎ, তবে খেয়াল রাখতে হবে লেকের মত সেগুলো ও যেন নেশাখোরদের আখরাই পরিনত না হয়।

আগে এখানে হকারদের খাবার বিক্রি করতে দেখিনি। ফলে মানুষের ভিড়ও কম ছিল। আমরা স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারতাম, বুক ভরে শ্বাস নিতে পারতাম। অবশ্য বাদামওয়ালারা ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করত, কিন্তু সেটি কখনোই পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেনি। কিংবা হাঁটায় বাধা সৃষ্টি করেনি।

যাহোক, এবার লেক দখলের প্রসঙ্গে আসি।
নিচের ছবিগুলো লক্ষ্য করুন। কীভাবে ধীরে ধীরে লেকের জমি দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পরিসর বৃদ্ধি করছে। এর পেছনে কারা রয়েছে, তা আমি জানি না। তবে এই লেকের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। সুতরাং দায়দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়।
কোন নিয়মকানুন অনুসরণ করে বা না করে এই স্থাপনাগুলো গড়ে উঠছে, তা জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। লেকের জায়গা ঘিরে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, তার জবাব সিটি করপোরেশনকে দিতে হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—লেক কেন লিজ দেওয়া হচ্ছে? কাদের দেওয়া হচ্ছে? কোন প্রক্রিয়ায় দেওয়া হচ্ছে? এসব তথ্যও নাগরিকদের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত।

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত এই ব্যবস্থাপনার হাতে ঢাকার ফুসফুসসম লেকগুলোর দায়িত্ব আদৌ থাকা উচিত কিনা, সে প্রশ্নও আজ প্রাসঙ্গিক।
প্রশ্ন অনেক, কিন্তু জবাব নেই।

পরিশেষে শুধু এটুকুই বলতে চাই—লেক উন্নয়ন বা নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাওয়া উচিত লেকের নিজস্ব পরিবেশ, সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছে রইল।

15/06/2026

# the tree

একটি গাছের আর্তনাদ

Address

Road No. 13
Dhaka
1209

Telephone

01819260704

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arch.heritage ltd. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Arch.heritage ltd.:

Shortcuts

Share